ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘টাকায় নয়, ডলারে নেন ঘুষ’, বিএডিসি প্রকৌশলী বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদন
  • প্রকাশঃ ০৯:২০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 2

বিএডিসির একটি প্রকল্পে টেন্ডার অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে ছবি:সংগৃহীত


তিনি বড় অংকের ঘুষ খান, তবে সেটা টাকায় নয় ডলারে! এভাবে অভিযোগকারীরা অভিযোগ করছিলেন বিএডিসির প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিএডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন বর্তমানে বিএডিসির একটি প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ১৫ মাস আগে তিনি এ দায়িত্বে যোগ দেন। এ সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার।

অভিযোগকারীরা বলেন, সম্প্রতি একটি দরপত্রে অংশগ্রহণকারী এক ঠিকাদার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলেও তাকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ওই ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্র ব্যবহারের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুযোগ থাকলেও তা না করে তাকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর পেছনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে অপ্রয়োজনীয় ও প্রশ্নবিদ্ধ নথির ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে ঠিকাদার মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন বিভিন্ন সময় বলে থাকেন যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় ‘ম্যানেজ’ করতে হয় এবং সে জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিল অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদনের জন্য তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

‘টাকায় নয়, ডলারে নেন ঘুষ’, বিএডিসি প্রকৌশলী বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশঃ ০৯:২০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বিএডিসির একটি প্রকল্পে টেন্ডার অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে ছবি:সংগৃহীত


তিনি বড় অংকের ঘুষ খান, তবে সেটা টাকায় নয় ডলারে! এভাবে অভিযোগকারীরা অভিযোগ করছিলেন বিএডিসির প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিএডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন বর্তমানে বিএডিসির একটি প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ১৫ মাস আগে তিনি এ দায়িত্বে যোগ দেন। এ সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার।

অভিযোগকারীরা বলেন, সম্প্রতি একটি দরপত্রে অংশগ্রহণকারী এক ঠিকাদার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলেও তাকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ওই ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্র ব্যবহারের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুযোগ থাকলেও তা না করে তাকে কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর পেছনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে অপ্রয়োজনীয় ও প্রশ্নবিদ্ধ নথির ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে ঠিকাদার মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন বিভিন্ন সময় বলে থাকেন যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয় ‘ম্যানেজ’ করতে হয় এবং সে জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিল অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদনের জন্য তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।