ইরান ইস্যুতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে জরুরি বৈঠক, দুই ঘণ্টার আলোচনাতেও মিলল না সিদ্ধান্ত
- প্রকাশঃ ০৪:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / 4
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: এএফপি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি না করার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ অবাধ রাখতে হবে এবং সেখানে স্থাপন করা সব সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করতে হবে।
ট্রাম্প আরও জানান, এসব শর্ত পূরণ হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি মাটির নিচে সংরক্ষিত ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও মন্তব্য করেন, যাতে তা অপসারণ ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়।
তবে ওয়াশিংটনের দাবির বিপরীতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মিশ্রণ রয়েছে। ইরানের দাবি, আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংসের মতো কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এই বৈঠকের এক দিন আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশের আলোচকেরা ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রস্তুত করেছেন। প্রস্তাবিত এই খসড়ার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়িয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আগ পর্যন্ত ট্রাম্প খসড়া চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। অন্যদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সিঙ্গাপুরে শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতিও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে বর্তমান সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়।
বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় এই সংকট আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।























