ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০ মার্কিন সামরিক স্থাপনা, দাবি বিবিসি ভেরিফাইয়ের
- প্রকাশঃ ০১:১৯:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 2
পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: বিবিসি থেকে স্ক্রিনশট
ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ভেরিফাই। স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং উন্মুক্ত উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এ তথ্য তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, ইরানি হামলার পরিধি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে যতটা স্বীকার করেছে, প্রকৃত অবস্থা তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান চালায়। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানের জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো। এতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, প্রকৃত সংখ্যা ২৮ পর্যন্ত হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদার এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা তিনটি থাড (THAAD) অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে বলে জানা যায়।
আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, এসব ব্যাটারি একটি অত্যন্ত জটিল আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় উপাদান, যা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন নজরদারি ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এমএআইএআরের এক বিশ্লেষক ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিমানকে ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
এ ছাড়া কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজানেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত জ্বালানি সংরক্ষণ বাংকার, বিমান হ্যাঙ্গার এবং সামরিক আবাসন শনাক্ত হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ৪২টি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মে মাসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে এফ-১৫, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এ-১০ আক্রমণ বিমান রয়েছে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংঘাত চলাকালে ইরান তাদের যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন এনেছে। শুরুতে ব্যাপক সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও পরে তারা নির্দিষ্ট ও উচ্চমূল্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অধিক নিখুঁত হামলার কৌশল গ্রহণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক কেলি গ্রিকো বলেন, সংঘাতের কারণে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য আর কোনো নিরাপদ অঞ্চল অবশিষ্ট নেই। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করে আসছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর যুদ্ধবিরতি থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে পরিস্থিতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।











