ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোজতবা খামেনিকে ঘিরে বিতর্ক, কট্টরপন্থী এমপির পোস্টে সমালোচনার ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১০:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • / 2

ইরানের কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য হামিদ রাসাঈর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা, পোস্টটিতে পরোক্ষভাবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থক মহলের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ‘নেতৃত্বের জন্য কে যোগ্য?’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন হামিদ রাসাঈ। সেখানে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা হুদের একটি আয়াত উল্লেখ করেন, যেখানে আল্লাহ নবী নুহ (আ.)-কে তাঁর অবাধ্য পুত্র সম্পর্কে বলেন যে, সে প্রকৃত অর্থে তাঁর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইরানি সংস্কৃতিতে ‘নুহের পুত্র’ উপমাটি সাধারণত এমন কাউকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যিনি ধার্মিক বা মর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। এই কারণেই পোস্টটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, রাসাঈ পরোক্ষভাবে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে ইরানের সংবাদমাধ্যম আসর-ই ইরান প্রশ্ন তুলেছে, নতুন নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও গুজবের মধ্যে এমন সময়ে ‘নুহের পুত্র’-এর উদাহরণ তুলে ধরার উদ্দেশ্য কী ছিল।

এদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক রুহুল্লাহ জোমেই দাবি করেছেন, পোস্টটি মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে দুর্বল করার একটি রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। একই সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ-হোসেইন চাভোশিও পোস্টটির ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

বিতর্ক আরও তীব্র হয় এই কারণে যে, পোস্টটি প্রকাশিত হয় একই দিনে, যেদিন মোজতবা খামেনি পার্লামেন্টে পাঠানো এক বার্তায় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। গালিবাফ বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে হামিদ রাসাঈ পরবর্তীতেও গালিবাফের সমালোচনা অব্যাহত রাখেন। সাম্প্রতিক এক পোস্টে তিনি পারমাণবিক কূটনীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক জীবনে হামিদ রাসাঈ একসময় কট্টরপন্থী পায়দারি ফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। পরে নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে দল ছাড়লেও তিনি এখনো আদর্শগতভাবে ওই ধারার রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

সমালোচনার মুখে রাসাঈ দাবি করেছেন, তিনি মূলত নিজের পুরোনো একটি লেখা পুনঃপ্রকাশ করেছিলেন এবং সেটি মোজতবা খামেনির বার্তার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তিনি মোজতবা খামেনিকে নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

মোজতবা খামেনিকে ঘিরে বিতর্ক, কট্টরপন্থী এমপির পোস্টে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশঃ ১০:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ইরানের কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য হামিদ রাসাঈর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা, পোস্টটিতে পরোক্ষভাবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থক মহলের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ‘নেতৃত্বের জন্য কে যোগ্য?’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রকাশ করেন হামিদ রাসাঈ। সেখানে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা হুদের একটি আয়াত উল্লেখ করেন, যেখানে আল্লাহ নবী নুহ (আ.)-কে তাঁর অবাধ্য পুত্র সম্পর্কে বলেন যে, সে প্রকৃত অর্থে তাঁর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইরানি সংস্কৃতিতে ‘নুহের পুত্র’ উপমাটি সাধারণত এমন কাউকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যিনি ধার্মিক বা মর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। এই কারণেই পোস্টটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, রাসাঈ পরোক্ষভাবে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে ইরানের সংবাদমাধ্যম আসর-ই ইরান প্রশ্ন তুলেছে, নতুন নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও গুজবের মধ্যে এমন সময়ে ‘নুহের পুত্র’-এর উদাহরণ তুলে ধরার উদ্দেশ্য কী ছিল।

এদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক রুহুল্লাহ জোমেই দাবি করেছেন, পোস্টটি মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে দুর্বল করার একটি রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। একই সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ-হোসেইন চাভোশিও পোস্টটির ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

বিতর্ক আরও তীব্র হয় এই কারণে যে, পোস্টটি প্রকাশিত হয় একই দিনে, যেদিন মোজতবা খামেনি পার্লামেন্টে পাঠানো এক বার্তায় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। গালিবাফ বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে হামিদ রাসাঈ পরবর্তীতেও গালিবাফের সমালোচনা অব্যাহত রাখেন। সাম্প্রতিক এক পোস্টে তিনি পারমাণবিক কূটনীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক জীবনে হামিদ রাসাঈ একসময় কট্টরপন্থী পায়দারি ফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। পরে নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে দল ছাড়লেও তিনি এখনো আদর্শগতভাবে ওই ধারার রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

সমালোচনার মুখে রাসাঈ দাবি করেছেন, তিনি মূলত নিজের পুরোনো একটি লেখা পুনঃপ্রকাশ করেছিলেন এবং সেটি মোজতবা খামেনির বার্তার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তিনি মোজতবা খামেনিকে নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।