ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে কৌশলগত তেল মজুত পরিকল্পনা পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৮:১৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / 5

ইরানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকটের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে আসার পর দেশটির সরকার এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন পেট্রোলিয়াম বিভাগ সম্প্রতি ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস’ শীর্ষক একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা দেশটিকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে দেশটির নিজস্ব কোনো কৌশলগত তেল মজুত ব্যবস্থা নেই। এই নির্ভরশীলতা কমাতে রাষ্ট্রীয় জরুরি মজুত, শিল্পখাতের বাধ্যতামূলক মজুত এবং বন্ডেড বাণিজ্যিক সংরক্ষণ সুবিধার সমন্বয়ে নতুন একটি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং চীনের সঙ্গে পাকিস্তানে বন্ডেড তেল টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য স্থানগুলোর মধ্যে গওয়াদর বন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে এসব টার্মিনালে সংরক্ষিত তেল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা যাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ৯০ দিনের মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে অন্তত ৯০ দিনের তেল মজুত রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বন্ডেড সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে জরুরি অবস্থায় তেল ব্যবহারের নীতিমালা, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া, মজুতসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ এবং সরবরাহ অগ্রাধিকার বিষয়ে সুস্পষ্ট কাঠামো প্রয়োজন। অন্যথায় এটি কৌশলগত মজুতের পরিবর্তে সাধারণ বাণিজ্যিক গুদামে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান পেট্রোলিয়াম লেভি থেকে প্রতি লিটারে ১০ পাকিস্তানি রুপি করে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়ও বিবেচনা করছে সরকার। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রাথমিকভাবে এক মাসের তেল মজুত গড়ে তুলতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এ ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, কৌশলগত তেল মজুতের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন

হরমুজ নির্ভরতা কমাতে কৌশলগত তেল মজুত পরিকল্পনা পাকিস্তানের

প্রকাশঃ ০৮:১৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ইরানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকটের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে আসার পর দেশটির সরকার এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন পেট্রোলিয়াম বিভাগ সম্প্রতি ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস’ শীর্ষক একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা দেশটিকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে দেশটির নিজস্ব কোনো কৌশলগত তেল মজুত ব্যবস্থা নেই। এই নির্ভরশীলতা কমাতে রাষ্ট্রীয় জরুরি মজুত, শিল্পখাতের বাধ্যতামূলক মজুত এবং বন্ডেড বাণিজ্যিক সংরক্ষণ সুবিধার সমন্বয়ে নতুন একটি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং চীনের সঙ্গে পাকিস্তানে বন্ডেড তেল টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য স্থানগুলোর মধ্যে গওয়াদর বন্দরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে এসব টার্মিনালে সংরক্ষিত তেল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা যাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ৯০ দিনের মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে অন্তত ৯০ দিনের তেল মজুত রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বন্ডেড সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে জরুরি অবস্থায় তেল ব্যবহারের নীতিমালা, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া, মজুতসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ এবং সরবরাহ অগ্রাধিকার বিষয়ে সুস্পষ্ট কাঠামো প্রয়োজন। অন্যথায় এটি কৌশলগত মজুতের পরিবর্তে সাধারণ বাণিজ্যিক গুদামে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান পেট্রোলিয়াম লেভি থেকে প্রতি লিটারে ১০ পাকিস্তানি রুপি করে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়ও বিবেচনা করছে সরকার। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রাথমিকভাবে এক মাসের তেল মজুত গড়ে তুলতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এ ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, কৌশলগত তেল মজুতের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।