পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেহরানই, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক বার্তা ইরানের
- প্রকাশঃ ০৮:১৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
- / 4
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়ে কখন এবং কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত তেহরান নিজেই নেবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটি।
সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কোনো রাষ্ট্র যদি তার ভূখণ্ড বা সামরিক স্থাপনা অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের দায়িত্ব লঙ্ঘনের শামিল। কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর প্রকাশের পর এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
বাঘাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একই ধরনের অবস্থান দেখা যায়নি। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দ্বৈত মানদণ্ডের প্রতিফলন।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কুয়েতে হামলার ঘটনাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে বিবৃতি দেয়।
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই জানান, বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কারিগরি বা বিস্তারিত আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিষয়ে কখন কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে ইরান অবগত। বর্তমানে দেশটির প্রধান লক্ষ্য চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে তা লঙ্ঘন করে চলেছে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইরান প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে রাডার এবং ড্রোন স্থাপনায় হামলার কথা স্বীকার করেছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানের ব্যাখ্যায় বলেছে, এগুলো আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্যের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং ইসরায়েলকে লেবাননে সামরিক অভিযান থেকে বিরত না রাখার মাধ্যমে চুক্তি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলছে।
গালিবাফের দাবি, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই পরিণতি রয়েছে এবং সময়মতো তার মূল্য দিতে হয়।











