ঢাকা ০৬:২৭ , Thu, ১৩ Aug ২০২৬

বিএমআইয়ের চেয়ে কোমরের মাপ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বোঝাতে বেশি কার্যকর হতে পারে: গবেষণা

শাহারিয়া নয়ন
  • প্রকাশঃ ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:৪২
  • / 5
ফাইল ছবি সংগৃহীত

১৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা)-  শরীরের ওজন ও উচ্চতার অনুপাত থেকে নির্ধারিত বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআইয়ের তুলনায় কোমরের পরিধি এবং কোমর-নিতম্বের অনুপাত একজন ব্যক্তির হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বোঝাতে বেশি কার্যকর হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকেরা ২০ বছর ধরে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ হৃদ্‌রোগের নয়টি ফলাফলের সঙ্গে শরীরে চর্বি জমার ধরন এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিএমআই স্বাভাবিক সীমায় থাকলেও কোমর ও নিতম্বের অনুপাত বেশি এমন প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজনের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল। গবেষণাটি মঙ্গলবার আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির জার্নাল জেএসিসিতে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থূলতার শ্রেণিতে থাকা ব্যক্তিদের প্রায় ১০ শতাংশের কোমরের পরিধি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। স্বাভাবিক ওজন ও কম কোমরের পরিধি থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তুলনা করে এই ব্যক্তিদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শরীরের মধ্যভাগে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়া, যাকে সেন্ট্রাল অ্যাডিপোসিটি বলা হয়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে বিএমআইয়ের চেয়ে আরও কার্যকর ধারণা দিতে পারে।

এবিসি নিউজের প্রধান চিকিৎসা সংবাদদাতা ও হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তারা নারুলা, যিনি গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বলেন, বিএমআই দিয়ে শরীরে চর্বি ও পেশির পরিমাণের পার্থক্য কিংবা চর্বি কোন অংশে জমেছে, তা বোঝা যায় না।

বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট বিপাকীয় কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় ব্যবহৃত মাপকাঠি অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ ইঞ্চি কোমরের পরিধি এবং ০.৮৫ কোমর-নিতম্বের অনুপাতকে বাড়তি ঝুঁকির সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের পরিধি প্রায় ৪০ ইঞ্চি এবং কোমর-নিতম্বের অনুপাত ০.৯০-এর বেশি হলে তা বাড়তি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

বাড়িতেও কোমর-নিতম্বের অনুপাত মাপা যায়। এ জন্য নমনীয় ফিতা দিয়ে শরীরে কাপড় না রেখে কোমরের পরিধি এবং নিতম্বের সবচেয়ে প্রশস্ত অংশের পরিধি মাপতে হয়। এরপর কোমরের পরিধিকে নিতম্বের পরিধি দিয়ে ভাগ করলে কোমর-নিতম্বের অনুপাত পাওয়া যায়।

চিকিৎসক তারা নারুলার মতে, গবেষণার ফল চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একজন ব্যক্তির বিএমআই দেখে যে মাত্রার হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনুমান করা হয়, তার সঙ্গে কোমরের পরিধির মতো অতিরিক্ত সূচক যুক্ত করলে ঝুঁকির মূল্যায়ন পরিবর্তিত হতে পারে।

তিনি রোগীর হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় বিএমআইয়ের পাশাপাশি কোমরের পরিধির মতো সূচক বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

❤️
👏
🙂
😞

বিএমআইয়ের চেয়ে কোমরের মাপ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বোঝাতে বেশি কার্যকর হতে পারে: গবেষণা

প্রকাশঃ ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:৪২

১৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা)-  শরীরের ওজন ও উচ্চতার অনুপাত থেকে নির্ধারিত বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআইয়ের তুলনায় কোমরের পরিধি এবং কোমর-নিতম্বের অনুপাত একজন ব্যক্তির হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বোঝাতে বেশি কার্যকর হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকেরা ২০ বছর ধরে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ হৃদ্‌রোগের নয়টি ফলাফলের সঙ্গে শরীরে চর্বি জমার ধরন এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিএমআই স্বাভাবিক সীমায় থাকলেও কোমর ও নিতম্বের অনুপাত বেশি এমন প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজনের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল। গবেষণাটি মঙ্গলবার আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির জার্নাল জেএসিসিতে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থূলতার শ্রেণিতে থাকা ব্যক্তিদের প্রায় ১০ শতাংশের কোমরের পরিধি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। স্বাভাবিক ওজন ও কম কোমরের পরিধি থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তুলনা করে এই ব্যক্তিদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শরীরের মধ্যভাগে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়া, যাকে সেন্ট্রাল অ্যাডিপোসিটি বলা হয়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে বিএমআইয়ের চেয়ে আরও কার্যকর ধারণা দিতে পারে।

এবিসি নিউজের প্রধান চিকিৎসা সংবাদদাতা ও হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তারা নারুলা, যিনি গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বলেন, বিএমআই দিয়ে শরীরে চর্বি ও পেশির পরিমাণের পার্থক্য কিংবা চর্বি কোন অংশে জমেছে, তা বোঝা যায় না।

বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট বিপাকীয় কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় ব্যবহৃত মাপকাঠি অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ ইঞ্চি কোমরের পরিধি এবং ০.৮৫ কোমর-নিতম্বের অনুপাতকে বাড়তি ঝুঁকির সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের পরিধি প্রায় ৪০ ইঞ্চি এবং কোমর-নিতম্বের অনুপাত ০.৯০-এর বেশি হলে তা বাড়তি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

বাড়িতেও কোমর-নিতম্বের অনুপাত মাপা যায়। এ জন্য নমনীয় ফিতা দিয়ে শরীরে কাপড় না রেখে কোমরের পরিধি এবং নিতম্বের সবচেয়ে প্রশস্ত অংশের পরিধি মাপতে হয়। এরপর কোমরের পরিধিকে নিতম্বের পরিধি দিয়ে ভাগ করলে কোমর-নিতম্বের অনুপাত পাওয়া যায়।

চিকিৎসক তারা নারুলার মতে, গবেষণার ফল চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একজন ব্যক্তির বিএমআই দেখে যে মাত্রার হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনুমান করা হয়, তার সঙ্গে কোমরের পরিধির মতো অতিরিক্ত সূচক যুক্ত করলে ঝুঁকির মূল্যায়ন পরিবর্তিত হতে পারে।

তিনি রোগীর হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় বিএমআইয়ের পাশাপাশি কোমরের পরিধির মতো সূচক বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।