ইংল্যান্ডে প্রতিবন্ধীদের বাসযাত্রায় বড় পরিবর্তন, ২০২৭ থেকে মিলবে যেসব সুবিধা
- প্রকাশঃ ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:৫৬
- / 22
লন্ডন, ১৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – ইংল্যান্ডে প্রতিবন্ধী বাস পাসধারীদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রার সময়সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দিনের যেকোনো সময়ে বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। বর্তমানে কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বাস পাস ব্যবহার করা যায় না, নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমাবদ্ধতা থাকবে না।
বর্তমান নিয়মে ইংল্যান্ডে প্রতিবন্ধী বাস পাস সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। ফলে এই সময়ের আগে কাজে যাওয়া কিংবা রাত ১১টার পর বাড়ি ফেরার প্রয়োজন হলে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিজ খরচে যাতায়াত করতে হয়। সপ্তাহান্ত ও সরকারি ছুটির দিনে এই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।
সরকারের হিসাবে, নতুন ব্যবস্থায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ উপকৃত হতে পারেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়ানোও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাস পাস ব্যবহার করতে না পারার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলের সুযোগ এমনভাবে সীমিত থাকা উচিত নয়, যাতে কাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতে বাধা তৈরি হয়।
বার্নহ্যাম গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে ওই অঞ্চলে প্রতিবন্ধী বাস পাস ব্যবহারের সময়সীমা তুলে দিয়েছিলেন। সেখানে ‘বি নেটওয়ার্ক’ বাস ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দিনের যেকোনো সময়ে পাস ব্যবহার করতে পারছেন। এবার একই ধরনের সুবিধা ইংল্যান্ডজুড়ে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। স্কোপের মতে, সময়সীমা তুলে দেওয়ার ফলে প্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা কমতে পারে। ট্রান্সপোর্ট ফর অল-এর জেমস বারবারও এই সিদ্ধান্তকে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাস পাস ব্যবহারের সময়সীমা তুলে দিলেই প্রতিবন্ধী মানুষের পরিবহনসংক্রান্ত সব সমস্যা দূর হবে না। বাস পাস পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে বিভিন্ন এলাকায় থাকা পার্থক্যও দূর করার দাবি জানিয়েছে তারা। প্রতিবন্ধী অধিকার ইউকের মতে, পুরো ব্যবস্থাকে আরও অভিন্ন ও ন্যায়সংগত করতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের কাজ করা প্রয়োজন।
শেফিল্ডের নিবন্ধিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কার্টিস ক্রসথর্ন বলেছেন, নতুন ব্যবস্থাটি প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করবে। তাঁর মতে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও কর্মস্থলে যেতে এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে হয়। বিশেষ করে যারা গাড়ি চালাতে পারেন না, তাঁদের জন্য বাস গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের মাধ্যম।
নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড ব্যয় হবে। পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ও পেনশন মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে এই অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী লিলিয়ান গ্রিনউড জানিয়েছেন, এটি স্বল্পমেয়াদি কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির ব্যয় কীভাবে বহন করা হবে, তা সরকারি ব্যয় পর্যালোচনার সময় বিবেচনা করা হবে।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এরই মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য আগস্ট মাসে বিনামূল্যে বাসযাত্রার সুবিধা চালু করেছে। একই সঙ্গে একক বাস টিকিটের ভাড়া সর্বোচ্চ ২ পাউন্ডে রাখার ব্যবস্থায় বাস কোম্পানিগুলোকে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অন্য অংশগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রার সুবিধা আগেই চালু রয়েছে। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বিনামূল্যে বাসে যাতায়াত করতে পারেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। অন্যান্য প্রতিবন্ধী বাস পাসধারীরা সেখানে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন।
২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে ইংল্যান্ডে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে প্রতিবন্ধী বাস পাসধারীদের কর্মস্থল, চিকিৎসা, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে। সরকারের প্রত্যাশা, সময়সীমাজনিত বাধা কমলে প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সময়সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বাস পাস পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে থাকা পার্থক্য কমানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সমন্বয় করা গেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিবহন সুবিধা আরও কার্যকর ও সমতাভিত্তিক হতে পারে।

























