ক্যারিয়ার গড়ার দৌড়ে ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে চাহিদাসম্পন্ন ৮ বিষয়, এগিয়ে চিকিৎসা ও প্রযুক্তি
- প্রকাশঃ ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ২১:৪৭
- / 12
লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ১৯ আগস্ট (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর বাছাইয়ের পাশাপাশি কোন বিষয়ে পড়লে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি হতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন থাকায় এসব বিষয়ের পড়াশোনা কর্মজীবনের জন্য সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, দন্ত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা এখনো যুক্তরাজ্যের স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, বেসরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯৫ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও জীবচিকিৎসা বিজ্ঞানীর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ রয়েছে।
প্রকৌশল পড়াশোনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণ, উৎপাদন এবং জ্বালানি খাতে প্রকৌশলীদের প্রয়োজন থাকায় পুরকৌশল, তড়িৎ প্রকৌশল, যন্ত্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব বিষয়ে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী, প্রকল্প ব্যবস্থাপক বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরামর্শক হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। স্মার্ট অবকাঠামো, রোবোটিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও মহাকাশ প্রযুক্তিও নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করছে।
প্রযুক্তি খাতে কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তার চাহিদা বাড়ছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, এআই, মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্য বিশ্লেষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, এআই গবেষক এবং ক্লাউড কম্পিউটিং প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
ব্যবসা, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় কর্মমুখী বিষয়। যুক্তরাজ্যের ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, বিপণন ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতে এসব বিষয়ে পড়াশোনা করা গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কাজের সুযোগ রয়েছে। ব্যবসা বিশ্লেষক, আর্থিক পরামর্শক, বিপণন কৌশলবিদ ও ব্যবস্থাপনা পেশাজীবী হিসেবে কাজ করা যেতে পারে।
তথ্যবিজ্ঞান ও বৃহৎ তথ্য বিশ্লেষণও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থায় বিপুল পরিমাণ তথ্য ব্যবহারের ফলে তা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করতে সক্ষম কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। তথ্য বিশ্লেষক, তথ্যবিজ্ঞানী ও যন্ত্রশিক্ষা প্রকৌশলী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং, অনলাইন বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও সরকারি নীতিনির্ধারণে এসব দক্ষতা ব্যবহার করা হয়।
আইন, অর্থনীতি ও হিসাববিজ্ঞানও দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয়ে পড়াশোনা করে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর আইনজীবী হিসেবে পেশায় প্রবেশের জন্য অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।
স্থাপত্য ও নকশার ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে। নির্মাণ, নগর উন্নয়ন এবং টেকসই অবকাঠামোর সঙ্গে এসব বিষয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। স্থপতি, নগর নকশাবিদ ও অভ্যন্তরীণ নকশা পরামর্শক হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ভবন, স্মার্ট শহর ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব বাড়ায় এই খাতেও নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বিপণন ও জীবপ্রযুক্তিকেও দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও নীতিগত অগ্রাধিকার বাড়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে বৈশ্বিক ও অনলাইন বাণিজ্যের বিস্তারে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও পণ্য পরিবহন খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে।
ডিজিটাল ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে ডিজিটাল বিপণনের গুরুত্বও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন অনুসন্ধান, ডিজিটাল প্রচারণা ও বিষয়বস্তু তৈরির কাজে দক্ষ পেশাজীবীদের প্রয়োজন হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও জীবনবিজ্ঞানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় জীবপ্রযুক্তিও সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে কেবল চাকরির সম্ভাবনা দেখে বিষয় নির্বাচন করা শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট হবে না। শিক্ষার খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ, পেশাগত যোগ্যতার প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট খাতে প্রকৃত চাকরির সুযোগও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগসংক্রান্ত নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। নীতিমালায় পরিবর্তন হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনের পরিকল্পনায় তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে পছন্দের বিষয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চাকরির বাজার ও সর্বশেষ অভিবাসন বিধিমালা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




























