ঢাকা ০৬:৩১ , Thu, ০৩ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসায় নতুন পরিবর্তন, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ নিয়ে আইনি লড়াই

ফাহিম আহমেদ
  • প্রকাশঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৮
  • / 8
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন ও সাক্ষাৎকার ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক একাধিক পরিবর্তন নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ছবি: প্রজন্ম কথা

ওয়াশিংটন, ২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক একাধিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকার ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি পরিবর্তন করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওই তালিকায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশও ছিল। তবে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের বিরতি উঠে গেছে। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়া মানেই কোনো আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে এমন নয়। আবেদনকারীদের নিয়মিত নথি যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

এদিকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর ভিসা সেবায় সময়সূচি সমন্বয়ের বিষয়টি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এই বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসা সেবার অ্যাপয়েন্টমেন্টে পরিবর্তন আনা হতে পারে। ফলে আগে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময় পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের পাশাপাশি অন্যান্য বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াতেও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তিত হলে ভ্রমণ পরিকল্পনা, চাকরি, শিক্ষা এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিবাসন ভিসা সূচি অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার তারিখ, ভিসার প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সময়সূচি বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং সাংবাদিকদের জন্য আলাদা একটি নতুন ভিসা বিধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই চলছে। প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সর্বোচ্চ সময় চার বছর নির্ধারণ করা হতে পারে। বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়, সাংবাদিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের একটি জোট ইতোমধ্যে এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

নতুন বিধির সমর্থনে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি প্রতিরোধ ও আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলো মনে করছে, নতুন সময়সীমা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময় পর নতুন অনুমোদন বা সংশ্লিষ্ট ভিসা প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশ থাকলেও ২১ আগস্ট থেকে সেই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। তবে ঢাকায় অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ সূচিতে ঢাকার ক্ষেত্রে নথিপত্র সম্পূর্ণ হওয়া অভিবাসন ভিসা আবেদনের সাক্ষাৎকার নির্ধারণে বিভিন্ন শ্রেণিতে আগের তারিখের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকার তথ্য দেখা যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিসার ধরন, আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বসবাসের দেশ এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কার্যক্রমের ওপর নিয়ম ও সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোতে একদিকে ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ উঠে গেছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রশিক্ষণের কারণে সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য নতুন সময়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের পরিকল্পনা করা আবেদনকারীদের জন্য নিয়মিত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসায় নতুন পরিবর্তন, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ নিয়ে আইনি লড়াই

প্রকাশঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৮

ওয়াশিংটন, ২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক একাধিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকার ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি পরিবর্তন করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছিল। ওই তালিকায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশও ছিল। তবে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের বিরতি উঠে গেছে। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়া মানেই কোনো আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে এমন নয়। আবেদনকারীদের নিয়মিত নথি যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

এদিকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর ভিসা সেবায় সময়সূচি সমন্বয়ের বিষয়টি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এই বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসা সেবার অ্যাপয়েন্টমেন্টে পরিবর্তন আনা হতে পারে। ফলে আগে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময় পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের পাশাপাশি অন্যান্য বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াতেও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তিত হলে ভ্রমণ পরিকল্পনা, চাকরি, শিক্ষা এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিবাসন ভিসা সূচি অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার তারিখ, ভিসার প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সময়সূচি বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং সাংবাদিকদের জন্য আলাদা একটি নতুন ভিসা বিধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই চলছে। প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সর্বোচ্চ সময় চার বছর নির্ধারণ করা হতে পারে। বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়, সাংবাদিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের একটি জোট ইতোমধ্যে এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

নতুন বিধির সমর্থনে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি প্রতিরোধ ও আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলো মনে করছে, নতুন সময়সীমা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময় পর নতুন অনুমোদন বা সংশ্লিষ্ট ভিসা প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশ থাকলেও ২১ আগস্ট থেকে সেই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। তবে ঢাকায় অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ সূচিতে ঢাকার ক্ষেত্রে নথিপত্র সম্পূর্ণ হওয়া অভিবাসন ভিসা আবেদনের সাক্ষাৎকার নির্ধারণে বিভিন্ন শ্রেণিতে আগের তারিখের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকার তথ্য দেখা যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিসার ধরন, আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বসবাসের দেশ এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কার্যক্রমের ওপর নিয়ম ও সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোতে একদিকে ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ উঠে গেছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রশিক্ষণের কারণে সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য নতুন সময়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের পরিকল্পনা করা আবেদনকারীদের জন্য নিয়মিত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।