ঢাকা ০৬:৩৫ , Thu, ০৩ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে কোন পেশায় বেতন বেশি, বাংলাদেশিদের জন্য কোন চাকরিতে সুযোগ বেশি?

ফাহিম আহমেদ
  • প্রকাশঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৮
  • / 13
ফাইল ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন, ০২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – মাসের শুরুতে ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা হলো ৩ হাজার ২৫৩ পাউন্ড। কাগজে-কলমে অঙ্কটি কম মনে হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আয়কর ও জাতীয় বীমার অর্থ কেটে যাওয়ার পর হাতে থাকল প্রায় ২ হাজার ৬৩৬ পাউন্ড। এরপর বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের শেষের হিসাব আবার বদলে গেল। যুক্তরাজ্যে চাকরি করতে আসা একজন বিদেশি কর্মীর জন্য তাই মূল প্রশ্নটি কেবল ‘বেতন কত’ নয়, কর ও জীবনযাত্রার খরচ বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত কতটা সঞ্চয় করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ৩৯ হাজার ৩৯ পাউন্ড। মাস হিসেবে এটি প্রায় ৩ হাজার ২৫৩ পাউন্ড মোট আয়ের সমান। আয়কর ও জাতীয় বীমার অর্থ বাদ দেওয়ার পর একজন একক কর্মীর হাতে আনুমানিক ২ হাজার ৬৩৬ পাউন্ড থাকতে পারে।

তবে বিদেশি কর্মীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ ন্যূনতম বেতনসীমা। বর্তমানে এই সীমা ৪১ হাজার ৭০০ পাউন্ড। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের একজন সাধারণ পূর্ণকালীন কর্মীর মধ্যম বেতনের চেয়েও দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বেতন বেশি।

৩৯ হাজার পাউন্ড বেতনে হাতে থাকে কত

৩৯ হাজার ৩৯ পাউন্ড বার্ষিক বেতনের একজন একক কর্মীর ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমার মধ্যে পড়ে। এর পরের আয়ের ওপর নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হয়। পাশাপাশি জাতীয় বীমার অর্থও বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়।

এই হিসাব অনুযায়ী বছরে প্রায় ৩১ হাজার ৬২৮ পাউন্ড বা মাসে প্রায় ২ হাজার ৬৩৬ পাউন্ড হাতে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে কর পরিস্থিতি, চাকরির ধরন এবং ব্যক্তিগত অবস্থার ওপর।

২০২৬-২৭ করবর্ষে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এরপর ৫০ হাজার ২৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয়ে ২০ শতাংশ হারে আয়কর এবং এর ওপরে উচ্চতর হারে কর প্রযোজ্য। স্কটল্যান্ডে আয়করের হার ও ধাপ আলাদা হলেও জাতীয় বীমার নিয়ম পুরো যুক্তরাজ্যে একই।

কোন খাতে বেতন বেশি

পেশা ও খাতভেদে যুক্তরাজ্যে বেতনের পার্থক্য বেশ বড়। প্রযুক্তি খাতে বার্ষিক বেতন প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড, অর্থ ও বিমা খাতে প্রায় ৪৮ হাজার এবং আইন পেশায় প্রায় ৪৭ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি।

প্রকৌশল খাতে বেতন প্রায় ৪৩ হাজার পাউন্ড এবং বিজ্ঞান ও গবেষণা খাতে প্রায় ৪২ হাজার পাউন্ড। অন্যদিকে কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষক ও নার্সদের বেতন প্রায় ৩১ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি হতে পারে। খুচরা বিক্রি ও আতিথেয়তা খাতে বার্ষিক বেতন প্রায় ২৪ হাজার পাউন্ড।

বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য প্রযুক্তি, অর্থ, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাকরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এসব পেশায় দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ বেতনসীমা পূরণ করার সুযোগ তুলনামূলক বেশি।

লন্ডনে বেতন বেশি, কিন্তু সঞ্চয়ও কি বেশি

লন্ডনে পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ৪৭ হাজার ৪৫৫ পাউন্ড। অর্থাৎ জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় লন্ডনে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে বাড়তি আয়ের বড় একটি অংশ আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে চলে যেতে পারে। ফলে বেশি বেতন পেলেই মাস শেষে বেশি সঞ্চয় হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

স্কটল্যান্ডে পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম বেতন প্রায় ৩৯ হাজার ৭১৯ পাউন্ড এবং ওয়েলসে প্রায় ৩৫ হাজার ৭৯৬ পাউন্ড। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে এই পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি।

ম্যানচেস্টারের মতো শহরে লন্ডনের তুলনায় বেতন কিছুটা কম হতে পারে। কিন্তু আবাসন ও দৈনন্দিন খরচ তুলনামূলক কম হলে একই ধরনের কর্মীর মাসিক সঞ্চয়ের সুযোগ লন্ডনের চেয়ে ভালো হতে পারে।

বিদেশি কর্মীদের ভিসার জন্য কত বেতন প্রয়োজন

বিদেশি কর্মীদের জন্য দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ বেতনসীমা ৪১ হাজার ৭০০ পাউন্ড। তবে সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত বেতনহার যদি এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই উচ্চতর বেতনসীমা পূরণ করতে হবে।

কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ সীমার চেয়ে কম বেতনেও ভিসার সুযোগ রয়েছে। নতুন কর্মী, নির্দিষ্ট ঘাটতিপূর্ণ পেশা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের কিছু বিষয়ে পিএইচডিধারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সীমা ৩৩ হাজার ৪০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পিএইচডি থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাটি ৩৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

তবে চাকরির পদ অনুযায়ী প্রকৃত বেতনসীমা আরও বেশি হতে পারে। সফটওয়্যার উন্নয়ন পেশায় নির্ধারিত হার প্রায় ৫৪ হাজার ৭০০ পাউন্ড, সিভিল প্রকৌশলে ৫০ হাজার ৪০০ এবং সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ পেশায় প্রায় ৪৯ হাজার ২০০ পাউন্ড।

নার্স ও ধাত্রীদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাদের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার নির্ধারিত বেতন কাঠামো অনুসরণ করা হয়।

২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি

২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের জাতীয় জীবনযাপন মজুরি ঘণ্টায় ১২ দশমিক ৭১ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণকালীন কাজের হিসাবে এটি বছরে প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ পাউন্ডের সমান।

তবে এই বেতন দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ বেতনসীমার তুলনায় অনেক কম। ফলে বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে আইনগত ন্যূনতম মজুরি এবং ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বেতনের মধ্যে পার্থক্যটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

লন্ডন নাকি অন্য শহর, কোথায় সঞ্চয় বেশি

একজন বিদেশি কর্মী যদি লন্ডনে চাকরি পান, তার প্রথম আকর্ষণ হতে পারে তুলনামূলক বেশি বেতন। কিন্তু বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ হিসাব করলে ছবিটি বদলে যেতে পারে।

অন্যদিকে লন্ডনের বাইরে ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, লিডস বা অন্যান্য শহরে বেতন কিছুটা কম হলেও ভাড়া ও দৈনন্দিন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় মাস শেষে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশি হতে পারে।

তাই চাকরির প্রস্তাব তুলনা করার সময় কেবল বার্ষিক বেতন দেখা যথেষ্ট নয়। কর ও জাতীয় বীমা বাদ দেওয়ার পর হাতে কত থাকবে, বাসাভাড়া কত, যাতায়াতের খরচ কত এবং অন্যান্য নিয়মিত ব্যয় কত, সবকিছু একসঙ্গে হিসাব করা প্রয়োজন।

বিদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাব

যুক্তরাজ্যে চাকরির পরিকল্পনা করা বিদেশিদের জন্য তিনটি সংখ্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো সংশ্লিষ্ট পেশার বেতনহার, দ্বিতীয়টি দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বেতন এবং তৃতীয়টি কর ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে থাকা অর্থ।

কারও বার্ষিক বেতন ৪৫ হাজার পাউন্ড হলেও যদি সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত বেতনহার তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই চাকরি ভিসার শর্ত পূরণ নাও করতে পারে। আবার ভিসার শর্ত পূরণ করলেও লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে জীবনযাত্রার খরচ বেশি হলে সঞ্চয়ের সুযোগ সীমিত হতে পারে।

সুতরাং যুক্তরাজ্যে চাকরির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ‘বেতন বেশি’ কথাটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিসার যোগ্যতা, করের পর আয় এবং জীবনযাত্রার খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত সঞ্চয়।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পেশার বর্তমান বেতনহার, দক্ষ কর্মী ভিসার শর্ত এবং কর কাঠামো যাচাই করা জরুরি। কারণ বেতন ও অভিবাসন নীতির নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাজ্যে কোন পেশায় বেতন বেশি, বাংলাদেশিদের জন্য কোন চাকরিতে সুযোগ বেশি?

প্রকাশঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৮

লন্ডন, ০২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – মাসের শুরুতে ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা হলো ৩ হাজার ২৫৩ পাউন্ড। কাগজে-কলমে অঙ্কটি কম মনে হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আয়কর ও জাতীয় বীমার অর্থ কেটে যাওয়ার পর হাতে থাকল প্রায় ২ হাজার ৬৩৬ পাউন্ড। এরপর বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের শেষের হিসাব আবার বদলে গেল। যুক্তরাজ্যে চাকরি করতে আসা একজন বিদেশি কর্মীর জন্য তাই মূল প্রশ্নটি কেবল ‘বেতন কত’ নয়, কর ও জীবনযাত্রার খরচ বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত কতটা সঞ্চয় করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যে পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ৩৯ হাজার ৩৯ পাউন্ড। মাস হিসেবে এটি প্রায় ৩ হাজার ২৫৩ পাউন্ড মোট আয়ের সমান। আয়কর ও জাতীয় বীমার অর্থ বাদ দেওয়ার পর একজন একক কর্মীর হাতে আনুমানিক ২ হাজার ৬৩৬ পাউন্ড থাকতে পারে।

তবে বিদেশি কর্মীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ ন্যূনতম বেতনসীমা। বর্তমানে এই সীমা ৪১ হাজার ৭০০ পাউন্ড। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের একজন সাধারণ পূর্ণকালীন কর্মীর মধ্যম বেতনের চেয়েও দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বেতন বেশি।

৩৯ হাজার পাউন্ড বেতনে হাতে থাকে কত

৩৯ হাজার ৩৯ পাউন্ড বার্ষিক বেতনের একজন একক কর্মীর ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমার মধ্যে পড়ে। এর পরের আয়ের ওপর নির্ধারিত হারে আয়কর দিতে হয়। পাশাপাশি জাতীয় বীমার অর্থও বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়।

এই হিসাব অনুযায়ী বছরে প্রায় ৩১ হাজার ৬২৮ পাউন্ড বা মাসে প্রায় ২ হাজার ৬৩৬ পাউন্ড হাতে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে কর পরিস্থিতি, চাকরির ধরন এবং ব্যক্তিগত অবস্থার ওপর।

২০২৬-২৭ করবর্ষে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এরপর ৫০ হাজার ২৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয়ে ২০ শতাংশ হারে আয়কর এবং এর ওপরে উচ্চতর হারে কর প্রযোজ্য। স্কটল্যান্ডে আয়করের হার ও ধাপ আলাদা হলেও জাতীয় বীমার নিয়ম পুরো যুক্তরাজ্যে একই।

কোন খাতে বেতন বেশি

পেশা ও খাতভেদে যুক্তরাজ্যে বেতনের পার্থক্য বেশ বড়। প্রযুক্তি খাতে বার্ষিক বেতন প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড, অর্থ ও বিমা খাতে প্রায় ৪৮ হাজার এবং আইন পেশায় প্রায় ৪৭ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি।

প্রকৌশল খাতে বেতন প্রায় ৪৩ হাজার পাউন্ড এবং বিজ্ঞান ও গবেষণা খাতে প্রায় ৪২ হাজার পাউন্ড। অন্যদিকে কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষক ও নার্সদের বেতন প্রায় ৩১ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি হতে পারে। খুচরা বিক্রি ও আতিথেয়তা খাতে বার্ষিক বেতন প্রায় ২৪ হাজার পাউন্ড।

বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য প্রযুক্তি, অর্থ, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাকরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এসব পেশায় দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ বেতনসীমা পূরণ করার সুযোগ তুলনামূলক বেশি।

লন্ডনে বেতন বেশি, কিন্তু সঞ্চয়ও কি বেশি

লন্ডনে পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ৪৭ হাজার ৪৫৫ পাউন্ড। অর্থাৎ জাতীয় মধ্যম বেতনের তুলনায় লন্ডনে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে বাড়তি আয়ের বড় একটি অংশ আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে চলে যেতে পারে। ফলে বেশি বেতন পেলেই মাস শেষে বেশি সঞ্চয় হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

স্কটল্যান্ডে পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম বেতন প্রায় ৩৯ হাজার ৭১৯ পাউন্ড এবং ওয়েলসে প্রায় ৩৫ হাজার ৭৯৬ পাউন্ড। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে এই পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি।

ম্যানচেস্টারের মতো শহরে লন্ডনের তুলনায় বেতন কিছুটা কম হতে পারে। কিন্তু আবাসন ও দৈনন্দিন খরচ তুলনামূলক কম হলে একই ধরনের কর্মীর মাসিক সঞ্চয়ের সুযোগ লন্ডনের চেয়ে ভালো হতে পারে।

বিদেশি কর্মীদের ভিসার জন্য কত বেতন প্রয়োজন

বিদেশি কর্মীদের জন্য দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ বেতনসীমা ৪১ হাজার ৭০০ পাউন্ড। তবে সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত বেতনহার যদি এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই উচ্চতর বেতনসীমা পূরণ করতে হবে।

কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ সীমার চেয়ে কম বেতনেও ভিসার সুযোগ রয়েছে। নতুন কর্মী, নির্দিষ্ট ঘাটতিপূর্ণ পেশা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের কিছু বিষয়ে পিএইচডিধারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সীমা ৩৩ হাজার ৪০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পিএইচডি থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাটি ৩৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

তবে চাকরির পদ অনুযায়ী প্রকৃত বেতনসীমা আরও বেশি হতে পারে। সফটওয়্যার উন্নয়ন পেশায় নির্ধারিত হার প্রায় ৫৪ হাজার ৭০০ পাউন্ড, সিভিল প্রকৌশলে ৫০ হাজার ৪০০ এবং সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ পেশায় প্রায় ৪৯ হাজার ২০০ পাউন্ড।

নার্স ও ধাত্রীদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাদের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার নির্ধারিত বেতন কাঠামো অনুসরণ করা হয়।

২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি

২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের জাতীয় জীবনযাপন মজুরি ঘণ্টায় ১২ দশমিক ৭১ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণকালীন কাজের হিসাবে এটি বছরে প্রায় ২৪ হাজার ৮০০ পাউন্ডের সমান।

তবে এই বেতন দক্ষ কর্মী ভিসার সাধারণ বেতনসীমার তুলনায় অনেক কম। ফলে বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে আইনগত ন্যূনতম মজুরি এবং ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বেতনের মধ্যে পার্থক্যটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

লন্ডন নাকি অন্য শহর, কোথায় সঞ্চয় বেশি

একজন বিদেশি কর্মী যদি লন্ডনে চাকরি পান, তার প্রথম আকর্ষণ হতে পারে তুলনামূলক বেশি বেতন। কিন্তু বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ হিসাব করলে ছবিটি বদলে যেতে পারে।

অন্যদিকে লন্ডনের বাইরে ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, লিডস বা অন্যান্য শহরে বেতন কিছুটা কম হলেও ভাড়া ও দৈনন্দিন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় মাস শেষে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশি হতে পারে।

তাই চাকরির প্রস্তাব তুলনা করার সময় কেবল বার্ষিক বেতন দেখা যথেষ্ট নয়। কর ও জাতীয় বীমা বাদ দেওয়ার পর হাতে কত থাকবে, বাসাভাড়া কত, যাতায়াতের খরচ কত এবং অন্যান্য নিয়মিত ব্যয় কত, সবকিছু একসঙ্গে হিসাব করা প্রয়োজন।

বিদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাব

যুক্তরাজ্যে চাকরির পরিকল্পনা করা বিদেশিদের জন্য তিনটি সংখ্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হলো সংশ্লিষ্ট পেশার বেতনহার, দ্বিতীয়টি দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বেতন এবং তৃতীয়টি কর ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে থাকা অর্থ।

কারও বার্ষিক বেতন ৪৫ হাজার পাউন্ড হলেও যদি সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত বেতনহার তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই চাকরি ভিসার শর্ত পূরণ নাও করতে পারে। আবার ভিসার শর্ত পূরণ করলেও লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে জীবনযাত্রার খরচ বেশি হলে সঞ্চয়ের সুযোগ সীমিত হতে পারে।

সুতরাং যুক্তরাজ্যে চাকরির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ‘বেতন বেশি’ কথাটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভিসার যোগ্যতা, করের পর আয় এবং জীবনযাত্রার খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত সঞ্চয়।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পেশার বর্তমান বেতনহার, দক্ষ কর্মী ভিসার শর্ত এবং কর কাঠামো যাচাই করা জরুরি। কারণ বেতন ও অভিবাসন নীতির নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।