আমেরিকায় অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ১০টি ব্যবসা
- প্রকাশঃ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৯
- / 6
যুক্তরাষ্ট্র, ০৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব, গ্রিন কার্ড বা বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক কম পুঁজিতে বিভিন্ন ধরনের ছোট ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে। ক্লিনিং সার্ভিস বা পরিচ্ছন্নতা ব্যবসা, ফুড কার্ট ও হালাল খাবারের ব্যবসা, রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি সার্ভিস, হোম-বেসড চাইল্ড কেয়ার বা শিশু পরিচর্যা ব্যবসা, পোশাক বিক্রি ও অনলাইন বুটিক ব্যবসা, বারবার ও বিউটি সার্ভিস, নোটারি ও অনুবাদ সেবা, ট্যাক্স প্রস্তুতি ও আইটিআইএন সেবা, মুভিং ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস এবং ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ব্যবসা তুলনামূলক কম পুঁজিতে শুরু করা যেতে পারে। তবে ব্যবসার লাইসেন্স, অনুমতি, কর, বীমা ও পেশাগত যোগ্যতার শর্ত রাজ্য, কাউন্টি ও শহরভেদে আলাদা। তাই একটি এলাকার নিয়ম পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
১. ক্লিনিং সার্ভিস বা পরিচ্ছন্নতা ব্যবসা
বাড়ি, অফিস, দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার কাজ তুলনামূলক কম সরঞ্জাম নিয়ে শুরু করা যায়। একা বা দুই-তিনজনের ছোট দল নিয়েও কাজ করা সম্ভব। স্থানীয় পরিচিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কমিউনিটি গ্রুপ ও অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে গ্রাহক তৈরি করা যেতে পারে।
তবে ‘পরিচ্ছন্নতা ব্যবসায় কোনো লাইসেন্স লাগে না’ এমন সার্বজনীন নিয়ম নেই। ব্যবসার ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী স্থানীয় নিবন্ধন, ব্যবসার নাম নিবন্ধন, করসংক্রান্ত বিষয় বা অন্যান্য অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। ব্যবসা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট শহর ও রাজ্যের নিয়ম যাচাই করা উচিত।
২. ফুড কার্ট ও হালাল খাবারের ব্যবসা
হালাল খাবার, ফাস্টফুড, কফি বা অন্যান্য খাবারের কার্ট ও গাড়ি বড় শহরগুলোতে পরিচিত ব্যবসার মডেল। নিউইয়র্ক সিটিতে মোবাইল খাদ্য বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমতি প্রয়োজন এবং খাদ্য নিরাপত্তার নিয়মও মানতে হয়।
তবে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলারেই সব জায়গায় এই ব্যবসা শুরু করা যাবে এমন নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া ঠিক হবে না। কার্ট বা গাড়ি কেনা, রান্নার সরঞ্জাম, অনুমতি, বীমা, খাবারের মজুত এবং ব্যবসার স্থানসহ মোট প্রাথমিক ব্যয় শহর ও ব্যবসার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি সার্ভিস
নিজের গাড়ি থাকলে যাত্রী পরিবহন বা খাবার ও পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। তবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের যোগ্যতা, বৈধ কর্মসংস্থানের অনুমতি, চালকের লাইসেন্স, গাড়ির বীমা এবং স্থানীয় পরিবহন বিধি পূরণ করতে হতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইটিআইএন কাজের অনুমতি দেয় না। আইটিআইএন মূলত ফেডারেল করসংক্রান্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নম্বর। তাই আইটিআইএন থাকলেই রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি সার্ভিসে কাজ করা বৈধ হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
৪. হোম-বেসড চাইল্ড কেয়ার বা শিশু পরিচর্যা ব্যবসা
শিশুদের দেখাশোনার অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থাকলে বাসাভিত্তিক শিশু পরিচর্যা একটি সম্ভাব্য ছোট ব্যবসা হতে পারে। তবে এই খাতে রাজ্যভেদে লাইসেন্স, নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ও পরিদর্শনের নিয়ম থাকতে পারে।
নিউইয়র্কে পারিবারিক শিশু পরিচর্যা ও গ্রুপ পারিবারিক শিশু পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা কার্যক্রম রয়েছে এবং এগুলোর জন্য রাজ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাসা থেকে শিশু দেখাশোনা শুরু করার আগে নিজের এলাকার লাইসেন্স ও নিবন্ধনের নিয়ম যাচাই করতে হবে।
৫. পোশাক বিক্রি ও অনলাইন বুটিক ব্যবসা
কম পুঁজিতে পণ্য কেনাবেচা শুরু করতে চাইলে ছাড়ে পাওয়া বা ব্যবহৃত পোশাক কিনে অনলাইনে পুনর্বিক্রয় করা যেতে পারে। দেশি পোশাক, থ্রি-পিস, শাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের জন্য অনলাইনভিত্তিক বুটিকও তৈরি করা সম্ভব। এতে শুরুতেই দোকান ভাড়া নেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
তবে নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে পণ্য বিক্রি করলে ব্যবসা নিবন্ধন, বিক্রয়কর, স্থানীয় অনুমতি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। কোন নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা ব্যবসার অবস্থান ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা উচিত।
৬. বারবার ও বিউটি সার্ভিস
চুল কাটা, দাড়ি ছাঁটা, সৌন্দর্যসেবা বা সংশ্লিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকলে এই খাতে ব্যবসা করা সম্ভব। তবে এসব পেশায় অনেক রাজ্যে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও পেশাগত লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়।
তাই ছয় থেকে নয় মাসের কোর্স করলেই সব রাজ্যে একইভাবে কাজ করা যাবে এমন কথা বলা ঠিক হবে না। নিজের রাজ্যের লাইসেন্সের শর্ত, প্রশিক্ষণের মেয়াদ, পরীক্ষার নিয়ম এবং বাসা থেকে সেবা দেওয়ার অনুমতি আছে কি না, আগে যাচাই করা উচিত।
৭. নোটারি ও অনুবাদ সেবা
বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষ ব্যক্তিরা নোটারি সেবার পাশাপাশি অনুবাদ বা ভাষাগত সহায়তার ব্যবসা গড়ে তুলতে পারেন। তবে নোটারি হওয়া এবং আইনগত পরামর্শ দেওয়া এক বিষয় নয়।
বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নোটারি বা সাধারণ সেবা প্রদানকারী হিসেবে আইনজীবীর কাজ কিংবা অনুমোদন ছাড়া অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনগত পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়।
প্রতি স্বাক্ষরে ৫ থেকে ২৫ ডলার আয়ের মতো নির্দিষ্ট অঙ্কও সার্বজনীনভাবে বলা ঠিক হবে না, কারণ নোটারি ফি ও অন্যান্য সেবার মূল্য রাজ্য ও সেবার ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
৮. ট্যাক্স প্রস্তুতি ও আইটিআইএন সেবা
কর মৌসুমে কর প্রস্তুতি ও আইটিআইএন-সংক্রান্ত সেবার চাহিদা বাড়তে পারে। তবে আইটিআইএন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইআরএসের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
আইআরএস অনুমোদিত গ্রহণকারী প্রতিনিধি এবং প্রত্যয়িত গ্রহণকারী প্রতিনিধি গ্রাহকদের আইটিআইএন আবেদনে সহায়তা করতে পারেন। প্রত্যয়িত গ্রহণকারী প্রতিনিধি হওয়ার জন্য আইআরএসের নির্দিষ্ট আবেদন, প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া রয়েছে।
অর্থাৎ কেউ সাধারণ কর প্রস্তুতির ব্যবসা শুরু করলেই নিজেকে আইটিআইএন অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। এ ধরনের সেবা দিতে হলে আইআরএসের সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
৯. মুভিং ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস
আসবাবপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া, আসবাব জোড়া লাগানো বা ছোটখাটো ঘরোয়া সহায়তার কাজ তুলনামূলক কম সরঞ্জাম দিয়ে শুরু করা সম্ভব। অনলাইন সেবা প্ল্যাটফর্ম বা স্থানীয় প্রচারের মাধ্যমে গ্রাহক খোঁজা যেতে পারে।
তবে বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং, নির্মাণ বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত কারিগরি কাজের ক্ষেত্রে রাজ্য ও স্থানীয় লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কাজের ধরন অনুযায়ী অনুমতির শর্ত আগে যাচাই করা জরুরি।
১০. ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ব্যবসা
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবন, স্কুল, গাড়ি চালানোর পরীক্ষা, চাকরি, ব্যবসা, ভ্রমণ, অভিবাসনসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে তথ্যভিত্তিক ভিডিও তৈরি করেও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তোলা যায়।
এই ধরনের কাজে শুরুতে বড় অফিস বা পণ্য মজুতের প্রয়োজন নেই। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আয় নির্ভর করে দর্শক, কনটেন্টের ধরন, বিজ্ঞাপন, প্ল্যাটফর্মের যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্তের ওপর। তাই শুরুতেই নির্দিষ্ট আয় হবে ধরে পরিকল্পনা করা উচিত নয়।
ব্যবসা শুরুর আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন
ব্যবসা শুরু করার আগে নিজের রাজ্য, কাউন্টি ও শহরের নিয়ম যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার অবস্থান ও কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে লাইসেন্স, অনুমতি, নিবন্ধন, কর ও অন্যান্য বিধি প্রযোজ্য হতে পারে। ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী এসব শর্ত ও ফিও পরিবর্তিত হয়।
ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর বা ইআইএন প্রয়োজন হতে পারে। আইআরএসের মাধ্যমে ইআইএন বিনা মূল্যে নেওয়া যায়। তবে প্রত্যেক ছোট ব্যবসার জন্য একইভাবে ইআইএন বাধ্যতামূলক নয়। প্রতিষ্ঠান কাঠামো, কর্মী এবং করসংক্রান্ত পরিস্থিতির ওপর এর প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে।
ব্যবসার জন্য দায়বদ্ধতা বীমা অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব ব্যবসা বা সব রাজ্যে এটি একইভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ব্যবসার ধরন, কর্মী, সম্পত্তি এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বীমার প্রয়োজন হতে পারে।
ছোট ব্যবসা শুরু করার আগে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন কেন্দ্রের সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, বিপণন ও নিয়মকানুনসহ বিভিন্ন বিষয়ে এসব কেন্দ্র থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পাওয়া যায়।
























