কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে বড় পরিবর্তন, সনদ পেতে অপেক্ষা ৩৩ মাস
- প্রকাশঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫০
- / 8
অটোয়া, ১২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – কানাডার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পর বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় নাগরিকদের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে নাগরিকত্বের সনদ পেতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার আবেদন জমে আছে এবং এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৩৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কানাডার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হয়। নতুন ব্যবস্থায় বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রথম প্রজন্মের পর নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়ে আগের সীমাবদ্ধতা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে এমন অনেক ব্যক্তি কানাডীয় নাগরিকত্বের অধিকার ফিরে পেয়েছেন, যাঁরা আগে এই সীমাবদ্ধতার কারণে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাননি।
নতুন আইন কার্যকরের পর নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদনের চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যেখানে এ ধরনের আবেদন ছিল প্রায় ৪০ হাজার ৪০০, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে পৌঁছেছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে।
আবেদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিষ্পত্তির সময়ও কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যেখানে প্রায় ৯ মাস সময় লাগছিল, ২০২৬ সালের মে মাসে তা বেড়ে ১২ মাস হয়। জুনে ১৫ মাস, জুলাইয়ে ১৯ মাস, আগস্টে ২৫ মাস এবং সেপ্টেম্বরে তা প্রায় ৩৩ মাসে পৌঁছেছে।
এর পেছনে অন্যতম কারণ নতুন আইনের আওতায় সম্ভাব্য আবেদনকারীর সংখ্যা নিয়ে আগের অনুমানের তুলনায় বাস্তবে অনেক বেশি আবেদন জমা পড়া। কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিল, আইন পরিবর্তনের পর কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশক হাজার নতুন আবেদন আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবে আবেদনের চাপ সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন আইনের আওতায় আবেদনকারীদের অনেকেই নতুন করে কানাডীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করছেন না। আইনের পরিবর্তনের ফলে তাঁরা ইতোমধ্যেই কানাডীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তাঁদের মূল প্রয়োজন হলো নাগরিকত্বের অধিকার প্রমাণের জন্য সরকারি সনদ পাওয়া।
বিদেশে জন্ম নেওয়া কেউ কানাডীয় নাগরিকত্বের দাবি করলে তাঁকে কানাডীয় বংশসূত্রের প্রমাণ দিতে হতে পারে। বাবা-মা, দাদা-দাদি কিংবা আরও আগের প্রজন্মের মাধ্যমে নাগরিকত্বের দাবি করা হলে প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্কের নথি দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে পুরোনো প্রজন্মের ক্ষেত্রে জন্ম, বিবাহ এবং অন্যান্য সরকারি নথি সংগ্রহ করা জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার পর শুধু সরকারি প্রক্রিয়ার অপেক্ষাই নয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টিও সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
নাগরিকত্বের সনদ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে কানাডায় বসবাস করতে পারেন। তবে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া মানেই কানাডার সব সরকারি সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না। বিভিন্ন সুবিধার ক্ষেত্রে আলাদা বসবাস ও যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
জরুরি প্রয়োজন থাকলে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে। পড়াশোনা, চাকরি বা নির্দিষ্ট পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতির মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ দ্রুত প্রক্রিয়ার আবেদন করা যেতে পারে।
তবে দ্রুত প্রক্রিয়ার আবেদন করলেই তা অনুমোদিত হবে বা নির্ধারিত সময়ের আগেই সনদ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
নতুন নাগরিকত্ব আইনের উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় নাগরিকদের অধিকারসংক্রান্ত পুরোনো সীমাবদ্ধতা পরিবর্তন করা। কিন্তু আইনের আওতায় নতুন করে অধিকার স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ার সঙ্গে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদনের চাপও বেড়েছে। ফলে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত যাচাই ও নিষ্পত্তি করতে কানাডার অভিবাসন বিভাগ কত দ্রুত প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।





























