যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম, ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে
- প্রকাশঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০
- / 8
ওয়াশিংটন, ১২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল ছিল আবহাওয়া রেকর্ড সংরক্ষণের ১৩২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ। একই সময়ে দেশটির মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে পড়েছে। এতে তীব্র গরমের পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া ও দাবানলের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ৭৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ২০ শতকের গড়ের চেয়ে ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এর আগে ১৯৩৬ ও ২০২১ সালে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রার তুলনায় এবারের গড় তাপমাত্রা ০ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।
আগস্টেও তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। মাসটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের গড় তাপমাত্রা ছিল ৭৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৮৯৫ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ আগস্ট। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড়ও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে খরাও। ১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ এলাকা খরার মধ্যে ছিল। আগস্টের শুরুর তুলনায় এক মাসে খরাকবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। গ্রেট প্লেইনস, উত্তরাঞ্চলীয় সমভূমি, মধ্য-পশ্চিমের কিছু অংশ, দক্ষিণাঞ্চল এবং মিসিসিপি উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় খরা আরও তীব্র হয়েছে।
তবে পুরো দেশজুড়ে বৃষ্টির পরিস্থিতি এক রকম ছিল না। টেক্সাস ও ওকলাহোমার মতো দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওতে আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ।
জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগস্টের মোট বৃষ্টিপাত ছিল ২০০০ সালের পর সবচেয়ে কম আগস্টগুলোর একটি। এর ফলে তাপমাত্রার সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়ার সমন্বয় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খরার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই রেকর্ড উষ্ণতার সময়েই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনো বর্তমানে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং আগামী কয়েক মাসে এটি খুব শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে এর প্রভাব কতটা হবে, তা শুধু এল নিনোর শক্তির ওপর নির্ভর করে না; অন্যান্য জলবায়ুগত কারণও এতে ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সেপ্টেম্বরেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে খরা অব্যাহত থাকা বা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু প্রবণতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিজ্ঞানীদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে নির্দিষ্ট সময়ে তাপপ্রবাহ, খরা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।


























