ঢাকা ০৯:২২ , Sat, ১২ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

দুই হাত ছাড়াই ২০ কিলোমিটার সাঁতার, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়লেন কেরি-লি গোকেল

তথ্যসূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
  • প্রকাশঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১
  • / 10
দুই হাত ছাড়াই গ্রেট কেপেল দ্বীপ ঘিরে ২০.৪ কিলোমিটার সাঁতরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন কেরি-লি গোকেল ছবি: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস

কুইন্সল্যান্ড, ১২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পানিতে চলাচল ও ভেসে থাকার জন্য তাই তাঁকে ভরসা করতে হয় শুধু নিজের দুই পায়ের ওপর। সেই পা দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার কেরি-লি গোকেল সমুদ্রপথে সাঁতার কেটে ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার অতিক্রম করে গড়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

২০২৫ সালের ২১ আগস্ট কুইন্সল্যান্ডের ইয়েপুন উপকূলের কাছে গ্রেট কেপেল দ্বীপ, স্থানীয়ভাবে ওয়পা নামে পরিচিত, চারপাশে সাঁতার কাটেন গোকেল। ৬ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে তিনি ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের এএ৩ শ্রেণিতে এটিই নারীদের দীর্ঘতম সাঁতার।

এএ৩ শ্রেণির নিয়ম অনুযায়ী, সাঁতারুরা প্রয়োজন অনুযায়ী পাখনা বা ভেসে থাকার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন। নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের সহায়তাও নেওয়া যায়। গোকেলের সাঁতারের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জোয়েপ বুইস। তিনি বিপদের সময় নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পানিতে বিরতি নিয়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণের সময় গোকেলকে সহযোগিতা করেন।

দুই হাত না থাকায় গোকেলকে চিত হয়ে সাঁতার কাটতে হয়। পানিতে এগিয়ে যাওয়া এবং শরীর ভাসিয়ে রাখার জন্য তিনি মূলত পা ব্যবহার করেন। জন্মগত অ্যামেলিয়া নামের একটি অবস্থার কারণে তিনি দুই হাত ছাড়াই জন্মেছেন।

তবে এই রেকর্ড একদিনের প্রস্তুতির ফল নয়। ২০০৫ সালে তাঁর সাঁতারের প্রশিক্ষক জেমস তাঁকে উন্মুক্ত পানিতে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেন। এর আগে কয়েক বছর স্থানীয় সুইমিংপুলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই বছরের জুনে প্রথমবার এক কিলোমিটার উন্মুক্ত পানিতে সাঁতার কাটেন গোকেল। এরপর ধীরে ধীরে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারে নিজেকে তৈরি করেন।

২০২২ ও ২০২৩ সালে তিনি ১০ কিলোমিটার করে দুটি সাঁতার সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালে স্বামী পলের সঙ্গে গ্রেট কেপেল দ্বীপ ঘিরে প্রায় ২০ কিলোমিটারের একটি পালাক্রমের সাঁতারে অংশ নেন। সেখানে দুজন পালা করে এক কিলোমিটার করে সাঁতার কাটেন।

এরপর ২০২৫ সালের ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটারের সাঁতারটি ছিল গোকেলের এককভাবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে তিনি তিনটি ১০ কিলোমিটার সাঁতার এবং ১৫ কিলোমিটারের একটি প্রশিক্ষণ সাঁতার সম্পন্ন করেছিলেন। রেকর্ডের দিন যাত্রার প্রথমার্ধে পানির পরিস্থিতি তাঁর অভিজ্ঞতার সবচেয়ে কঠিনগুলোর একটি ছিল।

তবু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে তাঁকে আত্মবিশ্বাসী রেখেছিল পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ। গোকেলের ভাষ্য, কঠোর অনুশীলন, প্রস্তুতির প্রতিটি দিক বিবেচনায় রাখা এবং কঠিন সময়ে নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস তাঁকে এই চ্যালেঞ্জ শেষ করতে সাহায্য করেছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০২৭ সালের বইয়েও গোকেলের এই অর্জন স্থান পাচ্ছে। তিনি আশা করছেন, তাঁর এই রেকর্ড অন্যদেরও নিজেদের সীমাবদ্ধতার ধারণা নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস জোগাবে।

❤️
👏
🙂
😞

দুই হাত ছাড়াই ২০ কিলোমিটার সাঁতার, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়লেন কেরি-লি গোকেল

প্রকাশঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১

কুইন্সল্যান্ড, ১২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পানিতে চলাচল ও ভেসে থাকার জন্য তাই তাঁকে ভরসা করতে হয় শুধু নিজের দুই পায়ের ওপর। সেই পা দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার কেরি-লি গোকেল সমুদ্রপথে সাঁতার কেটে ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার অতিক্রম করে গড়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

২০২৫ সালের ২১ আগস্ট কুইন্সল্যান্ডের ইয়েপুন উপকূলের কাছে গ্রেট কেপেল দ্বীপ, স্থানীয়ভাবে ওয়পা নামে পরিচিত, চারপাশে সাঁতার কাটেন গোকেল। ৬ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে তিনি ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের এএ৩ শ্রেণিতে এটিই নারীদের দীর্ঘতম সাঁতার।

এএ৩ শ্রেণির নিয়ম অনুযায়ী, সাঁতারুরা প্রয়োজন অনুযায়ী পাখনা বা ভেসে থাকার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন। নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের সহায়তাও নেওয়া যায়। গোকেলের সাঁতারের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জোয়েপ বুইস। তিনি বিপদের সময় নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পানিতে বিরতি নিয়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণের সময় গোকেলকে সহযোগিতা করেন।

দুই হাত না থাকায় গোকেলকে চিত হয়ে সাঁতার কাটতে হয়। পানিতে এগিয়ে যাওয়া এবং শরীর ভাসিয়ে রাখার জন্য তিনি মূলত পা ব্যবহার করেন। জন্মগত অ্যামেলিয়া নামের একটি অবস্থার কারণে তিনি দুই হাত ছাড়াই জন্মেছেন।

তবে এই রেকর্ড একদিনের প্রস্তুতির ফল নয়। ২০০৫ সালে তাঁর সাঁতারের প্রশিক্ষক জেমস তাঁকে উন্মুক্ত পানিতে সাঁতার কাটার পরামর্শ দেন। এর আগে কয়েক বছর স্থানীয় সুইমিংপুলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই বছরের জুনে প্রথমবার এক কিলোমিটার উন্মুক্ত পানিতে সাঁতার কাটেন গোকেল। এরপর ধীরে ধীরে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতারে নিজেকে তৈরি করেন।

২০২২ ও ২০২৩ সালে তিনি ১০ কিলোমিটার করে দুটি সাঁতার সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালে স্বামী পলের সঙ্গে গ্রেট কেপেল দ্বীপ ঘিরে প্রায় ২০ কিলোমিটারের একটি পালাক্রমের সাঁতারে অংশ নেন। সেখানে দুজন পালা করে এক কিলোমিটার করে সাঁতার কাটেন।

এরপর ২০২৫ সালের ২০ দশমিক ৪ কিলোমিটারের সাঁতারটি ছিল গোকেলের এককভাবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে তিনি তিনটি ১০ কিলোমিটার সাঁতার এবং ১৫ কিলোমিটারের একটি প্রশিক্ষণ সাঁতার সম্পন্ন করেছিলেন। রেকর্ডের দিন যাত্রার প্রথমার্ধে পানির পরিস্থিতি তাঁর অভিজ্ঞতার সবচেয়ে কঠিনগুলোর একটি ছিল।

তবু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে তাঁকে আত্মবিশ্বাসী রেখেছিল পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ। গোকেলের ভাষ্য, কঠোর অনুশীলন, প্রস্তুতির প্রতিটি দিক বিবেচনায় রাখা এবং কঠিন সময়ে নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস তাঁকে এই চ্যালেঞ্জ শেষ করতে সাহায্য করেছে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০২৭ সালের বইয়েও গোকেলের এই অর্জন স্থান পাচ্ছে। তিনি আশা করছেন, তাঁর এই রেকর্ড অন্যদেরও নিজেদের সীমাবদ্ধতার ধারণা নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস জোগাবে।