ঢাকা ০৯:৩৮ , Sat, ১২ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

বিজ্ঞাপনী আয় ও পাঠক কমায় যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমে বড় ছাঁটাই, ১৭ প্রকাশনায় চাকরি হারালেন ৯০ সাংবাদিক

কাবেরী চক্রবর্তী
  • প্রকাশঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৭
  • / 6
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পর সংকুচিত হচ্ছে একাধিক নিউজরুম ছবি: প্রজন্ম কথা

নিউইয়র্ক, ১২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বড় সংবাদপত্র মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকক্ল্যাচি ১৭টি প্রকাশনায় ৯০ জনের বেশি ইউনিয়নভুক্ত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে। এতে দ্য মিয়ামি হেরাল্ড, দ্য স্যাক্রামেন্টো বি, দ্য কানসাস সিটি স্টার ও দ্য শার্লট অবজারভারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর নিউজরুম সংকুচিত হয়েছে।

নিউজগিল্ড-সিডব্লিউএ জানিয়েছে, ম্যাকক্ল্যাচির ইউনিয়নভুক্ত কর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছেন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন প্রকাশনায় একযোগে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মিয়ামি হেরাল্ডে। সেখানে ৩২টি পদ বিলুপ্ত হয়েছে। একই সময়ে স্প্যানিশ ভাষার এল নুয়েভো হেরাল্ডের পুরো লেখকদল কার্যত ছাঁটাইয়ের আওতায় এসেছে। এতে দক্ষিণ ফ্লোরিডার স্থানীয় এবং স্প্যানিশ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সংবাদ কাভারেজে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ম্যাকক্ল্যাচির অন্যান্য প্রকাশনাতেও ব্যাপক কাটছাঁট হয়েছে। আইডাহো স্টেটসম্যানে ১৮ জন সাংবাদিকের মধ্যে ১০ জনের পদ বিলুপ্ত হয়েছে। লেক্সিংটন হেরাল্ড-লিডারে নিউজরুমের প্রায় অর্ধেক কর্মী হারিয়েছেন। সেন্টার ডেইলি টাইমসেও পাঁচজন প্রতিবেদকের মধ্যে তিনজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

শার্লট অবজারভারে দুইজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের পদও বিলুপ্ত হয়েছে। কানসাস সিটি স্টারে সরকারি জবাবদিহি নিয়ে কাজ করা একাধিক সাংবাদিক ছাঁটাই হয়েছেন। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও সিটি হল, কাউন্টি সরকার ও স্থানীয় স্কুলব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন করা সাংবাদিকের সংখ্যা কমেছে।

ম্যাকক্ল্যাচির স্থানীয় সংবাদ বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ফার্মার কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যেখানে গ্রাহকদের আগ্রহ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে সমর্থন করছে না, সেখানে আগের মাত্রায় বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র শিল্প প্রায় দুই দশক ধরে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুদ্রিত পত্রিকার বিজ্ঞাপন ও গ্রাহকনির্ভর পুরোনো ব্যবসায়িক কাঠামো দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পাঠকের বড় অংশ অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনামূল্যে সংবাদ পড়তে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বড় অংশ গুগল, মেটা ও অন্যান্য প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের দিকে চলে গেছে। ফলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনলাইনে পাঠক বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের নতুন পথ খুঁজতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ছাঁটাই যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদশিল্পের এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

তবে কর্মী কমানোর প্রভাব নিউজরুমের আকার ছোট হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একজন প্রতিবেদক সাধারণত সিটি কাউন্সিল, স্কুল বোর্ড, কাউন্টি সরকার, আদালত, পুলিশ বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।

সাংবাদিকের সংখ্যা কমে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে ধারাবাহিক নজরদারিও দুর্বল হতে পারে। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি। একটি বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে দীর্ঘ সময় ধরে নথি সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান প্রয়োজন হয়।

নিউজগিল্ডের প্রকাশিত তথ্যেও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক ছাঁটাইয়ে সরকারি জবাবদিহি, শিক্ষা, পরিবেশ, স্থানীয় উন্নয়ন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত অনেক পদ বিলুপ্ত হয়েছে।

এই সংকটের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও পড়তে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক কমে গেলে নতুন ব্যবসা, স্থানীয় নির্বাচন, স্কুল, পুলিশি ঘটনা, আদালতের মামলা, অভিবাসন এবং বিভিন্ন কমিউনিটি ইস্যু নিয়মিতভাবে সংবাদে তুলে ধরার সুযোগ কমে যায়।

বাংলাদেশি আমেরিকানদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, স্থানীয় রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সক্ষমতা কমলে এসব সম্প্রদায়ের অনেক বিষয় জাতীয় পর্যায়ের সংবাদে পৌঁছানোর আগেই আঞ্চলিক সংবাদপরিসরে হারিয়ে যেতে পারে।

সাংবাদিকতা শিল্পে একই সময়ে পাঠকের আচরণও দ্রুত বদলেছে। মোবাইল ফোনে দ্রুত সংবাদ পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও এবং ছোট আকারের কনটেন্টের প্রতিযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রগুলোকে নতুন ব্যবসায়িক মডেল খুঁজতে হচ্ছে।

কিছু সংবাদমাধ্যম ডিজিটাল গ্রাহক, সদস্যভিত্তিক সেবা, ভিডিও, পডকাস্ট ও বিশেষ কনটেন্টের ওপর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির মধ্যে রাখার কাজের জন্য সাংবাদিক প্রয়োজন।

ম্যাকক্ল্যাচির সাম্প্রতিক ছাঁটাই তাই একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সাংবাদিকতার দীর্ঘমেয়াদি সংকটেরও একটি উদাহরণ। সংবাদমাধ্যমগুলোকে একদিকে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার পথ খুঁজতে হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবাদিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

❤️
👏
🙂
😞

বিজ্ঞাপনী আয় ও পাঠক কমায় যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমে বড় ছাঁটাই, ১৭ প্রকাশনায় চাকরি হারালেন ৯০ সাংবাদিক

প্রকাশঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫৭

নিউইয়র্ক, ১২ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বড় সংবাদপত্র মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকক্ল্যাচি ১৭টি প্রকাশনায় ৯০ জনের বেশি ইউনিয়নভুক্ত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছে। এতে দ্য মিয়ামি হেরাল্ড, দ্য স্যাক্রামেন্টো বি, দ্য কানসাস সিটি স্টার ও দ্য শার্লট অবজারভারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর নিউজরুম সংকুচিত হয়েছে।

নিউজগিল্ড-সিডব্লিউএ জানিয়েছে, ম্যাকক্ল্যাচির ইউনিয়নভুক্ত কর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছেন। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন প্রকাশনায় একযোগে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মিয়ামি হেরাল্ডে। সেখানে ৩২টি পদ বিলুপ্ত হয়েছে। একই সময়ে স্প্যানিশ ভাষার এল নুয়েভো হেরাল্ডের পুরো লেখকদল কার্যত ছাঁটাইয়ের আওতায় এসেছে। এতে দক্ষিণ ফ্লোরিডার স্থানীয় এবং স্প্যানিশ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সংবাদ কাভারেজে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ম্যাকক্ল্যাচির অন্যান্য প্রকাশনাতেও ব্যাপক কাটছাঁট হয়েছে। আইডাহো স্টেটসম্যানে ১৮ জন সাংবাদিকের মধ্যে ১০ জনের পদ বিলুপ্ত হয়েছে। লেক্সিংটন হেরাল্ড-লিডারে নিউজরুমের প্রায় অর্ধেক কর্মী হারিয়েছেন। সেন্টার ডেইলি টাইমসেও পাঁচজন প্রতিবেদকের মধ্যে তিনজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

শার্লট অবজারভারে দুইজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের পদও বিলুপ্ত হয়েছে। কানসাস সিটি স্টারে সরকারি জবাবদিহি নিয়ে কাজ করা একাধিক সাংবাদিক ছাঁটাই হয়েছেন। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও সিটি হল, কাউন্টি সরকার ও স্থানীয় স্কুলব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন করা সাংবাদিকের সংখ্যা কমেছে।

ম্যাকক্ল্যাচির স্থানীয় সংবাদ বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ফার্মার কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যেখানে গ্রাহকদের আগ্রহ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে সমর্থন করছে না, সেখানে আগের মাত্রায় বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র শিল্প প্রায় দুই দশক ধরে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুদ্রিত পত্রিকার বিজ্ঞাপন ও গ্রাহকনির্ভর পুরোনো ব্যবসায়িক কাঠামো দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পাঠকের বড় অংশ অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনামূল্যে সংবাদ পড়তে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বড় অংশ গুগল, মেটা ও অন্যান্য প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের দিকে চলে গেছে। ফলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনলাইনে পাঠক বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের নতুন পথ খুঁজতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ছাঁটাই যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদশিল্পের এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

তবে কর্মী কমানোর প্রভাব নিউজরুমের আকার ছোট হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একজন প্রতিবেদক সাধারণত সিটি কাউন্সিল, স্কুল বোর্ড, কাউন্টি সরকার, আদালত, পুলিশ বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।

সাংবাদিকের সংখ্যা কমে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে ধারাবাহিক নজরদারিও দুর্বল হতে পারে। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি। একটি বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে দীর্ঘ সময় ধরে নথি সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান প্রয়োজন হয়।

নিউজগিল্ডের প্রকাশিত তথ্যেও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক ছাঁটাইয়ে সরকারি জবাবদিহি, শিক্ষা, পরিবেশ, স্থানীয় উন্নয়ন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত অনেক পদ বিলুপ্ত হয়েছে।

এই সংকটের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও পড়তে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক কমে গেলে নতুন ব্যবসা, স্থানীয় নির্বাচন, স্কুল, পুলিশি ঘটনা, আদালতের মামলা, অভিবাসন এবং বিভিন্ন কমিউনিটি ইস্যু নিয়মিতভাবে সংবাদে তুলে ধরার সুযোগ কমে যায়।

বাংলাদেশি আমেরিকানদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, স্থানীয় রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সক্ষমতা কমলে এসব সম্প্রদায়ের অনেক বিষয় জাতীয় পর্যায়ের সংবাদে পৌঁছানোর আগেই আঞ্চলিক সংবাদপরিসরে হারিয়ে যেতে পারে।

সাংবাদিকতা শিল্পে একই সময়ে পাঠকের আচরণও দ্রুত বদলেছে। মোবাইল ফোনে দ্রুত সংবাদ পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও এবং ছোট আকারের কনটেন্টের প্রতিযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রগুলোকে নতুন ব্যবসায়িক মডেল খুঁজতে হচ্ছে।

কিছু সংবাদমাধ্যম ডিজিটাল গ্রাহক, সদস্যভিত্তিক সেবা, ভিডিও, পডকাস্ট ও বিশেষ কনটেন্টের ওপর গুরুত্ব বাড়াচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির মধ্যে রাখার কাজের জন্য সাংবাদিক প্রয়োজন।

ম্যাকক্ল্যাচির সাম্প্রতিক ছাঁটাই তাই একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সাংবাদিকতার দীর্ঘমেয়াদি সংকটেরও একটি উদাহরণ। সংবাদমাধ্যমগুলোকে একদিকে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার পথ খুঁজতে হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবাদিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।