ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেতে শুধু ৫ বছর বসবাসই যথেষ্ট নয়, যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে– জানুন হোম অফিসের নিয়ম
- প্রকাশঃ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৮
- / 10
লন্ডন, ১২ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় না। যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর চরিত্র, বসবাসের মেয়াদ, দেশের বাইরে অবস্থানের সময়, অভিবাসন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে থাকার পরিকল্পনাসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। এসবের কোনো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ না হলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা সু-চরিত্র। হোম অফিস আবেদনকারীর অপরাধের ইতিহাস, অসততা, কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা এবং অন্যান্য আচরণ বিবেচনা করে এই শর্ত মূল্যায়ন করে। কোনো অপরাধ বা দণ্ডের তথ্য গোপন করা কিংবা আবেদনপত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া নিজেই আবেদনের বিরুদ্ধে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত হতে পারে।
কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়ম কী
বর্তমান নির্দেশনায় ১২ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির আবেদন সাধারণত প্রত্যাখ্যান করা হয়। এখানে আদালত যে মোট কারাদণ্ড দিয়েছেন, সেটিই বিবেচনায় নেওয়া হয়, কারাগারে বাস্তবে কতদিন কাটানো হয়েছে তা নয়। একইভাবে একাধিক ধারাবাহিক কারাদণ্ড মিলিয়ে মোট মেয়াদ ১২ মাস বা তার বেশি হলেও তা বিবেচনায় আসে।
তবে ১২ মাসের কম কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর চরিত্র সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময় পার হলেই নাগরিকত্বের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়, এমন নিয়ম বর্তমানে নেই। আবেদনকারীর অপরাধের ধরন, পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাধারণ ন্যাচারালাইজেশনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে আবেদন করার আগের পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হয়। এই সময়ে যুক্তরাজ্যের বাইরে মোট ৪৫০ দিনের বেশি থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে আবেদনের আগের শেষ ১২ মাসে দেশের বাইরে থাকা ৯০ দিনের বেশি হওয়া যাবে না। আবেদনকারীকে পাঁচ বছরের যোগ্যতাকাল শুরু হওয়ার দিনও যুক্তরাজ্যে উপস্থিত থাকতে হয়।
ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করেছেন বা তাঁর সঙ্গে সিভিল পার্টনারশিপে রয়েছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য যোগ্যতাকাল কম। তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত আবেদনের আগের তিন বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত রয়েছে। এই সময়ে দেশের বাইরে থাকা ২৭০ দিনের বেশি হওয়া উচিত নয় এবং শেষ ১২ মাসে বাইরে থাকার সীমা ৯০ দিন।
এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর আবেদনের নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাজ্যে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার শর্ত রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু বসবাসসংক্রান্ত শর্তে হোম অফিসের বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকতে পারে।
আবেদনের সময় আবেদনকারীর ওপর যুক্তরাজ্যে থাকার মেয়াদের কোনো অভিবাসনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা যাবে না। পাশাপাশি যোগ্যতাকালের মধ্যে অভিবাসন আইন ভঙ্গের বিষয়ও বিবেচনা করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি থাকলে আগের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে হোম অফিস আলাদা তদন্ত না-ও করতে পারে।
নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অভিপ্রায়ও দেখাতে হয়। এর পাশাপাশি ইংরেজি, ওয়েলশ বা স্কটিশ গেইলিক ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো অন্যান্য শর্তও রয়েছে। ব্রিটিশ প্রোটেক্টেড পারসন মর্যাদা ব্রিটিশ নাগরিকত্বের সমান নয়। এই মর্যাদাধারীরা ব্রিটিশ পাসপোর্ট রাখতে পারেন এবং বিদেশে ব্রিটিশ কূটনৈতিক সহায়তা পেতে পারেন, তবে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস বা কাজের অধিকার থাকে না।
বর্তমান হোম অফিস নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্রিটিশ প্রোটেক্টেড পারসন অন্য কোনো জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব অর্জন করলে সাধারণত এই মর্যাদা হারান। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কিছু ব্রিটিশ প্রোটেক্টেড পারসন নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।
তাই ব্রিটিশ নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করাই যথেষ্ট নয়। অপরাধের ইতিহাস, চরিত্র, অভিবাসন আইন মেনে চলা, দেশের বাইরে থাকার সময় এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে থাকার পরিকল্পনাসহ সবগুলো শর্ত একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। আবেদন করার আগে হোম অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।


























