তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
- প্রকাশঃ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৬
- / 6
নিউইয়র্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর, জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং তাঁর অবস্থানের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে স্বাগত ও শান্তি সমাবেশ এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে র্যালির পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ ইনকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অতীতে তারা জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউস ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁর দাবি, এসব কর্মসূচির সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তারা হামলার শিকার হয়েছিলেন।
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো বিক্ষোভ হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন মোতাহার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে জেএফকে বিমানবন্দরে অবস্থান ও শান্তি সমাবেশ করা হবে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার কথাও বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাবলির পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্য, নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে প্রতিহত বা প্রতিরোধ করার অধিকার আওয়ামী লীগের নেই।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দরে বিএনপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাষণের দিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বাগত র্যালি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলটির এক নেতা বলেন, শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে এলে যেভাবে নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানাতেন, এবার তারেক রহমানের আগমনেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কর্মসূচি থাকবে।
ওই নেতা জানান, তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছালে কালো পতাকা প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের এক সমর্থক বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও দলটির কর্মী-সমর্থকদের ওপর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রতিবাদে জাতিসংঘের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে এলে তারা প্রতিবাদ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এমদাদ এইচ ভূঁইয়া বলেন, তারেক রহমান বিমানবন্দরে অবতরণের সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করবেন। পরে তিনি যে হোটেলে থাকবেন, তার সামনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘের সামনে এবং তারেক রহমান যেসব স্থানে যাবেন, সেসব স্থানেও প্রতিবাদ কর্মসূচি রাখার কথা জানান এমদাদ এইচ ভূঁইয়া। তবে এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে বলে দাবি করেন তিনি।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও তারেক রহমানের সফর ঘিরে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত ও শান্তি সমাবেশের প্রস্তুতির খবর এসেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ সময়ের তুলনায় কঠোর থাকে। এবারও ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তারেক রহমানের সফর ঘিরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একই সময় ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মসূচি ঘোষণায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে বিমানবন্দর, জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও সম্ভাব্য অবস্থানস্থলের কাছাকাছি একই সময়ে দুই পক্ষের সমাবেশ হলে পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো হবে, তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার ওপরও নির্ভর করবে।


























