ঢাকা ০৯:৪২ , Wed, ১৬ Sep ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি, আয়োজক ও ব্যয় নিয়ে প্রবাসীদের আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক নিউইয়র্ক
  • প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৮
  • / 6
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবি: প্রজন্ম কথা

নিউইয়র্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয় দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরসূচি অনুযায়ী ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে সানফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের সময় বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এসব বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে, যদিও এ ধরনের বৈঠক নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে।

এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হওয়ায়। ২ জুনের নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশি সরকারপ্রধানদের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের নজির রয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে এমন একটি আয়োজন হবে কি না, হলে এর আয়োজক কারা হবেন এবং কোথায় অনুষ্ঠান হবে, তা নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা চলছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নাগরিক সংবর্ধনার পরিকল্পনার কথা এসেছে। এ বিষয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রস্তুতির কথাও জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত আয়োজন, স্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে সরকারি ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পর তাঁর সানফ্রান্সিসকো সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিউইয়র্ক সফরেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, নিউইয়র্ক কনস্যুলেট থেকে প্রায় এক হাজার অতিথিকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই বাজেট অনুমোদিত হয়েছে কি না বা অনুষ্ঠানটি সরকারি অর্থে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ কম ব্যয়ে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীকে দলীয় পরিচয়ের বাইরে বৃহত্তর প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য এমন একটি আয়োজন করা হলে সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন নেতা ও সমর্থকগোষ্ঠী। তাঁদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের কথাও বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে দলীয় ব্যানারে আয়োজন হলে আয়োজক নির্বাচন, বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় দলীয় সূত্রের দাবি, একটি হোটেল বুকিংয়ের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানটির চূড়ান্ত আয়োজক, স্থান ও অর্থায়নের কাঠামো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে তুলনামূলক সীমিতসংখ্যক সফরসঙ্গী থাকার কথা বলা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ সফরসঙ্গীর সংখ্যা প্রায় ৪০ জনের মধ্যে থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর। এর আগে ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন তিনি। সেই সফরে তৎকালীন বিএনপি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রয়াত মেজর জেনারেল রেজাকুল হায়দার চৌধুরী তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্কের ইতিহাসে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সময়ের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন। ওই অধিবেশনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে এবং ২০০২ ও ২০০৫ সালে যথাক্রমে ৫৭তম ও ৬০তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০২ সালে তিনি শিশু বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনেও অংশ নেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাঁর বিভিন্ন নিউইয়র্ক সফরেও নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। এবার তারেক রহমানকে দেখতে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আসতে পারেন বলে স্থানীয় কমিউনিটি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রবাসীদের একটি অংশের প্রত্যাশা, সংবর্ধনাটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের বাংলাদেশিদের এক জায়গায় নিয়ে আসার বিষয়টিকে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব, বিনিয়োগ, দ্বৈত কর, দেশে ব্যবসা পরিচালনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার মতো বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

তারেক রহমানের এবারের নিউইয়র্ক সফর কেবল প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের আলোচনায় রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ব। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

ফলে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য নাগরিক সংবর্ধনা একই সময়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও প্রবাসী যোগাযোগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসরকে সামনে আনছে।

❤️
👏
🙂
😞

নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি, আয়োজক ও ব্যয় নিয়ে প্রবাসীদের আলোচনা

প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৮

নিউইয়র্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয় দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরসূচি অনুযায়ী ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে সানফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের সময় বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এসব বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে, যদিও এ ধরনের বৈঠক নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে।

এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হওয়ায়। ২ জুনের নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশি সরকারপ্রধানদের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের নজির রয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে এমন একটি আয়োজন হবে কি না, হলে এর আয়োজক কারা হবেন এবং কোথায় অনুষ্ঠান হবে, তা নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা চলছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি নাগরিক সংবর্ধনার পরিকল্পনার কথা এসেছে। এ বিষয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রস্তুতির কথাও জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত আয়োজন, স্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে সরকারি ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পর তাঁর সানফ্রান্সিসকো সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিউইয়র্ক সফরেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, নিউইয়র্ক কনস্যুলেট থেকে প্রায় এক হাজার অতিথিকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই বাজেট অনুমোদিত হয়েছে কি না বা অনুষ্ঠানটি সরকারি অর্থে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্য সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ কম ব্যয়ে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীকে দলীয় পরিচয়ের বাইরে বৃহত্তর প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য এমন একটি আয়োজন করা হলে সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন নেতা ও সমর্থকগোষ্ঠী। তাঁদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের কথাও বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে দলীয় ব্যানারে আয়োজন হলে আয়োজক নির্বাচন, বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় দলীয় সূত্রের দাবি, একটি হোটেল বুকিংয়ের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানটির চূড়ান্ত আয়োজক, স্থান ও অর্থায়নের কাঠামো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরে তুলনামূলক সীমিতসংখ্যক সফরসঙ্গী থাকার কথা বলা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ সফরসঙ্গীর সংখ্যা প্রায় ৪০ জনের মধ্যে থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর। এর আগে ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন তিনি। সেই সফরে তৎকালীন বিএনপি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রয়াত মেজর জেনারেল রেজাকুল হায়দার চৌধুরী তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্কের ইতিহাসে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সময়ের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন। ওই অধিবেশনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে এবং ২০০২ ও ২০০৫ সালে যথাক্রমে ৫৭তম ও ৬০তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০২ সালে তিনি শিশু বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনেও অংশ নেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাঁর বিভিন্ন নিউইয়র্ক সফরেও নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। এবার তারেক রহমানকে দেখতে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আসতে পারেন বলে স্থানীয় কমিউনিটি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রবাসীদের একটি অংশের প্রত্যাশা, সংবর্ধনাটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের বাংলাদেশিদের এক জায়গায় নিয়ে আসার বিষয়টিকে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব, বিনিয়োগ, দ্বৈত কর, দেশে ব্যবসা পরিচালনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার মতো বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

তারেক রহমানের এবারের নিউইয়র্ক সফর কেবল প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের আলোচনায় রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্ব। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

ফলে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য নাগরিক সংবর্ধনা একই সময়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও প্রবাসী যোগাযোগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসরকে সামনে আনছে।