ঢাকা ০৯:৪৭ , Fri, ১৮ Sep ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল, নেপথ্যে ‘তোলাবাজি’ নাকি ব্যয় সাশ্রয়?

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫১
  • / 7
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবি: প্রজন্ম কথা

নিউইয়র্ক, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে সাংগঠনিক বিরোধ ও সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সরকারি উদ্যোগে প্রবাসীদের জন্য নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের আলোচনা থাকলেও সেটি আপাতত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অনুষ্ঠান না করার পেছনে ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়টি সামনে এলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণও এ আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়বেন। সফরকালে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব বৈঠকের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এবারের সাধারণ পরিষদ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আবার কোনো বাংলাদেশি এই দায়িত্ব পেয়েছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের সরকারপ্রধানদের সম্মানে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবর্ধনা আয়োজনের নজির রয়েছে। এবারও এমন একটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার প্রবাসীর অংশগ্রহণ ধরে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি সম্ভাব্য বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ তিন কোটিরও বেশি। তবে এই বাজেট অনুমোদিত হয়েছিল কি না এবং অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেছেন, নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজন করতে কয়েক লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে এত বড় আয়োজন না করে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতা-কর্মী ও প্রবাসীদের সঙ্গে সীমিত পরিসরে দেখা করতে পারেন।

অন্যদিকে, কিছু নেতা-কর্মীর দাবি, ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধও সংবর্ধনা আয়োজনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ২০১১ সালের পর থেকে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নেতৃত্বের কর্তৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন রয়েছে বলে দলটির নেতাদের একাংশের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কে সংবর্ধনা আয়োজন করবে, কোন অঙ্গরাজ্য থেকে কতজন নেতা-কর্মী নিউইয়র্কে আসবেন এবং কারা প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাবেন, এসব বিষয় নিয়েও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন খোকনকে যুক্তরাষ্ট্রে দলের কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কথিত ‘পকেট কমিটি’ গঠন এবং সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সরকারি উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা না হলেও স্থানীয় বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পক্ষ আলাদাভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিউইয়র্কের পাশাপাশি নিউ জার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিউইয়র্কে আনার জন্য যোগাযোগ চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, জাকির এইচ চৌধুরী, এম আর বাশার, ডা. হাফিজ, নাছিম আহমদ, আলহাজ্ব সোলায়মান ভূঁইয়া এবং নিউইয়র্ক কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত এজিএস আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ারসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

এ কারণে কয়েকটি পক্ষ পৃথকভাবে কর্মসূচি আয়োজনের চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন বলেন, তারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকলেও এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি।

তিনি বলেন, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

তারেক রহমানের সফর ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, সংবর্ধনা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের মতো করে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ করে আনোয়ার হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করেছেন তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন নেতা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে সংবর্ধনা বাতিলের সঙ্গে কথিত অর্থ সংগ্রহের অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে দলটির নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতা-কর্মীদের নিউইয়র্কে আনার প্রস্তুতিও চলছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সফরে তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, বৈশ্বিক শান্তি এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভূমিকা তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ ধরনের বৈঠক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর সময়সূচি অনেক সময় শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়।

এদিকে নিউইয়র্কে সরকারি নাগরিক সংবর্ধনা শেষ পর্যন্ত হবে কি না, দলীয় উদ্যোগে বিকল্প কোনো বড় আয়োজন হবে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে।

❤️
👏
🙂
😞

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল, নেপথ্যে ‘তোলাবাজি’ নাকি ব্যয় সাশ্রয়?

প্রকাশঃ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫১

নিউইয়র্ক, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে সাংগঠনিক বিরোধ ও সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সরকারি উদ্যোগে প্রবাসীদের জন্য নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনের আলোচনা থাকলেও সেটি আপাতত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অনুষ্ঠান না করার পেছনে ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়টি সামনে এলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণও এ আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়বেন। সফরকালে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব বৈঠকের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এবারের সাধারণ পরিষদ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আবার কোনো বাংলাদেশি এই দায়িত্ব পেয়েছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের সরকারপ্রধানদের সম্মানে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবর্ধনা আয়োজনের নজির রয়েছে। এবারও এমন একটি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার প্রবাসীর অংশগ্রহণ ধরে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি সম্ভাব্য বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ তিন কোটিরও বেশি। তবে এই বাজেট অনুমোদিত হয়েছিল কি না এবং অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেছেন, নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজন করতে কয়েক লাখ ডলার ব্যয় হতে পারে। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে এত বড় আয়োজন না করে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতা-কর্মী ও প্রবাসীদের সঙ্গে সীমিত পরিসরে দেখা করতে পারেন।

অন্যদিকে, কিছু নেতা-কর্মীর দাবি, ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধও সংবর্ধনা আয়োজনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ২০১১ সালের পর থেকে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নেতৃত্বের কর্তৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন রয়েছে বলে দলটির নেতাদের একাংশের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কে সংবর্ধনা আয়োজন করবে, কোন অঙ্গরাজ্য থেকে কতজন নেতা-কর্মী নিউইয়র্কে আসবেন এবং কারা প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাবেন, এসব বিষয় নিয়েও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন খোকনকে যুক্তরাষ্ট্রে দলের কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কথিত ‘পকেট কমিটি’ গঠন এবং সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সরকারি উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা না হলেও স্থানীয় বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পক্ষ আলাদাভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিউইয়র্কের পাশাপাশি নিউ জার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিউইয়র্কে আনার জন্য যোগাযোগ চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, জাকির এইচ চৌধুরী, এম আর বাশার, ডা. হাফিজ, নাছিম আহমদ, আলহাজ্ব সোলায়মান ভূঁইয়া এবং নিউইয়র্ক কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত এজিএস আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ারসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

এ কারণে কয়েকটি পক্ষ পৃথকভাবে কর্মসূচি আয়োজনের চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন বলেন, তারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকলেও এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি।

তিনি বলেন, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

তারেক রহমানের সফর ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, সংবর্ধনা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের মতো করে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ করে আনোয়ার হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করেছেন তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন নেতা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে সংবর্ধনা বাতিলের সঙ্গে কথিত অর্থ সংগ্রহের অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে দলটির নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতা-কর্মীদের নিউইয়র্কে আনার প্রস্তুতিও চলছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সফরে তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, বৈশ্বিক শান্তি এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভূমিকা তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ ধরনের বৈঠক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর সময়সূচি অনেক সময় শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়।

এদিকে নিউইয়র্কে সরকারি নাগরিক সংবর্ধনা শেষ পর্যন্ত হবে কি না, দলীয় উদ্যোগে বিকল্প কোনো বড় আয়োজন হবে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে।