ঢাকা ০৯:৫৮ , Mon, ২১ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার খরচ বাড়ছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলেও পঞ্চমে বাংলাদেশ

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬
  • / 11
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার খরচ ও স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলেও বাংলাদেশ রয়েছে পঞ্চম বৃহত্তম উৎস দেশের তালিকায় ছবি: সংগৃহীত

সিডনি, ২১ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার খরচ ও স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে যে ভিসা আবেদনের ফি ছিল ৬৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, বর্তমানে সাধারণ আবেদনকারীর জন্য তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলারে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও শিক্ষার্থী পাঠানোর দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো পঞ্চম বৃহত্তম উৎস দেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশটিতে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৮২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কম।

একই সময়ে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৯১ হাজার ৪৬৮ জন নতুন শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শুরু করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কম।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উৎস দেশের হিসাবে চীন সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ২৩ শতাংশ চীনের নাগরিক। এরপর ভারত থেকে ১৬ শতাংশ, নেপাল থেকে ৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই হিসাবে বাংলাদেশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার পঞ্চম বৃহত্তম উৎস দেশ।

অস্ট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় ২২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। সংস্থাটি বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার পঞ্চম বৃহত্তম উৎস বাজার হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। এর অন্যতম বড় পরিবর্তন এসেছে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফিতে। ২০২২ সালে মূল আবেদন ফি ছিল ৬৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। বর্তমানে সাধারণ আবেদনকারীর জন্য এই ফি ২ হাজার ৫০০ ডলার। অর্থাৎ চার বছরে ফি বেড়েছে ১ হাজার ৮৫০ ডলার বা প্রায় ২৮৫ শতাংশ। বর্তমান ফি ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮৫ গুণ।

ভিসা ফির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে হয়। ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।

এর মধ্যেই স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানকে দ্বিতীয় আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ সীমিত করা হবে। একই বা নিচের স্তরের একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার সুযোগও সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থাগুলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। ধারাবাহিক এসব পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস রিপ্রেজেন্টেটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট ওয়েইহং লিয়াং বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কেবল অভিবাসনের পরিসংখ্যান নন। তারা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেন, বসবাস করেন এবং স্থানীয় কমিউনিটির অংশ হয়ে ওঠেন।

ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী লুক শিহিও নীতির ধারাবাহিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা শিক্ষার্থী, দক্ষতা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে অস্ট্রেলিয়াকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের প্রতি আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমার চিত্র সব শিক্ষা খাতে একই নয়। সরকারি হিসাবে উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা খাতে ভর্তি কমেছে ২৭ শতাংশ। সব শিক্ষা খাত মিলিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মোট ভর্তি কমেছে ৮ শতাংশ।

উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অংশ এখন কোর্সওয়ার্কভিত্তিক মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ছেন। এই পর্যায়ে রয়েছেন মোট আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার্থীর ৪৩ শতাংশ। ব্যাচেলর পর্যায়ে রয়েছেন ৪১ শতাংশ।

হোম অ্যাফেয়ার্সের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির মধ্যম সময় ছিল ২১ দিন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ২২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী থাকায় স্টুডেন্ট ভিসার নীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপরও পড়তে পারে।

বিশেষ করে নতুন করে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ফি, টিউশন ফি, স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। পরিবার সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার সিদ্ধান্ত বিবাহিত শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই বা নিচের স্তরের কোর্সে ভর্তি হয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও পরবর্তী কোর্স নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।

ফলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত এখন ভর্তি ও ভিসা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ফি, শিক্ষার ব্যয়, কোর্স নির্বাচন এবং পারিবারিক পরিকল্পনা একসঙ্গে বিবেচনা করার বিষয় হয়ে উঠেছে।

❤️
👏
🙂
😞

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার খরচ বাড়ছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলেও পঞ্চমে বাংলাদেশ

প্রকাশঃ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬

সিডনি, ২১ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার খরচ ও স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে যে ভিসা আবেদনের ফি ছিল ৬৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, বর্তমানে সাধারণ আবেদনকারীর জন্য তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলারে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও শিক্ষার্থী পাঠানোর দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো পঞ্চম বৃহত্তম উৎস দেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশটিতে ৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৮২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কম।

একই সময়ে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৯১ হাজার ৪৬৮ জন নতুন শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শুরু করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কম।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উৎস দেশের হিসাবে চীন সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ২৩ শতাংশ চীনের নাগরিক। এরপর ভারত থেকে ১৬ শতাংশ, নেপাল থেকে ৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই হিসাবে বাংলাদেশ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার পঞ্চম বৃহত্তম উৎস দেশ।

অস্ট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় ২২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। সংস্থাটি বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার পঞ্চম বৃহত্তম উৎস বাজার হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। এর অন্যতম বড় পরিবর্তন এসেছে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফিতে। ২০২২ সালে মূল আবেদন ফি ছিল ৬৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। বর্তমানে সাধারণ আবেদনকারীর জন্য এই ফি ২ হাজার ৫০০ ডলার। অর্থাৎ চার বছরে ফি বেড়েছে ১ হাজার ৮৫০ ডলার বা প্রায় ২৮৫ শতাংশ। বর্তমান ফি ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮৫ গুণ।

ভিসা ফির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে হয়। ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।

এর মধ্যেই স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানকে দ্বিতীয় আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ সীমিত করা হবে। একই বা নিচের স্তরের একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার সুযোগও সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থাগুলো আগামী ১২ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। ধারাবাহিক এসব পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস রিপ্রেজেন্টেটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট ওয়েইহং লিয়াং বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কেবল অভিবাসনের পরিসংখ্যান নন। তারা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেন, বসবাস করেন এবং স্থানীয় কমিউনিটির অংশ হয়ে ওঠেন।

ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী লুক শিহিও নীতির ধারাবাহিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা শিক্ষার্থী, দক্ষতা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে অস্ট্রেলিয়াকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের প্রতি আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমার চিত্র সব শিক্ষা খাতে একই নয়। সরকারি হিসাবে উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা খাতে ভর্তি কমেছে ২৭ শতাংশ। সব শিক্ষা খাত মিলিয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মোট ভর্তি কমেছে ৮ শতাংশ।

উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অংশ এখন কোর্সওয়ার্কভিত্তিক মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ছেন। এই পর্যায়ে রয়েছেন মোট আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার্থীর ৪৩ শতাংশ। ব্যাচেলর পর্যায়ে রয়েছেন ৪১ শতাংশ।

হোম অ্যাফেয়ার্সের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির মধ্যম সময় ছিল ২১ দিন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ২২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী থাকায় স্টুডেন্ট ভিসার নীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপরও পড়তে পারে।

বিশেষ করে নতুন করে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ফি, টিউশন ফি, স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। পরিবার সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার সিদ্ধান্ত বিবাহিত শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই বা নিচের স্তরের কোর্সে ভর্তি হয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও পরবর্তী কোর্স নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম বিবেচনা করতে হবে।

ফলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত এখন ভর্তি ও ভিসা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ফি, শিক্ষার ব্যয়, কোর্স নির্বাচন এবং পারিবারিক পরিকল্পনা একসঙ্গে বিবেচনা করার বিষয় হয়ে উঠেছে।