যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের শর্ত কঠোর হচ্ছে, অপেক্ষা ৫ থেকে ১০ বছর করার পরিকল্পনা
- প্রকাশঃ ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৩২
- / 3
লন্ডন, ২ নভেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে স্থায়ী আবাসনের যোগ্যতা অর্জনের অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হতে পারে। আর নির্দিষ্ট কিছু কম বেতনের পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য তা ১৫ বছর পর্যন্ত নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই কর্মরত পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় হাউস অব কমন্সে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ‘অর্জিত স্থায়ী আবাসন’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব প্রকাশ করে সরকার। এতে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী আবাসনের অনুমতি পাওয়ার পরিবর্তে আবেদনকারীর কাজ, অর্থনৈতিক অবদান, আচরণ ও সমাজে একীভূত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনার পরিকল্পনা করা হয়। প্রস্তাবের মূল কাঠামোয় অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর এবং নির্দিষ্ট কম দক্ষতার পেশায় কর্মরতদের জন্য ১৫ বছর করার কথা বলা হয়েছিল।
প্রস্তাবটি নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেও আপত্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময় ১৫ বছর করা হলে কর্মীসংকট আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট খাতের নিয়োগকর্তা, শ্রমিক সংগঠন ও দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার আগে বলেছিলেন, নিয়মিতভাবে শর্ত পরিবর্তন করে অপেক্ষার সময় বাড়ানো ন্যায্যতার ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শতাধিক লেবার সংসদ সদস্যও প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে কর্মরত পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে ১৫ বছরের অপেক্ষার প্রস্তাব থেকে সরকার সরে আসতে পারে। তবে নতুন করে এ খাতে আসা কর্মীদের জন্য কী নিয়ম থাকবে, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে কী শর্ত প্রযোজ্য হবে এবং আগে থেকে যুক্তরাজ্যে থাকা অন্য কর্মীদের জন্য কোনো অন্তর্বর্তী সুরক্ষা রাখা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার পর এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্থায়ী আবাসনের যোগ্যতা নির্ধারণে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে: আবেদনকারীর চরিত্র ও আইন মেনে চলা, ব্রিটিশ সমাজে সম্পৃক্ততা, অর্থনৈতিক অবদান এবং যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসের ধারাবাহিকতা। এসব শর্ত পূরণের ভিত্তিতে কারও অপেক্ষার সময় কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ ১০ বছরকে সাধারণ ভিত্তি ধরা হলেও নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অবদানের ভিত্তিতে সময়সীমায় পরিবর্তন আসতে পারে।
পরিকল্পনাটি যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে বসবাসরত বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে বলে আগে জানানো হয়েছিল। ফলে যাঁরা পাঁচ বছর পূর্ণ করে আইএলআরের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পুরোনো নিয়মে আবেদন করার যোগ্যতা অর্জনকারীদের জন্য কী ধরনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা থাকবে, তা চূড়ান্ত ঘোষণায় স্পষ্ট হওয়ার কথা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, স্থায়ী আবাসনের অধিকার দীর্ঘমেয়াদি অবদান ও সমাজে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে অর্জিত হওয়া উচিত। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রতিটি দিক তিনি সমর্থন করছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাননি। অন্যদিকে জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াট্টা ফানবুলেহসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা পরিচর্যা খাতের কর্মীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়ে সরাসরি সমর্থন দিতে অনীহা দেখিয়েছেন।
সরকারের যুক্তি, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা ভিসার মাধ্যমে আসা বিপুলসংখ্যক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য আগামী কয়েক বছরে স্থায়ী আবাসনের যোগ্য হতে পারেন। এই চাপ সামাল দিতে এবং অভিবাসনব্যবস্থায় অর্থনৈতিক অবদানকে গুরুত্ব দিতে নতুন নিয়ম প্রয়োজন। তবে পরিচর্যা খাতের নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, অপেক্ষার সময় বাড়লে বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাজ্যে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন এবং বর্তমানে কর্মরত অনেকে অন্য দেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
গত বছর প্রকাশিত প্রস্তাবের ওপর প্রায় দুই লাখের বেশি মতামত জমা পড়ে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি পরামর্শ গ্রহণের সময় শেষ হওয়ার পর সরকার সেগুলো পর্যালোচনা করছে। চূড়ান্ত নীতিমালা ঘোষণার আগে অর্থনৈতিক ও সমতাসংক্রান্ত প্রভাবও মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবারের ঘোষণার দিকে এখন নজর যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী থেকে কর্মী ভিসায় যাওয়া অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের। বিশেষ করে যাঁরা পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য নতুন নিয়মের কার্যকর তারিখ ও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পরবর্তী অভিবাসন বিধি প্রকাশের আগে কার ক্ষেত্রে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি

















