ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রশংসাপত্র পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি
- প্রকাশঃ ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২৭
- / 0
প্যারিস, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা) – ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ইতিহাস, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আলোকচিত্রে তুলে ধরে প্রকাশিত গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও লেখক ফরিদ আহাম্মদ রনি। বইটি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে উপহার দেওয়ার প্রায় এক বছর পর রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। চিঠিতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদারে তাঁর কাজের স্বীকৃতির কথাও উল্লেখ রয়েছে।
২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে নিজের প্রকাশিত গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ তুলে দেন ফরিদ আহাম্মদ রনি। প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিল্পকলা, নগরজীবন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে তৈরি বইটি তাঁর দীর্ঘদিনের আলোকচিত্রচর্চার একটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা।
লেখকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। এতে বইটি উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক পরিচিতি তুলে ধরার উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও তাঁর কাজের অবদান স্বীকার করা হয়েছে।
এর আগে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এবং প্যারিসের মেয়র দপ্তর থেকেও বইটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও প্রশংসাপত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন রনি। ‘প্যারিসের ছবি’ গ্রন্থে ফ্রান্সের রাজধানীর ইতিহাস, স্থাপত্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরা হয়েছে। এতে আইফেল টাওয়ার, লুভর জাদুঘর, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভাস্কর্য এবং নগরজীবনের নানা দৃশ্য স্থান পেয়েছে।
বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত বইটি বিভিন্ন ভাষাভাষী পাঠকের কাছে প্যারিসের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তৈরি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনেও বইটির বহুভাষিক প্রকাশনা এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি উঠে আসে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্নে ইদালগোর কাছেও বইটি উপহার দিয়েছেন রনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চেঞ্জনাও সম্মেলনে মোনাকোর যুবরাজ দ্বিতীয় আলবার্ট, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিংয়ের হাতেও বইটি পৌঁছে দেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের জুনে প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার এবং একই বছরের আগস্টে ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের কাছেও গ্রন্থটি উপহার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই আলোকচিত্রী।
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে শিল্প, সাহিত্য, আলোকচিত্র ও অন্যান্য সৃজনশীল উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। ফরিদ আহাম্মদ রনির ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ। একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর চোখে ফ্রান্সের রাজধানীর ইতিহাস ও সৌন্দর্য তুলে ধরার মধ্য দিয়ে বইটি আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে বাংলাদেশের সৃজনশীল কাজ পরিচিত করারও সুযোগ তৈরি করেছে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া চিঠি তাঁর এই উদ্যোগকে নতুন স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও প্রকাশনা জগতের একজন সৃজনশীল ব্যক্তির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।


























