ঢাকা ০৯:২৭ , Sun, ১৮ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য কোন পথ খোলা?

জাহিদুল ইসলাম অস্ট্রেলিয়া
  • প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬
  • / 12
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে কড়াকড়ির মধ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া, ১৮ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করা, দেশটির ভেতর থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন বন্ধ করা এবং আবেদন ফি বাড়িয়ে প্রায় আড়াই হাজার ডলারে উন্নীত করার মতো পদক্ষেপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে শিক্ষার্থী ভিসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২৭ সালের জন্য নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পিত সীমা ২ লাখ ৯৫ হাজার রাখা হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা বাতিল না করে আবেদনপ্রক্রিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও আর্থিক প্রস্তুতির বিষয়ে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ২০২৭ সালের জন্যও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পিত সীমা ২ লাখ ৯৫ হাজার রাখা হয়েছে।

দেশটির অর্থনীতি ও সেবা খাত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তবে আগের মতো নির্বিচারে আবেদন করার পরিবর্তে কৌশলগতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্স নির্বাচন করা জরুরি। ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থের উৎস এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কড়াকড়ি বাড়ার পেছনে আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব বিষয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর নীতি অনুসরণ করছে।

অন্যদিকে, বিরোধী জোট আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করা এবং অস্থায়ী স্নাতক ভিসার সুযোগ প্রায় তুলে দেওয়া।

তবে এসব প্রস্তাব এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। ফলে সরকারের কার্যকর নীতি ও বিরোধী দলের প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উপসচিব ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আবুল রিজভীর মতে, বর্তমান নীতিগত কড়াকড়ির পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারের প্রভাব রয়েছে। তাঁর মূল্যায়ন, আবাসন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার দায় আড়াল করতে সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে অভিবাসন নীতিতে আবার ভারসাম্য আসতে পারে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন কখন ঘটবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অভিবাসন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক চাপ কমতে পারে। তবে আগের মতো সহজে ভিসা পাওয়ার পরিবেশ ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নিবন্ধিত অভিবাসন পরামর্শক মোহাম্মদ নিজামউদ্দীনের ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত বেসরকারি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস এবং স্বল্পমূল্যের ডিপ্লোমা প্রদানকারী কিছু প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সতর্কভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় বা পরিবারের সম্পদ বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের মান, কোর্সের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভিসাসংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কম খরচকে একমাত্র বিবেচ্য না করে শিক্ষার মান এবং নিজের শিক্ষাগত ও পেশাগত লক্ষ্যের সঙ্গে কোর্সের সামঞ্জস্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়নি। প্রথম সারির সরকারি ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির যোগ্যতা পূরণকারী প্রকৃত শিক্ষার্থীরা এখনো ভিসা পাচ্ছেন। অর্থাৎ, সব আবেদনকারীর জন্য একই ধরনের বাধা তৈরি হয়নি। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, আবেদনপত্রের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মানের ওপর ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।

এ কারণে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থের উৎস এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্স সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে আবেদন প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি বেড়ে প্রায় আড়াই হাজার ডলারে পৌঁছানোয় আবেদনকারীদের আর্থিক ঝুঁকিও বেড়েছে। ভিসা আবেদন বাতিল হলে এই ফি ফেরত পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন অভিবাসন পরামর্শক মোহাম্মদ নিজামউদ্দীন। তাঁর পরামর্শ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থের উৎসের স্বচ্ছতা কিংবা ইংরেজি ভাষার দক্ষতায় ঘাটতি থাকলে আবেদন করার আগে সেসব দুর্বলতা চিহ্নিত করা উচিত। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া আবেদন করলে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সীমিত সঞ্চয় ব্যয় করতে প্রস্তুত, তাদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সম্ভাব্য খরচ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মানসম্পন্ন ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতা সংশ্লিষ্ট কোর্সের শর্ত পূরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, অর্থের উৎস ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে।

এ ছাড়া ভিসা নীতির কার্যকর বিধান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। কোনো প্রস্তাবকে কার্যকর আইন ধরে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি ভিসা পাওয়ার সুযোগ আগের মতোই রয়েছে বলে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। উচ্চ আবেদন ফি এবং ভিসা প্রত্যাখ্যানের আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করার পর আবেদন করাই হবে বিচক্ষণ পদক্ষেপ।

❤️
👏
🙂
😞

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য কোন পথ খোলা?

প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬

অস্ট্রেলিয়া, ১৮ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করা, দেশটির ভেতর থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন বন্ধ করা এবং আবেদন ফি বাড়িয়ে প্রায় আড়াই হাজার ডলারে উন্নীত করার মতো পদক্ষেপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে শিক্ষার্থী ভিসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২৭ সালের জন্য নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পিত সীমা ২ লাখ ৯৫ হাজার রাখা হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা বাতিল না করে আবেদনপ্রক্রিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও আর্থিক প্রস্তুতির বিষয়ে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ২০২৭ সালের জন্যও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পিত সীমা ২ লাখ ৯৫ হাজার রাখা হয়েছে।

দেশটির অর্থনীতি ও সেবা খাত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তবে আগের মতো নির্বিচারে আবেদন করার পরিবর্তে কৌশলগতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্স নির্বাচন করা জরুরি। ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থের উৎস এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কড়াকড়ি বাড়ার পেছনে আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব বিষয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর নীতি অনুসরণ করছে।

অন্যদিকে, বিরোধী জোট আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করা এবং অস্থায়ী স্নাতক ভিসার সুযোগ প্রায় তুলে দেওয়া।

তবে এসব প্রস্তাব এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। ফলে সরকারের কার্যকর নীতি ও বিরোধী দলের প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উপসচিব ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আবুল রিজভীর মতে, বর্তমান নীতিগত কড়াকড়ির পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারের প্রভাব রয়েছে। তাঁর মূল্যায়ন, আবাসন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার দায় আড়াল করতে সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে অভিবাসন নীতিতে আবার ভারসাম্য আসতে পারে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন কখন ঘটবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচন ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অভিবাসন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক চাপ কমতে পারে। তবে আগের মতো সহজে ভিসা পাওয়ার পরিবেশ ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

নিবন্ধিত অভিবাসন পরামর্শক মোহাম্মদ নিজামউদ্দীনের ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত বেসরকারি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস এবং স্বল্পমূল্যের ডিপ্লোমা প্রদানকারী কিছু প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সতর্কভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় বা পরিবারের সম্পদ বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের মান, কোর্সের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভিসাসংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কম খরচকে একমাত্র বিবেচ্য না করে শিক্ষার মান এবং নিজের শিক্ষাগত ও পেশাগত লক্ষ্যের সঙ্গে কোর্সের সামঞ্জস্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়নি। প্রথম সারির সরকারি ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির যোগ্যতা পূরণকারী প্রকৃত শিক্ষার্থীরা এখনো ভিসা পাচ্ছেন। অর্থাৎ, সব আবেদনকারীর জন্য একই ধরনের বাধা তৈরি হয়নি। শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, আবেদনপত্রের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মানের ওপর ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে।

এ কারণে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থের উৎস এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোর্স সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে আবেদন প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি বেড়ে প্রায় আড়াই হাজার ডলারে পৌঁছানোয় আবেদনকারীদের আর্থিক ঝুঁকিও বেড়েছে। ভিসা আবেদন বাতিল হলে এই ফি ফেরত পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন অভিবাসন পরামর্শক মোহাম্মদ নিজামউদ্দীন। তাঁর পরামর্শ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থের উৎসের স্বচ্ছতা কিংবা ইংরেজি ভাষার দক্ষতায় ঘাটতি থাকলে আবেদন করার আগে সেসব দুর্বলতা চিহ্নিত করা উচিত। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া আবেদন করলে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সীমিত সঞ্চয় ব্যয় করতে প্রস্তুত, তাদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সম্ভাব্য খরচ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মানসম্পন্ন ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতা সংশ্লিষ্ট কোর্সের শর্ত পূরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, অর্থের উৎস ও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে।

এ ছাড়া ভিসা নীতির কার্যকর বিধান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। কোনো প্রস্তাবকে কার্যকর আইন ধরে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি ভিসা পাওয়ার সুযোগ আগের মতোই রয়েছে বলে ধরে নেওয়াও ঠিক হবে না।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। উচ্চ আবেদন ফি এবং ভিসা প্রত্যাখ্যানের আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতা, প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করার পর আবেদন করাই হবে বিচক্ষণ পদক্ষেপ।