ঢাকা ১০:৫৩ , Mon, ০৫ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি কর্মী আনার সুযোগ, যেভাবে মিলবে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা

আয়ান সরকার
  • প্রকাশঃ ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪
  • / 12
যুক্তরাজ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের যোগ্য কর্মীদের জন্য এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন, ৫ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – লন্ডন: বিদেশি কোনও প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যে নতুন কার্যক্রম শুরু বা ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক ও বিশেষজ্ঞ কর্মীদের যুক্তরাজ্যে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে ‘এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা’ রুটে। গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ব্যবস্থার আওতাভুক্ত এই ভিসা ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল চালু হয় এবং আগের ওভারসিজ বিজনেসের প্রতিনিধি ভিসার পরিবর্তে এটি চালু করা হয়।

ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভিসায় প্রথমবার সর্বোচ্চ এক বছরের অনুমতি পাওয়া যায়। পরে আরও এক বছরের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। তবে এই রুটে টানা সর্বোচ্চ দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকা যায়। অন্যান্য নির্দিষ্ট গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ও ইন্ট্রা-কোম্পানি রুটে কাটানো সময়সহ ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর থাকার সীমা রয়েছে।

স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নেই

এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। পাঁচ বছরের বেশি যুক্তরাজ্যে থাকতে চাইলে সাধারণত অন্য কোনও অভিবাসন রুটে যেতে হবে। এর মধ্যে স্কিল্ড ওয়ার্কার রুট অন্যতম।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সর্বোচ্চ ১০ জন এক্সপ্যানশন ওয়ার্কারকে স্পনসর করতে পারে। এর আগে এই সংখ্যা ছিল পাঁচজন। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ করা হয়। এই ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাজ্যে আনতে পারেন।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পনসর লাইসেন্স প্রয়োজন

এই ভিসায় কর্মী পাঠাতে হলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে যুক্তরাজ্যের এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার স্পনসর লাইসেন্স নিতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটি যদি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে, তাহলে এই রুট ব্যবহার করা যাবে না। সেক্ষেত্রে স্কিল্ড ওয়ার্কার বা সিনিয়র অ্যান্ড স্পেশালিস্ট ওয়ার্কারসহ অন্য রুট বিবেচনা করতে হবে।

স্পনসর প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাজ্যে প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উপস্থিতির প্রমাণ দিতে হবে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যালয় নিশ্চিত করা অথবা কোম্পানিজ হাউসে শাখা বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের মতো বিষয় থাকতে পারে। সাধারণভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটিকে অন্তত তিন বছর ধরে বিদেশে সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রম রয়েছে।

আবেদনকারীর আগের চাকরির অভিজ্ঞতা

ভিসার আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগে থেকেই কাজ করতে হবে। সাধারণ নিয়মে যুক্তরাজ্যের বাইরে ওই প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ মাস ধারাবাহিকভাবে কাজ করার শর্ত রয়েছে। তবে বছরে কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৯০০ পাউন্ড আয় করা উচ্চ আয়ের কর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই শর্তে ছাড় রয়েছে।

চাকরিটির দক্ষতার মানও নির্দিষ্ট হতে হবে। সাধারণভাবে পদটি আরকিউএফ লেভেল ৬ বা তার বেশি, অর্থাৎ ডিগ্রি পর্যায়ের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। হোম অফিস প্রয়োজন মনে করলে আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট দক্ষতার কাজ করবেন কি না এবং তাঁর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রস্তাবিত পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে পারে।

বেতনের শর্ত

এই ভিসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বেতন। আবেদনকারীর বার্ষিক বেতন কমপক্ষে ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ড হতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’ যদি ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই উচ্চতর বেতনসীমা পূরণ করতে হবে।

চাকরিটি বাস্তব হতে হবে এবং স্পনসর যে পদে নিয়োগ দিয়েছে, আবেদনকারীর সেই পদেই কাজ করার উদ্দেশ্য থাকতে হবে। প্রয়োজন মনে করলে হোম অফিস অতিরিক্ত নথি চাইতে বা আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট চাকরি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকেও রুট পরিবর্তনের সুযোগ

নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন রুট থেকে যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকেই এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় পরিবর্তন করা যায়। তবে কেউ সর্বশেষ ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলে দেশটির ভেতর থেকে এই রুটে পরিবর্তন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে। শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি রুটের ক্ষেত্রেও আলাদা বিধিনিষেধ রয়েছে।

আবেদনের জন্য সাধারণত স্পনসরশিপের সনদ প্রয়োজন হয়। এতে আবেদনকারীর নাম, চাকরির পদ, বেতন, কাজ শুরুর তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। সনদে উল্লেখ করা কাজ শুরুর তারিখের তিন মাসের বেশি আগে ভিসার আবেদন করা যায় না।

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

আবেদনকারীকে নিজের আর্থিক সক্ষমতারও প্রমাণ দিতে হয়। সাধারণ নিয়মে কমপক্ষে ১ হাজার ২৭০ পাউন্ড অর্থ টানা ২৮ দিন নিজের কাছে থাকার প্রমাণ দেখাতে হয়। তবে কেউ যদি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে অবস্থান করেন, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে এই অর্থের প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

ভিসা ও অন্যান্য ফি

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসার স্পনসরশিপের সনদের ফি ৫৫ পাউন্ড এবং ভিসা আবেদনের ফি ৩৪০ পাউন্ড। এর সঙ্গে বছরে ১ হাজার ৩৫ পাউন্ড ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ দিতে হয়। স্পনসর লাইসেন্সের ফি ৬১১ পাউন্ড। এই রুটে ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ দিতে হয় না।

ভিসা অনুমোদিত হলে আবেদনকারী ইভিসা পাবেন। তিনি স্পনসরশিপের সনদে উল্লেখ করা কাজ করতে পারবেন। পাশাপাশি পড়াশোনা ও স্বেচ্ছাসেবী কাজও করা যায়। তবে অতিরিক্ত চাকরি করার অনুমতি নেই এবং সরকারি তহবিল বা পাবলিক ফান্ড ব্যবহারের সুযোগও থাকে না।

সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই রুটে স্পনসর

ফ্রি মুভমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে কাজ ও পড়াশোনার জন্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা স্পনসর হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। তবে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার রুটে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই রুট তুলনামূলকভাবে জটিল। তাই আবেদন করার আগে স্কিল্ড ওয়ার্কার, গ্লোবাল ট্যালেন্ট বা হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়ালসহ বিকল্প অভিবাসন রুটগুলোও বিবেচনা করা যেতে পারে।

এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা মূলত এমন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা যুক্তরাজ্যে নতুন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে চায় এবং সেই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজেদের অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপক বা বিশেষজ্ঞ কর্মী পাঠাতে চায়। তবে এটি সরাসরি স্থায়ী বসবাসের পথ নয় এবং আবেদনকারীর পাশাপাশি স্পনসর প্রতিষ্ঠাকেও বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।

সূত্র: ফ্রি মুভমেন্ট

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাজ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণে বিদেশি কর্মী আনার সুযোগ, যেভাবে মিলবে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা

প্রকাশঃ ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪

লন্ডন, ৫ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – লন্ডন: বিদেশি কোনও প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যে নতুন কার্যক্রম শুরু বা ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক ও বিশেষজ্ঞ কর্মীদের যুক্তরাজ্যে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে ‘এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা’ রুটে। গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ব্যবস্থার আওতাভুক্ত এই ভিসা ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল চালু হয় এবং আগের ওভারসিজ বিজনেসের প্রতিনিধি ভিসার পরিবর্তে এটি চালু করা হয়।

ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভিসায় প্রথমবার সর্বোচ্চ এক বছরের অনুমতি পাওয়া যায়। পরে আরও এক বছরের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। তবে এই রুটে টানা সর্বোচ্চ দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকা যায়। অন্যান্য নির্দিষ্ট গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ও ইন্ট্রা-কোম্পানি রুটে কাটানো সময়সহ ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর থাকার সীমা রয়েছে।

স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নেই

এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। পাঁচ বছরের বেশি যুক্তরাজ্যে থাকতে চাইলে সাধারণত অন্য কোনও অভিবাসন রুটে যেতে হবে। এর মধ্যে স্কিল্ড ওয়ার্কার রুট অন্যতম।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান একই সময়ে সর্বোচ্চ ১০ জন এক্সপ্যানশন ওয়ার্কারকে স্পনসর করতে পারে। এর আগে এই সংখ্যা ছিল পাঁচজন। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ করা হয়। এই ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাজ্যে আনতে পারেন।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পনসর লাইসেন্স প্রয়োজন

এই ভিসায় কর্মী পাঠাতে হলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে যুক্তরাজ্যের এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার স্পনসর লাইসেন্স নিতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটি যদি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে, তাহলে এই রুট ব্যবহার করা যাবে না। সেক্ষেত্রে স্কিল্ড ওয়ার্কার বা সিনিয়র অ্যান্ড স্পেশালিস্ট ওয়ার্কারসহ অন্য রুট বিবেচনা করতে হবে।

স্পনসর প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাজ্যে প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উপস্থিতির প্রমাণ দিতে হবে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যালয় নিশ্চিত করা অথবা কোম্পানিজ হাউসে শাখা বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের মতো বিষয় থাকতে পারে। সাধারণভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটিকে অন্তত তিন বছর ধরে বিদেশে সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এর ব্যতিক্রম রয়েছে।

আবেদনকারীর আগের চাকরির অভিজ্ঞতা

ভিসার আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগে থেকেই কাজ করতে হবে। সাধারণ নিয়মে যুক্তরাজ্যের বাইরে ওই প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ মাস ধারাবাহিকভাবে কাজ করার শর্ত রয়েছে। তবে বছরে কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৯০০ পাউন্ড আয় করা উচ্চ আয়ের কর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই শর্তে ছাড় রয়েছে।

চাকরিটির দক্ষতার মানও নির্দিষ্ট হতে হবে। সাধারণভাবে পদটি আরকিউএফ লেভেল ৬ বা তার বেশি, অর্থাৎ ডিগ্রি পর্যায়ের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। হোম অফিস প্রয়োজন মনে করলে আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট দক্ষতার কাজ করবেন কি না এবং তাঁর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রস্তাবিত পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে পারে।

বেতনের শর্ত

এই ভিসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বেতন। আবেদনকারীর বার্ষিক বেতন কমপক্ষে ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ড হতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’ যদি ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই উচ্চতর বেতনসীমা পূরণ করতে হবে।

চাকরিটি বাস্তব হতে হবে এবং স্পনসর যে পদে নিয়োগ দিয়েছে, আবেদনকারীর সেই পদেই কাজ করার উদ্দেশ্য থাকতে হবে। প্রয়োজন মনে করলে হোম অফিস অতিরিক্ত নথি চাইতে বা আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট চাকরি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকেও রুট পরিবর্তনের সুযোগ

নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন রুট থেকে যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকেই এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় পরিবর্তন করা যায়। তবে কেউ সর্বশেষ ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলে দেশটির ভেতর থেকে এই রুটে পরিবর্তন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে। শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি রুটের ক্ষেত্রেও আলাদা বিধিনিষেধ রয়েছে।

আবেদনের জন্য সাধারণত স্পনসরশিপের সনদ প্রয়োজন হয়। এতে আবেদনকারীর নাম, চাকরির পদ, বেতন, কাজ শুরুর তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। সনদে উল্লেখ করা কাজ শুরুর তারিখের তিন মাসের বেশি আগে ভিসার আবেদন করা যায় না।

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

আবেদনকারীকে নিজের আর্থিক সক্ষমতারও প্রমাণ দিতে হয়। সাধারণ নিয়মে কমপক্ষে ১ হাজার ২৭০ পাউন্ড অর্থ টানা ২৮ দিন নিজের কাছে থাকার প্রমাণ দেখাতে হয়। তবে কেউ যদি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে অবস্থান করেন, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে এই অর্থের প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

ভিসা ও অন্যান্য ফি

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসার স্পনসরশিপের সনদের ফি ৫৫ পাউন্ড এবং ভিসা আবেদনের ফি ৩৪০ পাউন্ড। এর সঙ্গে বছরে ১ হাজার ৩৫ পাউন্ড ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ দিতে হয়। স্পনসর লাইসেন্সের ফি ৬১১ পাউন্ড। এই রুটে ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ দিতে হয় না।

ভিসা অনুমোদিত হলে আবেদনকারী ইভিসা পাবেন। তিনি স্পনসরশিপের সনদে উল্লেখ করা কাজ করতে পারবেন। পাশাপাশি পড়াশোনা ও স্বেচ্ছাসেবী কাজও করা যায়। তবে অতিরিক্ত চাকরি করার অনুমতি নেই এবং সরকারি তহবিল বা পাবলিক ফান্ড ব্যবহারের সুযোগও থাকে না।

সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই রুটে স্পনসর

ফ্রি মুভমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে কাজ ও পড়াশোনার জন্য প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা স্পনসর হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। তবে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার রুটে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৮০০।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এই রুট তুলনামূলকভাবে জটিল। তাই আবেদন করার আগে স্কিল্ড ওয়ার্কার, গ্লোবাল ট্যালেন্ট বা হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়ালসহ বিকল্প অভিবাসন রুটগুলোও বিবেচনা করা যেতে পারে।

এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা মূলত এমন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা যুক্তরাজ্যে নতুন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে চায় এবং সেই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজেদের অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপক বা বিশেষজ্ঞ কর্মী পাঠাতে চায়। তবে এটি সরাসরি স্থায়ী বসবাসের পথ নয় এবং আবেদনকারীর পাশাপাশি স্পনসর প্রতিষ্ঠাকেও বেশ কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।

সূত্র: ফ্রি মুভমেন্ট