২০২৭ সালে বদলাচ্ছে আয়করের হিসাব, বাড়ল করছাড়, এবার কার কত দিতে হবে?
- প্রকাশঃ ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৭
- / 2
ওয়াশিংটন, ৭ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ করবর্ষের জন্য আয়করের সীমা, মানক করছাড় ও বিভিন্ন করসুবিধার পরিমাণ ঘোষণা করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় ৭০টি করসংক্রান্ত বিধানের সীমা সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে একক করদাতাদের মানক করছাড় বেড়ে ১৬ হাজার ৬০০ ডলার এবং যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে ৩৩ হাজার ২০০ ডলার হয়েছে। পাশাপাশি শিশু কর রেয়াত, বয়স্ক নাগরিকদের অতিরিক্ত করছাড় এবং কর্মজীবীদের বিভিন্ন সুবিধার সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়মগুলো ২০২৭ সালে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের আয়ের বিপরীতে ২০২৮ সালে যে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া হবে, সেখানে এসব পরিবর্তন কার্যকর হবে। ফলে ২০২৬ সালে অর্জিত আয়ের জন্য ২০২৭ সালে জমা দেওয়া কর বিবরণীতে আগের নিয়মই প্রযোজ্য থাকবে।
কার কত মানক করছাড়?
নতুন ঘোষণায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে মানক করছাড়ের পরিমাণে। ২০২৭ করবর্ষে একক করদাতা এবং বিবাহিত হয়েও আলাদাভাবে কর বিবরণী জমা দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য এই ছাড় ১৬ হাজার ৬০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এ পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ তাঁদের করছাড় বাড়ছে ৫০০ ডলার।
যৌথভাবে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে মানক করছাড় ৩২ হাজার ২০০ ডলার থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার ২০০ ডলার হচ্ছে। এতে তাঁদের ছাড় বাড়ছে ১ হাজার ডলার।
অন্যদিকে, পরিবারের প্রধান হিসেবে কর বিবরণী জমা দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য মানক করছাড় ২৪ হাজার ১৫০ ডলার থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৯২৫ ডলার হয়েছে।
মানক করছাড় হলো আয়ের সেই নির্দিষ্ট অংশ, যা করযোগ্য আয় নির্ধারণের আগে মোট আয় থেকে বাদ দেওয়া যায়। অধিকাংশ করদাতা বিভিন্ন খাতে আলাদা ব্যয়ের হিসাব দেখিয়ে করছাড় নেওয়ার পরিবর্তে এই সুবিধা গ্রহণ করেন।
আয়করের সাতটি ধাপের নতুন সীমা
২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আয়করের প্রচলিত সাতটি হার অপরিবর্তিত থাকছে। এগুলো হলো ১০, ১২, ২২, ২৪, ৩২, ৩৫ ও ৩৭ শতাংশ। তবে কোন পরিমাণ করযোগ্য আয় থেকে পরবর্তী উচ্চ করহার কার্যকর হবে, সেই সীমা বাড়ানো হয়েছে।
একক করদাতাদের জন্য নতুন করসীমা হবে:
-
১০ শতাংশ: ১২ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত।
-
১২ শতাংশ: ১২ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি থেকে ৫২ হাজার ২৫ ডলার পর্যন্ত।
-
২২ শতাংশ: ৫২ হাজার ২৫ ডলারের বেশি থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ১২৫ ডলার পর্যন্ত।
-
২৪ শতাংশ: ১ লাখ ৯ হাজার ১২৫ ডলারের বেশি থেকে ২ লাখ ৮ হাজার ৩২৫ ডলার পর্যন্ত।
-
৩২ শতাংশ: ২ লাখ ৮ হাজার ৩২৫ ডলারের বেশি থেকে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত।
-
৩৫ শতাংশ: ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫০ ডলারের বেশি থেকে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ ডলার পর্যন্ত।
-
৩৭ শতাংশ: ৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ ডলারের বেশি আয়ে।
যৌথভাবে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের জন্য নতুন সীমা হবে:
-
১০ শতাংশ: ২৫ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত।
-
১২ শতাংশ: ২৫ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০ ডলার পর্যন্ত।
-
২২ শতাংশ: ১ লাখ ৪ হাজার ৫০ ডলারের বেশি থেকে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত।
-
২৪ শতাংশ: ২ লাখ ১৮ হাজার ২৫০ ডলারের বেশি থেকে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ ডলার পর্যন্ত।
-
৩২ শতাংশ: ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ ডলারের বেশি থেকে ৫ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলার পর্যন্ত।
-
৩৫ শতাংশ: ৫ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলারের বেশি থেকে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫০ ডলার পর্যন্ত।
-
৩৭ শতাংশ: ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫০ ডলারের বেশি আয়ে।
মূলত মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়করের প্রতিটি ধাপের সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করলেও অনেক করদাতা অপেক্ষাকৃত কম করের ধাপে থাকতে পারবেন।
আয় বাড়লে কি পুরো আয়ে বেশি কর দিতে হবে?
যুক্তরাষ্ট্রের আয়কর ব্যবস্থা ধাপে ধাপে কর নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসরণ করে। অর্থাৎ কোনো করদাতা ২২ শতাংশ বা ৩৭ শতাংশ করের ধাপে পৌঁছালেই তাঁর পুরো আয়ের ওপর ওই হারে কর বসবে না। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আয়ের ওপর সংশ্লিষ্ট হার প্রযোজ্য হবে। কেবল পরবর্তী সীমায় প্রবেশ করা অতিরিক্ত আয়ের ওপর উচ্চতর করহার কার্যকর হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো একক করদাতার বার্ষিক আয় ৬০ হাজার ডলার হলে এবং তিনি মানক করছাড় গ্রহণের যোগ্য হলে ১৬ হাজার ৬০০ ডলার বাদ দেওয়ার পর তাঁর করযোগ্য আয় থাকবে ৪৩ হাজার ৪০০ ডলার। এরপর বিভিন্ন করসীমা অনুযায়ী ধাপে ধাপে তাঁর আয়কর হিসাব করা হবে।
তবে অন্যান্য আয়, করছাড়, রেয়াত ও ব্যক্তিগত যোগ্যতার কারণে চূড়ান্ত করের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
বছরে কতটা কমতে পারে কর?
নতুন করসীমার প্রভাব বোঝাতে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী কয়েকটি আয়ের তুলনামূলক হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। একই পরিমাণ আয় এবং মানক করছাড় গ্রহণের ভিত্তিতে হিসাব করলে সম্ভাব্য সাশ্রয় হবে:
-
বছরে ৫০ হাজার ডলার আয় করা একক করদাতার প্রায় ৬৮ ডলার।
-
৭৫ হাজার ডলার আয় করা একক করদাতার প্রায় ২৮০ ডলার।
-
১ লাখ ডলার আয় করা একক করদাতার প্রায় ২৮০ ডলার।
-
১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করা বিবাহিত দম্পতির প্রায় ৫৬১ ডলার।
এই সাশ্রয়ের হিসাব কেবল ফেডারেল আয়করের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও নিউইয়র্ক শহরের পৃথক আয়কর এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যক্তিগত করছাড়, অন্যান্য সুবিধা এবং আয়ের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।
সন্তান থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের জন্য বাড়তি সুবিধা
সন্তান থাকা পরিবারগুলোর জন্য শিশু কর রেয়াতের সর্বোচ্চ পরিমাণ ২০২৭ সালে প্রতি শিশুর জন্য ২ হাজার ৩০০ ডলার করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এই সীমা ছিল ২ হাজার ২০০ ডলার। নতুন নিয়মে এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ ডলার ফেরতযোগ্য কর রেয়াত হিসেবে পাওয়া যেতে পারে। তবে এ সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য উপার্জিত আয়ভিত্তিক কর রেয়াতের সর্বোচ্চ পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের ক্ষেত্রে ২০২৭ করবর্ষে এই সুবিধার সর্বোচ্চ পরিমাণ ৮ হাজার ৪৯৬ ডলার। ২০২৬ সালে তা ছিল ৮ হাজার ২৩১ ডলার। তবে পরিবারের আয়, সন্তানসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধা নির্ধারিত হবে।
কর্মস্থলে যাতায়াত ও গাড়ি রাখার খরচের জন্য কর দেওয়ার আগের আয় থেকে ছাড় পাওয়ার মাসিক সীমা ৩৪০ ডলার থেকে বেড়ে ৩৫০ ডলার হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কর্মীদের নমনীয় ব্যয় হিসাবে কর দেওয়ার আগের আয় থেকে জমা রাখার বার্ষিক সীমা ৩ হাজার ৪০০ ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ ডলার হয়েছে।
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অতিরিক্ত করছাড়
বয়স্ক নাগরিকদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরা ২০২৭ করবর্ষে সাধারণ করছাড়ের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৬ হাজার ডলারের অতিরিক্ত করছাড় পাবেন। বিবাহিত দম্পতির উভয় সদস্য এই সুবিধার যোগ্য হলে তাঁরা সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার ছাড় পেতে পারেন।
তবে একক করদাতার সংশোধিত মোট আয় ৭৫ হাজার ডলার এবং যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দেওয়া দম্পতির আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ছাড়ালে এই সুবিধা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। নতুন এই বিশেষ করছাড় ২০২৫ থেকে ২০২৮ করবর্ষ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।
বিকল্প ন্যূনতম কর ও বিদেশে অর্জিত আয়ের ছাড়
বিকল্প ন্যূনতম করের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালে অবিবাহিত করদাতাদের করমুক্ত সীমা ৯৩ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দেওয়া বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ ডলার। নির্দিষ্ট আয়সীমা অতিক্রম করলে এই করছাড় পর্যায়ক্রমে কমতে শুরু করবে।
এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের বিদেশে অর্জিত আয়ের করছাড়ের সীমা ২০২৬ সালের ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ ডলার করা হয়েছে।
উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালে একজন ব্যক্তি অন্য একজনকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত উপহার দিতে পারবেন, যা বার্ষিক উপহার কর বিবরণীর সীমার মধ্যে পড়বে না। ২০২৬ সালে এই সীমা ছিল ১৯ হাজার ডলার।
করদাতাদের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করসীমা বাড়ানোর ফলে আয় বাড়লেও অনেক করদাতার ওপর উচ্চতর করহারে পড়ার চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে মানক করছাড়, শিশু কর রেয়াত ও বয়স্কদের অতিরিক্ত করছাড়ের পরিবর্তন ব্যক্তি ও পরিবারভেদে করের হিসাবকে প্রভাবিত করবে।
নতুন করসীমা কার্যকরের পাশাপাশি বছরের শুরুতে বেতন থেকে ফেডারেল আয়কর কেটে রাখার হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বেতনের হিসাবপত্র পর্যালোচনা করে কর্তন করা করের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রত্যেক করদাতার প্রকৃত কর নির্ভর করবে তাঁর বার্ষিক আয়, পারিবারিক অবস্থা, করছাড়, রেয়াত এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর। ফলে নতুন সীমা ঘোষণা হলেও সবার কর সমান হারে কমবে না।


























