বাংলাদেশের গড় আইকিউ ৭৪.৩৩: দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে, জাপান শীর্ষে
- প্রকাশঃ ০৯:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 139
১৯৯ দেশের আইকিউ র্যাংকিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, ভারতের চেয়ে পিছিয়ে; জাপান, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এশিয়ার আধিপত্য
বাংলাদেশিদের বুদ্ধিমত্তা কম—রসিকতার ছলে এমন মন্তব্য প্রায়ই শোনা যায়। তবে বাস্তবে দেশের মানুষের গড় আইকিউ কত, তা নিয়ে সচেতন ধারণা অনেকেরই নেই।
আইকিউ বা ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট মূলত মানুষের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের একটি সূচক। এটি নির্ধারণ করা হয় বিচক্ষণতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং জটিল বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যার সমাধান করার দক্ষতার ভিত্তিতে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গড় আইকিউ প্রকাশ করেছে। ১৯৯ দেশের তথ্যের ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে ব্রিটিশ মনোবিদ রিচার্ড লিনের পরিচালিত গবেষণার ওপর। ২০২২ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত এই তালিকায় দেশভিত্তিক গড় আইকিউ, ইন্টেলিজেন্স ক্যাপিটাল ইনডেক্স (আইসিআই) এবং প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (পিআইএসএ) স্কোর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জাপান, যার গড় আইকিউ ১০৬.৪৮। তাইওয়ান এবং সিঙ্গাপুর যথাক্রমে ১০৬.৪৭ ও ১০৫.৮৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। শীর্ষ ছয়টি দেশের মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে।
সপ্তম স্থান থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি শুরু হয়। বেলারুশ, ফিনল্যান্ড, লিচেনস্টাইন এবং জার্মানি যথাক্রমে ৭ম থেকে ১০ম স্থানে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য শীর্ষ ১০-এ নেই।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত পিছিয়ে। ১৯৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৫০তম স্থানে রয়েছে, গড় আইকিউ স্কোর ৭৪.৩৩। ভারতের অবস্থান ১৪৩তম (৭৬.৭৪ স্কোর) এবং পাকিস্তান ১২০তম (৮০ স্কোর)। আফগানিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ১০৩তম স্থানে (৮২ স্কোর)।
শীর্ষে থাকা জাপানের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর অনেক কম হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণভাবে আইকিউ ৮৫–১১৫ হলে তাকে স্বাভাবিক বা গড় বুদ্ধিমত্তার হিসেবে ধরা হয়। ১৩০ স্কোরের উপরে হলে একজনকে ‘বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন’, আর ১৬০-এর বেশি হলে ‘জিনিয়াস’ বলা হয়।
বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২৯তম (৯৭.৪৩), রাশিয়া ৩৫তম (৯৬.২৯) এবং ইউক্রেন ৫৭তম (৯০.০৭) স্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের এই অবস্থান দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে জড়িত জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন।





















