চৌদ্দগ্রামে জামায়াত প্রার্থীর সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
- প্রকাশঃ ১০:২৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 30
চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করেন কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার (ডানে)। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী সমাবেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার বক্তব্য ঘিরে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া বাজার এলাকায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ মজুমদার। তিনি এর আগে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, তবে ৫ আগস্টের পর তাঁকে অপসারণ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ছুফুয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে ওই বাজারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তাহের। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ।
সমাবেশে তাহের উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি মঞ্চে উঠে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তিন মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় দুই মিনিটের বক্তব্যে সালাউদ্দিন আহমেদ ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বুঝে-শুনে রায় দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জামায়াত প্রার্থী তাহেরের রাজনৈতিক তৎপরতা ও অসুস্থতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করেন।
বক্তব্য শেষে আবার মাইক্রোফোনে এসে তাহের বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদের বাবা তাঁর অভিভাবকের মতো ছিলেন এবং ভোটের বিষয়ে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা উপস্থিত জনতা বুঝে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জামায়াত প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সালাউদ্দিন আহমেদ জামায়াতে যোগদান করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাহেরের নির্বাচনী সমাবেশটি সালাউদ্দিনের বাড়ির পাশেই হওয়ায় তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন এবং কয়েকটি কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলায় আটজন নিহতের ঘটনায় হওয়া দ্বিতীয় মামলায় সালাউদ্দিন আহমেদ ও তাঁর ছেলে নেয়ামত উল্লাহ আসামি ছিলেন। তাঁরা গ্রেপ্তার ও জামিনে মুক্তির পর বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন।



























