ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা

তুর্য দাস। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশঃ ০৩:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 28


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আলোচিত প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনিরের পক্ষে ভোট চেয়েছেন রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়ার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। গোলাপ মিয়া রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিশির মনিরের ডান পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মাইক্রোফোনে বক্তব্য দিচ্ছেন।

ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজানগর ইউনিয়নের চকবাজারে অনুষ্ঠিত মোহাম্মদ শিশির মনিরের নির্বাচনী পথসভায় গোলাপ মিয়া বক্তব্য দেন। ওই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য রেনু মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য খসরু মিয়া এবং আলতাবুর রহমান।

পথসভায় গোলাপ মিয়া বলেন, একটি ঘরের চেয়ে দরজা ছোট, দরজার চেয়ে তালা ছোট, আর তালার চেয়ে চাবি ছোট। কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে সেই ছোট চাবি। তেমনি ভোটও খুব ছোট হলেও এর মূল্য অনেক। সেই মূল্যবান ভোট ও উন্নয়নের চাবি আমরা যাঁর হাতে দিতে চাই, তিনি হলেন মোহাম্মদ শিশির মনির।

এ বিষয়ে গোলাপ মিয়া বলেন, তিনি একসময় রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং বর্তমানে কোনো পদ-পদবীতে নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় একজন সাধারণ নাগরিক ও ভোটার হিসেবে তিনি শিশির মনিরের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ওই পথসভায় বক্তব্য দেওয়া অন্য ব্যক্তিরাও বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদে নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা

প্রকাশঃ ০৩:৫৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আলোচিত প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনিরের পক্ষে ভোট চেয়েছেন রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা গোলাপ মিয়ার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। গোলাপ মিয়া রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিশির মনিরের ডান পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মাইক্রোফোনে বক্তব্য দিচ্ছেন।

ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজানগর ইউনিয়নের চকবাজারে অনুষ্ঠিত মোহাম্মদ শিশির মনিরের নির্বাচনী পথসভায় গোলাপ মিয়া বক্তব্য দেন। ওই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য রেনু মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য খসরু মিয়া এবং আলতাবুর রহমান।

পথসভায় গোলাপ মিয়া বলেন, একটি ঘরের চেয়ে দরজা ছোট, দরজার চেয়ে তালা ছোট, আর তালার চেয়ে চাবি ছোট। কিন্তু সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে সেই ছোট চাবি। তেমনি ভোটও খুব ছোট হলেও এর মূল্য অনেক। সেই মূল্যবান ভোট ও উন্নয়নের চাবি আমরা যাঁর হাতে দিতে চাই, তিনি হলেন মোহাম্মদ শিশির মনির।

এ বিষয়ে গোলাপ মিয়া বলেন, তিনি একসময় রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং বর্তমানে কোনো পদ-পদবীতে নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় একজন সাধারণ নাগরিক ও ভোটার হিসেবে তিনি শিশির মনিরের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ওই পথসভায় বক্তব্য দেওয়া অন্য ব্যক্তিরাও বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদে নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”