ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা রুবিওর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১২:২২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • / 3

মার্কো রুবিও ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন ও প্রত্যাহারসংক্রান্ত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। দ্রুত পরিবর্তিত মার্কিন ঘোষণায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনে তিনি এ বক্তব্য দেন।

সুইডেনের হেলসিংবার্গে অনুষ্ঠিত ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, “বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে নিজেদের সেনা উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে।”

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তবে তার মাত্র এক সপ্তাহ আগে পেন্টাগন পূর্বপরিকল্পিত ৪ হাজার সেনা পোল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল। একই সময়ে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দেয় ওয়াশিংটন।

এতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড বলেন, “এটি সত্যিই বিভ্রান্তিকর এবং সবসময় সহজে বোঝা বা সামলানো যায় না।”

রুবিও বলেন, ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এতে ইউরোপীয় মিত্ররা খুব বেশি “উচ্ছ্বসিত” নাও হতে পারেন।

বর্তমানে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে জার্মানি-তে, যেখানে ৩৬ হাজারের বেশি সেনা অবস্থান করছে। এছাড়া ইতালি-তে প্রায় ১২ হাজার, যুক্তরাজ্য-এ ১০ হাজার এবং পোল্যান্ড-এও প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ইউরোপীয় দেশগুলো বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে হোয়াইট হাউস সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবে ইউরোপে মোট মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো হতে পারে।

রুবিও বলেন, “ন্যাটো ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এটা আমি বুঝি। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে হবে।”

শেয়ার করুন

ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা রুবিওর

প্রকাশঃ ১২:২২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

মার্কো রুবিও ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন ও প্রত্যাহারসংক্রান্ত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। দ্রুত পরিবর্তিত মার্কিন ঘোষণায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনে তিনি এ বক্তব্য দেন।

সুইডেনের হেলসিংবার্গে অনুষ্ঠিত ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, “বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে নিজেদের সেনা উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে থাকে।”

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তবে তার মাত্র এক সপ্তাহ আগে পেন্টাগন পূর্বপরিকল্পিত ৪ হাজার সেনা পোল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল। একই সময়ে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দেয় ওয়াশিংটন।

এতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড বলেন, “এটি সত্যিই বিভ্রান্তিকর এবং সবসময় সহজে বোঝা বা সামলানো যায় না।”

রুবিও বলেন, ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, এতে ইউরোপীয় মিত্ররা খুব বেশি “উচ্ছ্বসিত” নাও হতে পারেন।

বর্তমানে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে জার্মানি-তে, যেখানে ৩৬ হাজারের বেশি সেনা অবস্থান করছে। এছাড়া ইতালি-তে প্রায় ১২ হাজার, যুক্তরাজ্য-এ ১০ হাজার এবং পোল্যান্ড-এও প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

মার্ক রুটে বলেন, ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ইউরোপীয় দেশগুলো বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে হোয়াইট হাউস সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবে ইউরোপে মোট মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো হতে পারে।

রুবিও বলেন, “ন্যাটো ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এটা আমি বুঝি। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে হবে।”