ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘একাত্তরে আমার বাবা ছিলেন ভারতে’ — সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাচারের জবাবে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১০:০১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 29

নিজের বাবাকে নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ভারতের ইসলামপুর শরণার্থীশিবিরে অবস্থান করেছিলেন।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব। কী ধরনের মিথ্যাচার হচ্ছে, তা স্পষ্ট না করলেও তাঁর বক্তব্য থেকে ধারণা করা যাচ্ছে—সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বাবাকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রচারণার প্রেক্ষিতেই তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল লেখেন,

আমার বাবা সম্বন্ধে মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী রেজিমে। দুঃখজনকভাবে গত এক বছর ধরে কিছু গোষ্ঠী, যারা নিজেদের জুলাইয়ের আন্দোলনের অংশীদার মনে করে, তারাও এই মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিবের বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন মুসলিম লীগ নেতা ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়ে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে নিজের পোস্টে মির্জা ফখরুল বলেন,

আমার আব্বা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আমার নানাবাড়ি যান মা ও ভাই–বোনদের নিয়ে। এরপর এপ্রিল মাসে চলে যান ভারতের ইসলামপুরে। রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময়। ডিসেম্বরের শুরুতে ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হওয়ার পরই তিনি ফিরে আসেন।

তিনি আরও লেখেন,

যুদ্ধ শেষে যখন ফিরে আসেন, দেখেন বাড়িঘর লুট হয়ে গেছে। মা তখন তাঁর গয়না বিক্রি করেন, আমি অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে চাকরি নিয়ে প্রথম বেতন তুলে দিই মায়ের হাতে। বাংলাদেশের কোটি মানুষই তেমনভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন গড়ে তুলেছিল।

পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও পরবর্তীতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মির্জা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না বলে দাবি করে ফখরুল বলেন,

ঠাকুরগাঁওয়ের যা কিছু আধুনিক, এর শুরু আমার বাবার হাতেই। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতি রক্ষায় গঠিত ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে ছিলেন জেলার সব বড় রাজনীতিক। এমনকি ১৯৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়।

নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন,

গত বছর জুলাইয়ের আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছে। আমি চাই তারা মিথ্যার চাষ করবে না, মেধা, সততা ও নীতির মাধ্যমে দেশ গড়বে। শঠতা দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না।

পোস্টের শেষে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল–হুজুরাতের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন,

হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।

এ সময় তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুর’ নামের একটি বইয়ের একটি পৃষ্ঠা সংযুক্ত করেন, যেখানে লেখা আছে, আমার বাবাও কিন্তু মুসলিম লীগার ছিলেন। তিনি সে সময় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। আমার বাবাও মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে চলে গিয়েছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

‘একাত্তরে আমার বাবা ছিলেন ভারতে’ — সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাচারের জবাবে মির্জা ফখরুল

প্রকাশঃ ১০:০১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

নিজের বাবাকে নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ভারতের ইসলামপুর শরণার্থীশিবিরে অবস্থান করেছিলেন।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব। কী ধরনের মিথ্যাচার হচ্ছে, তা স্পষ্ট না করলেও তাঁর বক্তব্য থেকে ধারণা করা যাচ্ছে—সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বাবাকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে প্রচারণার প্রেক্ষিতেই তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল লেখেন,

আমার বাবা সম্বন্ধে মিথ্যাচার শুরু হয় গত আওয়ামী রেজিমে। দুঃখজনকভাবে গত এক বছর ধরে কিছু গোষ্ঠী, যারা নিজেদের জুলাইয়ের আন্দোলনের অংশীদার মনে করে, তারাও এই মিথ্যাচারে অংশ নিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিবের বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন মুসলিম লীগ নেতা ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়ে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে নিজের পোস্টে মির্জা ফখরুল বলেন,

আমার আব্বা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আমার নানাবাড়ি যান মা ও ভাই–বোনদের নিয়ে। এরপর এপ্রিল মাসে চলে যান ভারতের ইসলামপুরে। রিফিউজি ক্যাম্পে ছিলেন যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময়। ডিসেম্বরের শুরুতে ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হওয়ার পরই তিনি ফিরে আসেন।

তিনি আরও লেখেন,

যুদ্ধ শেষে যখন ফিরে আসেন, দেখেন বাড়িঘর লুট হয়ে গেছে। মা তখন তাঁর গয়না বিক্রি করেন, আমি অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে চাকরি নিয়ে প্রথম বেতন তুলে দিই মায়ের হাতে। বাংলাদেশের কোটি মানুষই তেমনভাবে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন গড়ে তুলেছিল।

পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও পরবর্তীতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মির্জা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না বলে দাবি করে ফখরুল বলেন,

ঠাকুরগাঁওয়ের যা কিছু আধুনিক, এর শুরু আমার বাবার হাতেই। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতি রক্ষায় গঠিত ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে ছিলেন জেলার সব বড় রাজনীতিক। এমনকি ১৯৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর সরকারি শোক প্রকাশ করা হয়।

নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন,

গত বছর জুলাইয়ের আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছে। আমি চাই তারা মিথ্যার চাষ করবে না, মেধা, সততা ও নীতির মাধ্যমে দেশ গড়বে। শঠতা দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, কিন্তু দেশ গড়া যায় না।

পোস্টের শেষে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল–হুজুরাতের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন,

হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ।

এ সময় তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুর’ নামের একটি বইয়ের একটি পৃষ্ঠা সংযুক্ত করেন, যেখানে লেখা আছে, আমার বাবাও কিন্তু মুসলিম লীগার ছিলেন। তিনি সে সময় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। আমার বাবাও মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে চলে গিয়েছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”