ক্ষমতা বা আসনের জন্য কোনো সমঝোতা নয়: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
- প্রকাশঃ ০৩:৩৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 81
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘গুঞ্জন’ ও ‘ভিত্তিহীন সংবাদ’ প্রচার করে দলটিকে নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এনসিপি এককভাবেই ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ক্ষমতা বা আসন—কোনো কিছুর বিনিময়ে দলটি সমঝোতায় যাবে না।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। মনোনয়ন সংগ্রহকারী ১ হাজার ৪৮৪ জন প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময়ও শুরু করেছে এনসিপি।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এনসিপি নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো দলের বিরুদ্ধে একধরনের মিডিয়া ট্রায়াল। আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি—এনসিপি এককভাবেই ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায়। আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে যদি কোনো দলের সঙ্গে ঐকমত্য হয়, আলোচনা হতে পারে। তবে ক্ষমতা বা আসনের বিনিময়ে কোনো সমঝোতা নয়।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে—যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ। “এ আলোচনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ফ্রেমিং না করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানাই,” বলেন তিনি।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদের সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তারা ভাগ-বাঁটোয়ারার নির্বাচনের পক্ষে কাজ করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এনসিপি এ ধরনের সাজানো নির্বাচনে কখনোই সায় দেবে না।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নেই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে প্রশাসনের ওপর দখল, কালোটাকার ব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার—এসব বহুদিন ধরে চলছে। নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
সরকার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানান—প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
রবিবার ও সোমবার সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮৪ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছে দলটি। ১০ বিভাগকে ভিত্তি করে ১০টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, স্বচ্ছ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আমরা যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে চাই। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, এখন পর্যন্ত তারা ১ হাজার ৪৮৪টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছেন—প্রতি আসনে গড়ে পাঁচজন করে প্রার্থী।
দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, আগের মতো দল বা মার্কা দেখে ভোট দেওয়ার সময় শেষ। মানুষ এখন যোগ্যতা ও সক্ষমতা দেখে ভোট দেয়।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা বলেন, আমরা রাজনীতিতে নতুন ধারা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি যুক্ত করতে চাই।























