মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: দেশকে নৈরাজ্যের পথে ঠেলছে একটি মহল
- প্রকাশঃ ০১:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 85
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের পথে ঠেলে দিতে চায় এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এর আগে সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি রাত পৌনে ৯টায় শুরু হয়ে রাত ১০টার দিকে শেষ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেন। এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
তিনি বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দৈনিক প্রথম আলো, ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। এতে কর্মরত সাংবাদিকদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এ ছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ব্যক্তিত্ব ও নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলা চালানো হয়। ছায়ানটসহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আজ উদীচীতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভবনে হামলা, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অগ্নিসংযোগ, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। উত্তরা এলাকায় ৩২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা হলো ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে এক হিন্দু যুবককে গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা। এ ছাড়া চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ এবং রাজশাহীতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
এসব ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি পুরোনো চিহ্নিত মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নস্যাৎ করে দেশে ফ্যাসিবাদের নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, সরকারের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটছে। জনগণের মধ্যে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশ-বিদেশে সরকারের পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশের সব রাজনৈতিক দল দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। এরপরও সহিংসতা চলতে থাকা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার গভীর ষড়যন্ত্র বলেই বিএনপি মনে করে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উপস্থিত ছিলেন।























