বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য: সিমিন রহমান
- প্রকাশঃ ০৯:১০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 83
বাংলাদেশে ব্যবসা ও অর্থনীতির কাঠামোগত উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী বলে মন্তব্য করেছেন আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার বাজারমুখী অর্থনৈতিক নীতির ফলে দেশের বেসরকারি খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি সঞ্চার হয়।
শুক্রবার দুপুরে খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন সিমিন রহমান। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, কূটনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শোকসভা শেষ হয়।
সিমিন রহমান বলেন, মানুষ হিসেবে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন ও দৃঢ়চেতা। তাঁর শাসনামলে ভ্যাট নীতি প্রণয়ন, আর্থিক খাতের সংস্কার, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়।
তৈরি পোশাক শিল্পে খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ১৯৯৪ সালের ওষুধ মূল্যনীতির কথা তুলে ধরে সিমিন রহমান বলেন, ওই নীতির ফলে দেশের ওষুধশিল্পে গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণা ও বিনিয়োগ বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ বর্তমানে ওষুধ উৎপাদনে প্রায় শতভাগ আত্মনির্ভরশীল, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ।
সিমিন রহমান বলেন, খালেদা জিয়া সব সময় বিশ্বাস করতেন—ব্যবসা হতে হবে নৈতিকতার সঙ্গে এবং উন্নয়ন হতে হবে মূল্যবোধভিত্তিক। তিনি বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বাবা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত লতিফুর রহমানের জীবন ও কর্মের মধ্যেও দেখেছেন।
তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বহুবার আমার বাবার কাছে শুনেছি-খালেদা জিয়া ব্যবসায়ীদের সব সময় নৈতিক ও সঠিক পথে ব্যবসা পরিচালনার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। ব্যবসা ও উন্নয়নে এমন মূল্যবোধের বিকাশে তাঁর নেতৃত্ব ছিল নীরব, কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী।
খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিমিন রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর ত্যাগ, দৃঢ়তা ও নীরব সাহস চিরকাল বেঁচে থাকবে। বাংলাদেশ তাঁকে হারায়নি, বরং ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।’
শোকসভা শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। পরে একে একে বক্তব্য দেন লেখক ফাহাম আব্দুস সালাম, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইউজিসি চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে নাগরিক শোকসভার সমাপ্তি হয়।
শোকসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতারা সভায় অংশ নেন।























