ঢাকা ০৭:৩৮ , Sat, ০৩ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার নতুন নিয়ম কার্যকর, অনশোর আবেদনে কড়াকড়ি

মুশফিকুর মিরাজ
  • প্রকাশঃ ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯
  • / 13
২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। ছবি: প্রজন্ম কথা

ক্যানবেরা, ২ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে অস্ট্রেলিয়া। শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে অধিকাংশ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করতে হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং কোর্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নিয়মের আওতায় অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারী অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এর মধ্যে ওয়ার্কিং হলিডে মেকার এবং দক্ষতা-ভিত্তিক কিছু ভিসাধারীও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্য ভিসা ও ছাড়ের কোনো একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা না থাকলে অনশোর আবেদন করলে সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় থেকে নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে চাইলে সাধারণভাবে তা আর করা যাবে না। তবে কোর্স শেষ করতে আরও সর্বোচ্চ ১২ মাস প্রয়োজন হলে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে, পিএইচডি বা স্কুলশিক্ষার ক্ষেত্রে, অস্ট্রেলীয় বা বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট বৃত্তি বা পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড় রয়েছে। উচ্চতর যোগ্যতার পর্যায়ে পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে অনশোর আবেদন করা যাবে।

নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সাময়িকভাবে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। ২ অক্টোবর থেকে নন-স্কুল শিক্ষার্থীদের বর্তমান প্রধান কোর্সে অন্তত ১২ মাস থাকার পর অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। আগে এই সময়সীমা ছিল ছয় মাস। নতুন ব্যবস্থা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে স্থানান্তরের সীমা আবার ছয় মাসে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানান্তরের সুযোগ থাকতে পারে। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে নতুন স্থানান্তর ব্যবস্থায় অন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করার আগে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার নিয়মও চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে উচ্চশিক্ষা থেকে অনশোর অবস্থায় নিম্নতর বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে পরিবর্তনের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা নিশ্চিত করা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতা কমানোই এসব পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

২ অক্টোবর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনগুলো আগের নিয়মেই মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বিধিনিষেধ ওই তারিখের আগে জমা দেওয়া আবেদনকে প্রভাবিত করবে না। ফলে ইতোমধ্যে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য হবে না।

নতুন নিয়মের আরেকটি পরিবর্তনে অধিকাংশ স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারী এখন আর একই আবেদনে তাদের স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ভরশীল সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। পিএইচডি শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত ছাড় রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবর্তনগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় আছেন এবং স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন, তাদের আবেদন করার আগে অনশোর আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। একইভাবে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোর্স পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকলে ১২ মাসের স্থানান্তর-সীমা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের ভিসা, পড়াশোনা বা ভ্রমণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নতুন নিয়ম ও নিজেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছাড় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার নতুন নিয়ম কার্যকর, অনশোর আবেদনে কড়াকড়ি

প্রকাশঃ ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯

ক্যানবেরা, ২ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে অস্ট্রেলিয়া। শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে অধিকাংশ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করতে হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নতুন স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং কোর্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নিয়মের আওতায় অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারী অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এর মধ্যে ওয়ার্কিং হলিডে মেকার এবং দক্ষতা-ভিত্তিক কিছু ভিসাধারীও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্য ভিসা ও ছাড়ের কোনো একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা না থাকলে অনশোর আবেদন করলে সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় থেকে নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে চাইলে সাধারণভাবে তা আর করা যাবে না। তবে কোর্স শেষ করতে আরও সর্বোচ্চ ১২ মাস প্রয়োজন হলে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে, পিএইচডি বা স্কুলশিক্ষার ক্ষেত্রে, অস্ট্রেলীয় বা বিদেশি সরকারের নির্দিষ্ট বৃত্তি বা পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড় রয়েছে। উচ্চতর যোগ্যতার পর্যায়ে পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে অনশোর আবেদন করা যাবে।

নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সাময়িকভাবে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। ২ অক্টোবর থেকে নন-স্কুল শিক্ষার্থীদের বর্তমান প্রধান কোর্সে অন্তত ১২ মাস থাকার পর অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। আগে এই সময়সীমা ছিল ছয় মাস। নতুন ব্যবস্থা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে স্থানান্তরের সীমা আবার ছয় মাসে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানান্তরের সুযোগ থাকতে পারে। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে নতুন স্থানান্তর ব্যবস্থায় অন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করার আগে নতুন স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার নিয়মও চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় এসে উচ্চশিক্ষা থেকে অনশোর অবস্থায় নিম্নতর বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে পরিবর্তনের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা নিশ্চিত করা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতা কমানোই এসব পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

২ অক্টোবর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনগুলো আগের নিয়মেই মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বিধিনিষেধ ওই তারিখের আগে জমা দেওয়া আবেদনকে প্রভাবিত করবে না। ফলে ইতোমধ্যে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য হবে না।

নতুন নিয়মের আরেকটি পরিবর্তনে অধিকাংশ স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারী এখন আর একই আবেদনে তাদের স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ভরশীল সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। পিএইচডি শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত ছাড় রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবর্তনগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় আছেন এবং স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন, তাদের আবেদন করার আগে অনশোর আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। একইভাবে, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোর্স পরিবর্তনের পরিকল্পনা থাকলে ১২ মাসের স্থানান্তর-সীমা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের ভিসা, পড়াশোনা বা ভ্রমণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নতুন নিয়ম ও নিজেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছাড় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।