অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন নিয়ম, বাংলাদেশিদের জন্যও অগ্রাধিকার পাবে ৭ খাত
- প্রকাশঃ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯
- / 10
সিডনি, ২৫ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণে নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, শিক্ষকতা, কৃষি, জলজ চাষ, মৎস্য ও সম্পদ খাতের নির্ধারিত পেশাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট কিছু আবেদনও একই অগ্রাধিকার গ্রুপে রাখা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থা ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা নির্ধারণে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর ১২১ ও ১২২ নম্বর মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে আগের ১১৯ নম্বর নির্দেশনার অধীনে থাকা দক্ষ কর্মী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের অগ্রাধিকার কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত অগ্রাধিকার খাতের আবেদন আগে বিবেচনা করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন অনুযায়ী অন্যান্য আবেদন প্রক্রিয়া করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা খাত নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও কল্যাণসেবার বিভিন্ন নির্ধারিত পেশা এই অগ্রাধিকারের আওতায় রয়েছে। এইজড কেয়ার ও সরাসরি সেবার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট পেশাগুলোর আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে। এর মধ্যে বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিচর্যাকারী, নার্সিং সহায়তাকর্মী এবং ব্যক্তিগত পরিচর্যা সহকারীর মতো পেশা রয়েছে।
নির্মাণ খাতের বিভিন্ন পেশাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নির্মাণ বাণিজ্যকর্মী, নির্মাণ ব্যবস্থাপক, বিদ্যুৎকর্মী, সিভিল প্রকৌশলী, ভবন ও জরিপ প্রযুক্তিবিদ এবং অন্যান্য নির্ধারিত নির্মাণসংশ্লিষ্ট পেশার আবেদন এই গ্রুপে পড়বে। একইভাবে শিক্ষকতা খাতে স্কুলশিক্ষকসহ নির্ধারিত পেশাগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
কৃষি, জলজ চাষ, মৎস্য ও সম্পদ খাতের নির্ধারিত পেশাগুলোকেও নতুন ব্যবস্থায় সামনে রাখা হয়েছে। সরকারের নীতিগত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে এমন খাতগুলোতে দ্রুততর ভিসা প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করাই এই অগ্রাধিকার কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য।
অস্থায়ী দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত দক্ষতা চাহিদাভিত্তিক ৪৮২ নম্বর ভিসায় ১২১ নম্বর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। এ ভিসায় প্রথম অগ্রাধিকার পাবে সাতটি নির্ধারিত খাতের আবেদন এবং আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট আবেদন। এরপর বিশেষায়িত দক্ষতা ধারার আবেদন, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের আবেদন এবং বিদেশ থেকে করা অন্যান্য আবেদন পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়া করা হবে।
স্থায়ী ও আঞ্চলিক দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে ১২২ নম্বর নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় নিয়োগকর্তার মনোনয়নভিত্তিক ১৮৬, আঞ্চলিক স্পনসরভিত্তিক ১৮৭, দক্ষ স্বতন্ত্র ১৮৯, দক্ষ মনোনীত ১৯০, স্থায়ী দক্ষ আঞ্চলিক ১৯১, দক্ষ আঞ্চলিক ৪৮৯ ও ৪৯১ এবং দক্ষ নিয়োগকর্তা-স্পনসরভিত্তিক আঞ্চলিক ৪৯৪সহ কয়েকটি ভিসা রয়েছে। এসব ভিসাতেও নির্ধারিত সাত খাত এবং আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট আবেদন প্রথম অগ্রাধিকার পাবে।
নতুন ব্যবস্থায় ভিসার যোগ্যতা বা আবেদনের মৌলিক শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি। পরিবর্তন করা হয়েছে মূলত আবেদন কোন ক্রমে প্রক্রিয়া করা হবে, সেই অগ্রাধিকার কাঠামোয়। ফলে নির্দিষ্ট খাতে কাজ করলেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার দক্ষতা, ইংরেজি ভাষা, মনোনয়ন বা স্পনসরশিপসহ বিদ্যমান সব শর্ত পূরণ করতে হবে। দক্ষতা চাহিদাভিত্তিক ৪৮২ নম্বর ভিসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত নিয়োগকর্তার মনোনয়ন, সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতা এবং ইংরেজি ভাষার শর্তও বহাল রয়েছে।
নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার আগে জমা দেওয়া এবং এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া আবেদনও নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার আওতায় পড়বে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন কাঠামোয় আবেদন পুনর্বিন্যাসের কারণে কিছু ভিসার প্রক্রিয়াকরণ সময় সাময়িকভাবে ওঠানামা করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন ভিসার পুরোনো আবেদন আগে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। যেমন ১৮৯ নম্বর দক্ষ স্বতন্ত্র ভিসায় অগ্রাধিকার খাতের ২০২৫ সালের নভেম্বরে জমা দেওয়া আবেদনগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ১৯০ নম্বর দক্ষ মনোনীত ভিসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার খাতের ২০২৫ সালের মে মাসে জমা দেওয়া আবেদনগুলো প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।
সিডনিভিত্তিক অভিবাসনসংশ্লিষ্ট পরামর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। তাঁর মতে, নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য, এইজড কেয়ার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতকে সামনে রাখায় এসব ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মীদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়া হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থার অর্থ হলো, অস্ট্রেলিয়ার অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত খাতে যোগ্য পেশা থাকলে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের ক্রমে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে অগ্রাধিকার পাওয়া মানেই ভিসা অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর পেশা, দক্ষতা, নিয়োগকর্তার মনোনয়ন বা সংশ্লিষ্ট ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করাও বাধ্যতামূলক।





























