অস্ট্রেলিয়ার ভিসায় প্রতারণা থেকে বাঁচতে যে বিষয়গুলো আগে যাচাই করবেন
- প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৪
- / 5
প্রজন্ম কথা – অস্ট্রেলিয়ায় কাজ, স্থায়ী বসবাস বা ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকির মধ্যে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সতর্কভাবে অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষ। ভিসার বিষয়ে সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট, আইনজীবী বা আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোন ভিসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে এবং সেই ভিসার নির্দিষ্ট যোগ্যতা কী, তা সরকারি তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া। দক্ষ কর্মীদের জন্য নির্ধারিত কিছু ভিসায় পেশাগত দক্ষতার মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়। আবার কিছু ভিসায় ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার ফলও দিতে হয়। তবে সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে একই শর্ত প্রযোজ্য নয়।
বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জন্য নির্ধারিত পয়েন্টভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেশার দক্ষতা নির্ধারক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত দক্ষতা মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কোন ভিসা বা ধারায় দক্ষতা মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক হবে, তা ভিসার ধরন ও আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
কাজের ভিসার ক্ষেত্রেও একইভাবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকে। উদাহরণ হিসেবে, নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা-স্পন্সর করা আঞ্চলিক দক্ষ কর্মী ভিসায় আবেদনকারীর দক্ষতা মূল্যায়ন, ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার ফল এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো বিষয় প্রয়োজন হতে পারে।
নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট কীভাবে যাচাই করবেন
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন-সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে ভিসা আবেদনের বিষয়ে সহায়তা করতে হলে তিনি নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট, আইনজীবী অথবা আইনে নির্ধারিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে পারেন।
মাইগ্রেশন এজেন্টের নিবন্ধন যাচাইয়ের দায়িত্বে রয়েছে অফিস অব দ্য মাইগ্রেশন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অথরিটি, সংক্ষেপে ওমারা। সরকারি নিবন্ধন তালিকায় প্রত্যেক নিবন্ধিত এজেন্টের নাম, ব্যবসার তথ্য ও অবস্থান দেখা যায়। এজেন্টের মাইগ্রেশন এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা নিবন্ধন নম্বর দিয়েও যাচাই করা যায়।
কেউ নিজেকে মাইগ্রেশন এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিলেই তার ওপর আস্থা রাখা উচিত নয়। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি নির্দেশনায় আবেদনকারীদের এজেন্টের নাম বা নিবন্ধন নম্বর সরকারি নিবন্ধন তালিকায় খুঁজে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় কোনো ব্যক্তির তথ্য পাওয়া না গেলে তিনি নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট নাও হতে পারেন।
এ ছাড়া কোনো নিবন্ধিত এজেন্টের বিরুদ্ধে অতীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও সরকারি ব্যবস্থায় যাচাই করা যায়। গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা ওমারার রয়েছে।
প্রতারণার প্রস্তাব চিনবেন যেভাবে
ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ যদি নিশ্চিত অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেয়, সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভিসার সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় হয়। কোনো এজেন্ট আবেদন করতে সহায়তা করতে পারেন, কিন্তু আবেদনকারীর পরিবর্তে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই।
একইভাবে ‘কোনো যোগ্যতা লাগবে না’, ‘ইংরেজি পরীক্ষা ছাড়াই নিশ্চিত কাজের ভিসা’, ‘অল্প সময়ের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা’ অথবা ‘টাকা দিলেই স্পন্সর’ ধরনের প্রস্তাব যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।
ভুয়া ওয়েবসাইটও প্রতারণার একটি মাধ্যম হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সরকারি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত। কোনো এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী পাঠানো লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের কপি বা অর্থ দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটটির সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
ভুয়া চাকরির অফারও একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে চাকরির প্রস্তাব পেলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও প্রকাশিত যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়োগের তথ্য যাচাই করা নিরাপদ।
টাকা দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন
প্রথমত, যিনি অভিবাসন-সংক্রান্ত পরামর্শ দিচ্ছেন তার নিবন্ধন যাচাই করতে হবে। এরপর কোন ভিসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেই ভিসার সরকারি যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতি নিজে দেখে নেওয়া উচিত।
দ্বিতীয়ত, অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি, সেবার বিবরণ এবং অর্থ প্রদানের প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ব্যাংক বা ব্যক্তিগত মোবাইল অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর আগে লেনদেনের উদ্দেশ্য ও প্রাপকের পরিচয় যাচাই করা জরুরি।
তৃতীয়ত, কোনো নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব পেলে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সেটি সত্য কি না নিশ্চিত করা উচিত।
চতুর্থত, আবেদনকারীর ভিসার ধরন অনুযায়ী দক্ষতা মূল্যায়ন, ইংরেজি ভাষা, কাজের অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা অন্যান্য শর্ত প্রয়োজন কি না, তা অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য থেকে যাচাই করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে নিজেও আবেদন করতে পারেন। তবে পেশাদার সহায়তা নেওয়া হলে সেটি বৈধভাবে দেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রয়েছে কি না, তা আগে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি নাগরিকদের তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন, পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ কিংবা দ্রুত ভিসার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে প্রথমে সরকারি তথ্য যাচাই করা উচিত। আবেদন করার আগে ভিসার ধরন, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং সহায়তাকারী ব্যক্তির নিবন্ধন নিশ্চিত করলেই প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

























