তিন ব্রিটিশ বিমানবন্দরে সাইবার হামলা, ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য ঝুঁকিতে
- প্রকাশঃ ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:৩২
- / 9
লন্ডন, ২৭ আগস্ট (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, লন্ডন স্ট্যানস্টেড ও ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিন বিমানবন্দর পরিচালনাকারী ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য অননুমোদিতভাবে দেখা হয়েছে। তবে আক্রান্ত তথ্যের ধরন সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে এক রকম ছিল না।
ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ মঙ্গলবার সাইবার হামলার বিষয়টি জানতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কয়েক দিন আগেই সংশ্লিষ্ট তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করেছিল।
হামলায় বিমানবন্দরের গাড়ি পার্কিং, লাউঞ্জ, দ্রুত নিরাপত্তা পার হওয়ার সেবা এবং ওয়াই-ফাই নিবন্ধনের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য আক্রান্ত হয়েছে। অননুমোদিতভাবে দেখা তথ্যের মধ্যে রয়েছে ই-মেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ও পোস্টকোড।
তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আক্রান্ত ৮৭ লাখ গ্রাহকের বিপুলসংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষেত্রে কেবল ই-মেইল ঠিকানা অননুমোদিতভাবে দেখা হয়েছে। ফলে প্রত্যেক গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য একই মাত্রায় আক্রান্ত হয়েছে, এমনটি বলা যাচ্ছে না।
ব্যাংকিং তথ্য আক্রান্ত হয়নি
সাইবার হামলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যটি জানিয়েছে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ, তা হলো আক্রান্ত ব্যবস্থায় গ্রাহকদের ব্যাংক বা অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য ছিল না। ফলে ব্যাংক হিসাব বা সরাসরি আর্থিক তথ্য চুরির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
হামলার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি আক্রান্ত ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশেষজ্ঞ সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শকদের সহায়তায় তদন্ত ও ঝুঁকি মোকাবিলার কাজও শুরু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই ঘটনার কারণে তিন বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। ভবিষ্যতের বুকিং বহাল রয়েছে এবং গাড়ি পার্কিং, লাউঞ্জ ও দ্রুত প্রবেশসেবাসহ সংশ্লিষ্ট পরিষেবাগুলো চালু রয়েছে। বিমানযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
গ্রাহকদের প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা
তথ্য আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সম্ভাব্য প্রতারণা নিয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি। অপ্রত্যাশিত কোনো ই-মেইল, ফোনকল বা খুদে বার্তা পেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ জানিয়েছে, তারা অপ্রত্যাশিতভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ পরিশোধ, ব্যাংকিং তথ্য বা আর্থিক বিবরণ চাইবে না। ফলে বিমানবন্দরের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা বা ব্যাংকিং তথ্য চাইলে সেটিকে প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিপুলসংখ্যক যাত্রীর তথ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান
তিন বিমানবন্দরের কার্যক্রমের পরিধিও এই সাইবার হামলার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপের পরিচালিত তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ৭০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। আগের ১২ মাসে তিন বিমানবন্দরের মোট যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ।
এর মধ্যে লন্ডন স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর একাই জুলাইয়ে ৩১ লাখের বেশি যাত্রী পরিচালনা করেছে, যা বিমানবন্দরটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যস্ত মাস ছিল।
ই-মেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর, গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ও পোস্টকোডের মতো তথ্য সরাসরি ব্যাংকিং তথ্য না হলেও এগুলো ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণা বা ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা সম্ভব। এ কারণে আক্রান্ত গ্রাহকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, অপরাধী চক্র বা রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীকে দায়ী করার মতো তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনাটি বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ জানিয়েছে, গ্রাহক ও নিজেদের ব্যবস্থার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হামলার প্রকৃতি, অননুমোদিতভাবে কতটা তথ্য দেখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তদন্ত এগিয়ে গেলে সেসব বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।


























