বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ, পরিবারের আয়সীমা ৭৫ হাজার ডলার
- প্রকাশঃ ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:০৯
- / 4
বস্টন, ২ নভেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হচ্ছে। ‘বিইউ প্রমিজ’ নামের এ উদ্যোগে পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম হলে এবং সম্পদের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, নির্ধারিত আবাসন ও খাবারের খরচ ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। আর ২ লাখ ডলারের কম আয় করা পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্যও থাকছে টিউশন ফি পুরোপুরি মওকুফসহ আবাসন ও খাবারের খরচে আংশিক সহায়তা।
বোস্টন ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথমবার স্নাতক পর্যায়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবারের আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম হলে এবং সম্পদ নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি ও প্রচলিত আবাসন-খাবারের পরিকল্পনার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে। ফলে শিক্ষার্থীর বার্ষিক নিজস্ব ব্যয় শূন্যে নেমে আসতে পারে।
আয় অনুযায়ী কত খরচ হতে পারে
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার, ফি, বইপত্র ও অন্যান্য ব্যয়সহ একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক খরচ প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলার। পরিবারের আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।
নির্ধারিত সম্পদসীমা পূরণকারী পরিবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর সম্ভাব্য নিজস্ব ব্যয় হবে:
- ৭৫ হাজার ডলার বা কম আয়: টিউশন, নির্ধারিত আবাসন ও খাবারের খরচসহ সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়।
- ৭৫ হাজার ১ থেকে ১ লাখ ডলার: বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার।
- ১ লাখ ১ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার: বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার।
- ১ লাখ ৫০ হাজার ১ থেকে ২ লাখ ডলার: বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার।
এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পুরো টিউশন ফি বহন করার পাশাপাশি নির্ধারিত আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশ দেবে। তবে শিক্ষার্থীর পছন্দের আবাসনব্যবস্থার খরচ নির্ধারিত পরিকল্পনার চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ নিজেকেই দিতে হবে। বাড়ি থেকে যাতায়াত করে পড়াশোনা করলে ব্যয়ের হিসাবও আলাদা হতে পারে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
বিইউ প্রমিজ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য। আবেদনকারীকে প্রথমবার স্নাতক পর্যায়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হবে। স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এ নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য মেধাভিত্তিক বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যোগ্যতা নির্ধারণে শুধু পরিবারের বার্ষিক আয় বিবেচনা করা হবে না। ব্যাংকে জমা অর্থ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, প্রধান বাসস্থান ছাড়া অন্য স্থাবর সম্পত্তিতে মালিকানা এবং ব্যবসায়িক সম্পদের মূল্যও পর্যালোচনা করা হবে। অবসরকালীন নির্দিষ্ট হিসাবের সম্পদ এ মূল্যায়নের বাইরে থাকতে পারে। তাই আয় ৭৫ হাজার ডলারের নিচে হলেই বিনা খরচে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত হবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা বিভাগ।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি
আর্থিক সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের আবেদনপত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক তথ্যসংক্রান্ত আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। পরিবারের আয়, সম্পদ ও আর্থিক পরিস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
প্রথম বর্ষে আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা স্নাতক পর্যায়ের সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত এ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিইউ স্কলারশিপ অ্যাসিউরেন্স’ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক বৃত্তি নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কমানো হবে না। টিউশন ফি বাড়লে বৃত্তির পরিমাণও একই হারে বাড়বে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুযোগ
বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা বিইউ প্রমিজের আওতায় পড়বেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু মেধাভিত্তিক বৃত্তি দিয়ে থাকে। এসব বৃত্তির যোগ্যতা, অর্থের পরিমাণ ও আবেদনের সময়সীমা আলাদা। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা দেখে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য সুযোগ যাচাই করতে হবে।
বোস্টন ইউনিভার্সিটির নতুন উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা পরিবারের জন্য উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি করছে। তবে সম্পদের হিসাব, ভর্তি-যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি যাচাইয়ের পরই সহায়তার চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
















