ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১:৪১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 2

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লেবাননকে ঘিরে ইসরায়েলের চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন।

বুধবার প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি সত্যিই নেতানিয়াহুকে ‘একেবারে পাগল’ বলেছিলেন এবং তাঁকে অকৃতজ্ঞ বলে অভিযুক্ত করেছিলেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, বলেছিলাম।” তবে তিনি দাবি করেন, তখন তিনি রাগান্বিত ছিলেন না।

ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব না যে আমি রেগে গিয়েছিলাম। লেবাননকে ঘিরে তাঁর অব্যাহত সামরিক তৎপরতায় আমি কিছুটা বিরক্ত ছিলাম।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন, “তুমি একটা বদ্ধ পাগল। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমার জীবন বাঁচাচ্ছি।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে সংঘাত বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের এটা থামাতে হবে। আমাদের এটা বন্ধ করতেই হবে।”

তবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনো ভালো রয়েছে। একইভাবে নেতানিয়াহুও দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়নি বলে জানিয়েছেন।

এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। তবে কৌশলগত বিষয়ে কখনো কখনো মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু ছিলেন ট্রাম্প। তিনি আমাকে সম্মান করেন, আমিও তাঁকে সম্মান করি। কোনো মতভেদ তৈরি হলে আমরা তা সমাধানের পথ খুঁজে নিই।”

এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি গ্রহণ করা হবে না, যদি সেই চুক্তির আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত না থাকে। তেহরানের দাবি, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় লেবাননেও সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সোমবার একটি সমঝোতা ঘোষণা করা হয়। এর আওতায় ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা থেকে সরে আসে এবং হিজবুল্লাহ সীমান্তপারের হামলা বন্ধে সম্মত হয়। তবে সমঝোতার পরও বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণে একটি গাড়িকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি নেতানিয়াহুর প্রভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জবাবে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের দাবি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রচারণা।

ট্রাম্প বলেন, “আমিই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমরা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে পারি না।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ত। পাশাপাশি তিনি ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পক্ষেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন

নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

প্রকাশঃ ০১:৪১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লেবাননকে ঘিরে ইসরায়েলের চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন।

বুধবার প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি সত্যিই নেতানিয়াহুকে ‘একেবারে পাগল’ বলেছিলেন এবং তাঁকে অকৃতজ্ঞ বলে অভিযুক্ত করেছিলেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, বলেছিলাম।” তবে তিনি দাবি করেন, তখন তিনি রাগান্বিত ছিলেন না।

ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব না যে আমি রেগে গিয়েছিলাম। লেবাননকে ঘিরে তাঁর অব্যাহত সামরিক তৎপরতায় আমি কিছুটা বিরক্ত ছিলাম।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন, “তুমি একটা বদ্ধ পাগল। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমার জীবন বাঁচাচ্ছি।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে সংঘাত বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের এটা থামাতে হবে। আমাদের এটা বন্ধ করতেই হবে।”

তবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনো ভালো রয়েছে। একইভাবে নেতানিয়াহুও দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়নি বলে জানিয়েছেন।

এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। তবে কৌশলগত বিষয়ে কখনো কখনো মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু ছিলেন ট্রাম্প। তিনি আমাকে সম্মান করেন, আমিও তাঁকে সম্মান করি। কোনো মতভেদ তৈরি হলে আমরা তা সমাধানের পথ খুঁজে নিই।”

এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি গ্রহণ করা হবে না, যদি সেই চুক্তির আওতায় লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত না থাকে। তেহরানের দাবি, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় লেবাননেও সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সোমবার একটি সমঝোতা ঘোষণা করা হয়। এর আওতায় ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা থেকে সরে আসে এবং হিজবুল্লাহ সীমান্তপারের হামলা বন্ধে সম্মত হয়। তবে সমঝোতার পরও বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণে একটি গাড়িকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি নেতানিয়াহুর প্রভাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জবাবে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের দাবি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের প্রচারণা।

ট্রাম্প বলেন, “আমিই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমরা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে পারি না।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ত। পাশাপাশি তিনি ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পক্ষেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।