ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ ও ট্রাম্পের চাপে লেবাননে থমকে গেল ইসরাইলের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০২:৩৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 3

ছবি: সংগৃহীত


লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হিজবুল্লাহর উন্নত ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপের কারণে ইসরাইলের পরিকল্পিত সামরিক কৌশল বাস্তবায়ন জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৈরুতের উপকণ্ঠে বিমান হামলার হুমকি দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সে অবস্থান থেকে সরে আসে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে ইসরাইলকে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মার্কিন কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

ইসরাইলের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ লেবাননে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন গড়ে তোলা, যাতে হিজবুল্লাহকে সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দূরে সরিয়ে উত্তর ইসরাইলকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়। তবে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত নতুন প্রজন্মের ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ‘ফার্স্ট-পারসন-ভিউ’ (এফপিভি) ড্রোন সেই পরিকল্পনার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব ড্রোন প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থায় সহজে নিষ্ক্রিয় করা যায় না। হিজবুল্লাহ নিয়মিতভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরাইলি সেনা ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের এক ড্রোন হামলায় দুই সেনা নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অর্না মিজরাহি বলেন, ড্রোন প্রযুক্তির কারণে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং শুরুতে ইসরাইল এ হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষ করে বৈরুতসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এর ফলে ইসরাইল একদিকে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি দুর্বল করতে পারছে না, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির ঝুঁকিও বহন করছে।

অবসরপ্রাপ্ত ইসরাইলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাফ ওরিয়ন সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৮২ সালের লেবানন অভিযানের পর সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সীমাবদ্ধতা হিজবুল্লাহকে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে তা ইসরাইলের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য আরও ইতিবাচক হতে পারে।

কয়েক মাস আগে যে অভিযানকে দ্রুত সাফল্যের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল, বর্তমানে তা অনেক বেশি জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিজবুল্লাহ এখনো কার্যকর প্রতিরোধ বজায় রেখেছে এবং সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন

হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ ও ট্রাম্পের চাপে লেবাননে থমকে গেল ইসরাইলের পরিকল্পনা

প্রকাশঃ ০২:৩৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত


লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হিজবুল্লাহর উন্নত ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপের কারণে ইসরাইলের পরিকল্পিত সামরিক কৌশল বাস্তবায়ন জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৈরুতের উপকণ্ঠে বিমান হামলার হুমকি দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সে অবস্থান থেকে সরে আসে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে ইসরাইলকে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মার্কিন কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার বিষয় বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

ইসরাইলের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ লেবাননে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন গড়ে তোলা, যাতে হিজবুল্লাহকে সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দূরে সরিয়ে উত্তর ইসরাইলকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়। তবে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত নতুন প্রজন্মের ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ‘ফার্স্ট-পারসন-ভিউ’ (এফপিভি) ড্রোন সেই পরিকল্পনার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব ড্রোন প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থায় সহজে নিষ্ক্রিয় করা যায় না। হিজবুল্লাহ নিয়মিতভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরাইলি সেনা ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের এক ড্রোন হামলায় দুই সেনা নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অর্না মিজরাহি বলেন, ড্রোন প্রযুক্তির কারণে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং শুরুতে ইসরাইল এ হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষ করে বৈরুতসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় ধরনের হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এর ফলে ইসরাইল একদিকে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি দুর্বল করতে পারছে না, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির ঝুঁকিও বহন করছে।

অবসরপ্রাপ্ত ইসরাইলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাফ ওরিয়ন সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৮২ সালের লেবানন অভিযানের পর সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সীমাবদ্ধতা হিজবুল্লাহকে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে তা ইসরাইলের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য আরও ইতিবাচক হতে পারে।

কয়েক মাস আগে যে অভিযানকে দ্রুত সাফল্যের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল, বর্তমানে তা অনেক বেশি জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিজবুল্লাহ এখনো কার্যকর প্রতিরোধ বজায় রেখেছে এবং সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।