ঢাকা ০৫:৫৯ , Tue, ২১ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য নতুন ধাক্কা, ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি আরও কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ২০ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৭
  • / 10
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (গ্রিন কার্ড) পেতে আগ্রহী অভিবাসীদের জন্য আবারও কঠোর হচ্ছে ‘পাবলিক চার্জ’ বা জননির্ভরতা-সংক্রান্ত বিধিমালা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, নতুন বিধিমালায় আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য অস্থায়ী আর্থিক সহায়তা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ভাড়া সহায়তাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং আর্থিক সক্ষমতাও গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে।

ইউএসসিআইএসের ভাষ্য, নতুন বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীরা যেন নিজেদের ভরণপোষণ করতে সক্ষম হন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হন। সংস্থাটি বলছে, এর মাধ্যমে সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হবে।

নতুন বিধিমালাটি ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছে। ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধিমালা চালু করেছিল। সে সময় অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এটিকে ‘সম্পদভিত্তিক পরীক্ষা’ (Wealth Test) হিসেবে সমালোচনা করেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির কারণে অনেক অভিবাসী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত হন।

২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, এ নীতির কারণে অনেক অভিবাসী সরকারি সহায়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম মানুষ সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন।

পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২০ সালে এই বিধিমালা বাতিল করে দেয়। তবে নতুন করে এটি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠন।

একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, এই নীতির প্রভাবে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং এদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু ও মিশ্র অভিবাসী পরিবারের সদস্য রয়েছেন।

❤️
👏
🙂
😞

গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য নতুন ধাক্কা, ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি আরও কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশঃ ২০ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৭

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (গ্রিন কার্ড) পেতে আগ্রহী অভিবাসীদের জন্য আবারও কঠোর হচ্ছে ‘পাবলিক চার্জ’ বা জননির্ভরতা-সংক্রান্ত বিধিমালা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, নতুন বিধিমালায় আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য অস্থায়ী আর্থিক সহায়তা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ভাড়া সহায়তাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং আর্থিক সক্ষমতাও গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে।

ইউএসসিআইএসের ভাষ্য, নতুন বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীরা যেন নিজেদের ভরণপোষণ করতে সক্ষম হন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হন। সংস্থাটি বলছে, এর মাধ্যমে সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হবে।

নতুন বিধিমালাটি ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছে। ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধিমালা চালু করেছিল। সে সময় অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এটিকে ‘সম্পদভিত্তিক পরীক্ষা’ (Wealth Test) হিসেবে সমালোচনা করেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির কারণে অনেক অভিবাসী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত হন।

২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, এ নীতির কারণে অনেক অভিবাসী সরকারি সহায়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকলেও, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম মানুষ সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন।

পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২০ সালে এই বিধিমালা বাতিল করে দেয়। তবে নতুন করে এটি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার সংগঠন।

একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, এই নীতির প্রভাবে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং এদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু ও মিশ্র অভিবাসী পরিবারের সদস্য রয়েছেন।