ঢাকা ০২:৩৫ , Mon, ১৪ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-২বি ভিসার প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার কোটা পূর্ণ, বাংলাদেশিদের সামনে এখন কোন সুযোগ?

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫
  • / 14
যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুমি ও সাময়িক কাজে বিদেশি কর্মী নিয়োগে ব্যবহৃত এইচ-২বি ভিসার প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার কোটা পূর্ণ হয়েছে ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৩ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নির্ধারিত ৩৩ হাজার এইচ-২বি ভিসার কোটা পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা থাকা নতুন বিদেশি কর্মীদের জন্য নিয়মিত কোটায় এই ভিসা পাওয়ার সুযোগ আপাতত বন্ধ। তবে পুরো বছরের এইচ-২বি কর্মসূচি শেষ হয়ে যায়নি। ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা কর্মীদের জন্য আরও ৩৩ হাজার ভিসা বরাদ্দ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা জানিয়েছে, প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার ভিসার জন্য পর্যাপ্ত আবেদন পাওয়া গেছে। এই সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা থাকা কর্মীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এরপর প্রথমার্ধের নির্ধারিত কোটার আওতায় পড়ে এমন নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইচ-২বি কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিকাজের বাইরে সাময়িক ও মৌসুমি চাকরির একটি আইনি কর্মসংস্থানভিত্তিক পথ। তবে ভিসা পাওয়ার জন্য শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একজন যোগ্য নিয়োগকর্তাকে কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন দেখাতে হবে এবং নির্ধারিত শ্রম ও অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে।

এইচ-২বি ভিসায় কী ধরনের কাজ হয়

এইচ-২বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা কৃষিকাজের বাইরে সাময়িক বা মৌসুমি কাজের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বাগান পরিচর্যা, বিনোদনকেন্দ্র এবং সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে এই কর্মসূচি ব্যবহার করা হয়।

ধরা যাক, পর্যটন মৌসুমে কোনো রিসোর্ট বা হোটেলে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সেই নিয়োগকর্তা সাময়িক সময়ের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করতে পারেন।

এটি এইচ-১বি ভিসা থেকে আলাদা। এইচ-১বি মূলত বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে এইচ-২বি মূলত সাময়িক ও মৌসুমি অ-কৃষি কাজের জন্য।

বছরে ৬৬ হাজার ভিসা, দুই ভাগে বরাদ্দ

মার্কিন আইনে সাধারণভাবে প্রতি অর্থবছরে ৬৬ হাজার এইচ-২বি কর্মীর জন্য ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৩ হাজার, অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে কাজ শুরু করা কর্মীদের জন্য এবং বাকি ৩৩ হাজার এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা কর্মীদের জন্য নির্ধারিত।

তাই প্রথম ৩৩ হাজার ভিসা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার অর্থ পুরো ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-২বি সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

যেসব বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাব্য চাকরি শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, তাদের জন্য দ্বিতীয়ার্ধের ৩৩ হাজার ভিসা রয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এইচ-২বি ভিসার আবেদন সাধারণত কর্মী নিজে স্বাধীনভাবে করে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার পদ্ধতি নয়। নিয়োগকর্তাকে কর্মসংস্থানের প্রয়োজন দেখিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়। ফলে কোনো বাংলাদেশি কর্মীর কাছে চাকরির বৈধ প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে শুধু কোটা খোলা আছে বলে ভিসার আবেদন করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এখন কী অর্থ

প্রথমার্ধের কোটা পূর্ণ হওয়ায় যেসব বাংলাদেশি কর্মী ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছিলেন এবং নিয়মিত এইচ-২বি কোটার ওপর নির্ভর করছিলেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে।

এখন প্রথমার্ধের নিয়মিত কোটায় নতুন সুযোগ নেই। তবে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কর্মসংস্থানের জন্য দ্বিতীয়ার্ধের কোটা রয়েছে।

অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাব্য চাকরির সময় যদি এপ্রিল ২০২৭ বা তার পরের সময় থেকে শুরু হয়, তাহলে তিনি পরবর্তী অর্ধের কোটার আওতায় সুযোগ পেতে পারেন, যদি নিয়োগকর্তা এবং কর্মসংস্থানটি এইচ-২বি কর্মসূচির সব শর্ত পূরণ করে।

এখানে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা সীমিত এবং নিয়োগকর্তাদের আবেদন গ্রহণের সময়ও নির্দিষ্ট থাকে।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে দেশের তালিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

এইচ-২বি কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে একটি পুরোনো বিভ্রান্তি রয়েছে। আগে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতার তালিকা ছিল। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত নতুন নিয়ম ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি কার্যকর হওয়ার পর এইচ-২বি আবেদনে নির্দিষ্ট দেশের তালিকায় থাকার সাধারণ বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন কোনো আবেদনকে শুধু এই কারণে বাতিল করার নিয়ম নেই যে কর্মী নির্ধারিত দেশের তালিকায় নেই।

এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি নাগরিকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এইচ-২বি ভিসা পাবেন। চাকরির প্রকৃতি, নিয়োগকর্তার যোগ্যতা, শ্রমবাজারসংক্রান্ত শর্ত, আবেদন প্রক্রিয়া এবং ভিসার অন্যান্য নিয়ম পূরণ করতে হবে।

নিয়োগকর্তা ছাড়া এইচ-২বি ভিসা নয়

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এইচ-২বি ভিসার সুযোগকে সাধারণ “ওয়ার্ক ভিসা” হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তাকে প্রথমে দেখাতে হয় যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে এবং পর্যাপ্ত যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর প্রয়োজনীয় শ্রম অনুমোদন ও অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কর্মী নিয়োগের আবেদন করতে হয়।

তাই কোনো এজেন্ট বা ব্যক্তি যদি শুধু টাকা নিয়ে “এইচ-২বি ভিসা নিশ্চিত” করার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো বেসরকারি এজেন্ট নিজের ক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়াতে পারেন না।

অতিরিক্ত ভিসা এলে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে

নিয়মিত ৬৬ হাজারের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা অনুমোদন করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমিক সংকটের কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত ভিসা দেওয়ার নজির রয়েছে।

তবে এটি স্বয়ংক্রিয় কোনো ব্যবস্থা নয়। অতিরিক্ত ভিসার জন্য সরকারের পৃথক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ফলে প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার কোটা পূর্ণ হওয়ার পর যারা সুযোগ হারিয়েছেন, তারা অতিরিক্ত ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু এমন অনুমোদন হবে ধরে নিয়ে পরিকল্পনা করা নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এইচ-২বি বিশেষ করে এমন কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যাদের পেশা মৌসুমি বা সাময়িক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

হোটেল ও রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বাগান পরিচর্যা, পর্যটন ও বিনোদন খাত এবং সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো কাজে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নির্দিষ্ট পেশা বা চাকরি দেখলেই এইচ-২বি ভিসা নিশ্চিত হয় না। নিয়োগকর্তার প্রয়োজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।

সামনে কী হতে পারে

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধের ৩৩ হাজার ভিসা এবং অতিরিক্ত ভিসা দেওয়ার সম্ভাবনা।

২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার কর্মীদের জন্য নিয়মিত ৩৩ হাজার ভিসা এখনো রয়েছে। ফলে প্রথমার্ধের কোটা পূর্ণ হলেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-২বি কর্মসূচির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুমি শ্রমিকের চাহিদা অব্যাহত থাকলে নিয়োগকর্তারা অতিরিক্ত ভিসার জন্য সরকারের কাছে চাপ দিতে পারেন। তবে সরকার অতিরিক্ত ভিসা অনুমোদন না করা পর্যন্ত সেটিকে নিশ্চিত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈধ নিয়োগকর্তা, সঠিক চাকরির প্রস্তাব এবং সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কোনো দালাল বা এজেন্টের কথায় বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে চাকরি ও আবেদন প্রক্রিয়ার বৈধতা যাচাই করা জরুরি।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-২বি ভিসার প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার কোটা পূর্ণ, বাংলাদেশিদের সামনে এখন কোন সুযোগ?

প্রকাশঃ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫

ওয়াশিংটন, ১৩ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নির্ধারিত ৩৩ হাজার এইচ-২বি ভিসার কোটা পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা থাকা নতুন বিদেশি কর্মীদের জন্য নিয়মিত কোটায় এই ভিসা পাওয়ার সুযোগ আপাতত বন্ধ। তবে পুরো বছরের এইচ-২বি কর্মসূচি শেষ হয়ে যায়নি। ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা কর্মীদের জন্য আরও ৩৩ হাজার ভিসা বরাদ্দ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা জানিয়েছে, প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার ভিসার জন্য পর্যাপ্ত আবেদন পাওয়া গেছে। এই সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা থাকা কর্মীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এরপর প্রথমার্ধের নির্ধারিত কোটার আওতায় পড়ে এমন নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইচ-২বি কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিকাজের বাইরে সাময়িক ও মৌসুমি চাকরির একটি আইনি কর্মসংস্থানভিত্তিক পথ। তবে ভিসা পাওয়ার জন্য শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের একজন যোগ্য নিয়োগকর্তাকে কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন দেখাতে হবে এবং নির্ধারিত শ্রম ও অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে।

এইচ-২বি ভিসায় কী ধরনের কাজ হয়

এইচ-২বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা কৃষিকাজের বাইরে সাময়িক বা মৌসুমি কাজের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বাগান পরিচর্যা, বিনোদনকেন্দ্র এবং সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে এই কর্মসূচি ব্যবহার করা হয়।

ধরা যাক, পর্যটন মৌসুমে কোনো রিসোর্ট বা হোটেলে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সেই নিয়োগকর্তা সাময়িক সময়ের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করতে পারেন।

এটি এইচ-১বি ভিসা থেকে আলাদা। এইচ-১বি মূলত বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে এইচ-২বি মূলত সাময়িক ও মৌসুমি অ-কৃষি কাজের জন্য।

বছরে ৬৬ হাজার ভিসা, দুই ভাগে বরাদ্দ

মার্কিন আইনে সাধারণভাবে প্রতি অর্থবছরে ৬৬ হাজার এইচ-২বি কর্মীর জন্য ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৩ হাজার, অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে কাজ শুরু করা কর্মীদের জন্য এবং বাকি ৩৩ হাজার এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা কর্মীদের জন্য নির্ধারিত।

তাই প্রথম ৩৩ হাজার ভিসা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার অর্থ পুরো ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-২বি সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

যেসব বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাব্য চাকরি শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, তাদের জন্য দ্বিতীয়ার্ধের ৩৩ হাজার ভিসা রয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এইচ-২বি ভিসার আবেদন সাধারণত কর্মী নিজে স্বাধীনভাবে করে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার পদ্ধতি নয়। নিয়োগকর্তাকে কর্মসংস্থানের প্রয়োজন দেখিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়। ফলে কোনো বাংলাদেশি কর্মীর কাছে চাকরির বৈধ প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে শুধু কোটা খোলা আছে বলে ভিসার আবেদন করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এখন কী অর্থ

প্রথমার্ধের কোটা পূর্ণ হওয়ায় যেসব বাংলাদেশি কর্মী ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছিলেন এবং নিয়মিত এইচ-২বি কোটার ওপর নির্ভর করছিলেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে।

এখন প্রথমার্ধের নিয়মিত কোটায় নতুন সুযোগ নেই। তবে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কর্মসংস্থানের জন্য দ্বিতীয়ার্ধের কোটা রয়েছে।

অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাব্য চাকরির সময় যদি এপ্রিল ২০২৭ বা তার পরের সময় থেকে শুরু হয়, তাহলে তিনি পরবর্তী অর্ধের কোটার আওতায় সুযোগ পেতে পারেন, যদি নিয়োগকর্তা এবং কর্মসংস্থানটি এইচ-২বি কর্মসূচির সব শর্ত পূরণ করে।

এখানে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা সীমিত এবং নিয়োগকর্তাদের আবেদন গ্রহণের সময়ও নির্দিষ্ট থাকে।

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে দেশের তালিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

এইচ-২বি কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে একটি পুরোনো বিভ্রান্তি রয়েছে। আগে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতার তালিকা ছিল। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত নতুন নিয়ম ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি কার্যকর হওয়ার পর এইচ-২বি আবেদনে নির্দিষ্ট দেশের তালিকায় থাকার সাধারণ বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন কোনো আবেদনকে শুধু এই কারণে বাতিল করার নিয়ম নেই যে কর্মী নির্ধারিত দেশের তালিকায় নেই।

এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি নাগরিকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এইচ-২বি ভিসা পাবেন। চাকরির প্রকৃতি, নিয়োগকর্তার যোগ্যতা, শ্রমবাজারসংক্রান্ত শর্ত, আবেদন প্রক্রিয়া এবং ভিসার অন্যান্য নিয়ম পূরণ করতে হবে।

নিয়োগকর্তা ছাড়া এইচ-২বি ভিসা নয়

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এইচ-২বি ভিসার সুযোগকে সাধারণ “ওয়ার্ক ভিসা” হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তাকে প্রথমে দেখাতে হয় যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে এবং পর্যাপ্ত যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর প্রয়োজনীয় শ্রম অনুমোদন ও অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কর্মী নিয়োগের আবেদন করতে হয়।

তাই কোনো এজেন্ট বা ব্যক্তি যদি শুধু টাকা নিয়ে “এইচ-২বি ভিসা নিশ্চিত” করার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো বেসরকারি এজেন্ট নিজের ক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়াতে পারেন না।

অতিরিক্ত ভিসা এলে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে

নিয়মিত ৬৬ হাজারের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা অনুমোদন করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমিক সংকটের কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত ভিসা দেওয়ার নজির রয়েছে।

তবে এটি স্বয়ংক্রিয় কোনো ব্যবস্থা নয়। অতিরিক্ত ভিসার জন্য সরকারের পৃথক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ফলে প্রথমার্ধের ৩৩ হাজার কোটা পূর্ণ হওয়ার পর যারা সুযোগ হারিয়েছেন, তারা অতিরিক্ত ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু এমন অনুমোদন হবে ধরে নিয়ে পরিকল্পনা করা নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এইচ-২বি বিশেষ করে এমন কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যাদের পেশা মৌসুমি বা সাময়িক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

হোটেল ও রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বাগান পরিচর্যা, পর্যটন ও বিনোদন খাত এবং সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো কাজে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নির্দিষ্ট পেশা বা চাকরি দেখলেই এইচ-২বি ভিসা নিশ্চিত হয় না। নিয়োগকর্তার প্রয়োজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।

সামনে কী হতে পারে

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধের ৩৩ হাজার ভিসা এবং অতিরিক্ত ভিসা দেওয়ার সম্ভাবনা।

২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার কর্মীদের জন্য নিয়মিত ৩৩ হাজার ভিসা এখনো রয়েছে। ফলে প্রথমার্ধের কোটা পূর্ণ হলেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-২বি কর্মসূচির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুমি শ্রমিকের চাহিদা অব্যাহত থাকলে নিয়োগকর্তারা অতিরিক্ত ভিসার জন্য সরকারের কাছে চাপ দিতে পারেন। তবে সরকার অতিরিক্ত ভিসা অনুমোদন না করা পর্যন্ত সেটিকে নিশ্চিত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৈধ নিয়োগকর্তা, সঠিক চাকরির প্রস্তাব এবং সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কোনো দালাল বা এজেন্টের কথায় বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে চাকরি ও আবেদন প্রক্রিয়ার বৈধতা যাচাই করা জরুরি।