ঢাকা ০৮:০৭ , Sun, ১৬ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকার ভিসায় ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম, কার জন্য কী প্রযোজ্য?

ফাহিম আহমেদ
  • প্রকাশঃ ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:৩৮
  • / 10
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই ও নির্দিষ্ট স্থানে দ্রুত সাক্ষাৎকারের নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন, ১৬ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে ২০২৬ সালে অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন দূতাবাসে দ্রুত সাক্ষাৎকারের নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব অ্যাকাউন্ট সবার জন্য পাবলিক করা এবং ভিসা আবেদনের সময় সবার কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫০ ডলার নিয়ে মোট ৪৩৫ ডলার ফি নেওয়ার তথ্য সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২সহ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার বেশিরভাগ আবেদনের প্রক্রিয়াকরণ ফি ১৮৫ ডলার। এই ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের আওতা বাড়িয়েছে। ৩০ মার্চ ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের গোপনীয়তা সেটিংস পাবলিক বা ওপেন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এর অর্থ বি-১/বি-২ পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার প্রত্যেক আবেদনকারীকে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট পাবলিক করতে হবে, এমন সাধারণ নিয়ম চালু হয়নি। ভিসার ধরন অনুযায়ী অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনপত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। তাই আবেদনকারীদের ডিএস-১৬০ ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএস-১৬০ ফরমে ভুল তথ্য এড়ানো জরুরি

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের সাধারণত ডিএস-১৬০ অনলাইন ফরম পূরণ করতে হয়। এতে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আগের ভ্রমণ, চাকরি, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।

ফরম জমা দেওয়ার পর কনফার্মেশন পেজ ও বারকোড সংরক্ষণ করতে হয়। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য এবং সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ভিসা আবেদনে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

বি-১/বি-২ ভিসার ফি ১৮৫ ডলার

বর্তমান সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী, বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি ১৮৫ ডলার।

কিছু ক্ষেত্রে ভিসা অনুমোদনের পর আলাদা ভিসা ইস্যু বা রেসিপ্রোসিটি ফি থাকতে পারে। এটি আবেদনকারীর জাতীয়তা ও ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি নিয়ে বিভ্রান্তি

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও এটিকে সবার জন্য সাধারণ আবেদন ফি হিসেবে ১৮৫ ডলারের সঙ্গে যোগ করে আবেদন করার সময় ৪৩৫ ডলার দিতে হবে, এমন তথ্য বর্তমান সাধারণ সরকারি ফি তালিকায় নেই।

তাই তৃতীয় পক্ষের পোস্ট, ভিডিও বা অনির্ভরযোগ্য তথ্য দেখে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

৭৫০ ডলারে দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ, তবে সীমিত

২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার দ্রুত সাক্ষাৎকারের একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছে। এতে যোগ্য বি ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি দেওয়ার পর অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যোগ্য আবেদনকারীরা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। কর্মসূচিটি স্বেচ্ছামূলক এবং সব মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে প্রযোজ্য নয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৭৫০ ডলার ভিসা পাওয়ার ফি নয়। এটি দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় নেওয়ার অতিরিক্ত ফি। এই অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকে না।

ভিসা আবেদনের প্রথম ধাপ: ডিএস-১৬০ পূরণ
সঠিক তথ্য দিয়ে ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এরপর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন ফি ও সাক্ষাৎকারের সময়
বি-১/বি-২ ভিসার জন্য বর্তমানে ১৮৫ ডলারের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি প্রযোজ্য। এরপর সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত
পাসপোর্ট, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, ফি পরিশোধের প্রমাণ এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।

পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ফেরার পরিস্থিতি সম্পর্কে আবেদনকারীর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যাংক ব্যালান্স, জমির দলিল বা আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক, এমন সাধারণ নিয়ম নেই।

চতুর্থ ধাপ: সাক্ষাৎকার
সাক্ষাৎকারে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, কতদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, পেশা বা ব্যবসা এবং নিজ দেশে ফেরার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে। উত্তর সংক্ষিপ্ত, সত্য এবং ডিএস-১৬০-এ দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চম ধাপ: ভিসা অনুমোদনের পর
ভিসা অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ভিসার নাম, ধরন, মেয়াদ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা উচিত।

তবে ভিসা পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। দেশটিতে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেয়।

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফি বা দ্রুত সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রচারিত তথ্য যাচাই করে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা। নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণি ও আবেদনস্থল অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

আমেরিকার ভিসায় ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম, কার জন্য কী প্রযোজ্য?

প্রকাশঃ ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:৩৮

ওয়াশিংটন, ১৬ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে ২০২৬ সালে অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন দূতাবাসে দ্রুত সাক্ষাৎকারের নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব অ্যাকাউন্ট সবার জন্য পাবলিক করা এবং ভিসা আবেদনের সময় সবার কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫০ ডলার নিয়ে মোট ৪৩৫ ডলার ফি নেওয়ার তথ্য সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২সহ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার বেশিরভাগ আবেদনের প্রক্রিয়াকরণ ফি ১৮৫ ডলার। এই ফি সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের আওতা বাড়িয়েছে। ৩০ মার্চ ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের গোপনীয়তা সেটিংস পাবলিক বা ওপেন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এর অর্থ বি-১/বি-২ পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার প্রত্যেক আবেদনকারীকে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট পাবলিক করতে হবে, এমন সাধারণ নিয়ম চালু হয়নি। ভিসার ধরন অনুযায়ী অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনপত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। তাই আবেদনকারীদের ডিএস-১৬০ ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএস-১৬০ ফরমে ভুল তথ্য এড়ানো জরুরি

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের সাধারণত ডিএস-১৬০ অনলাইন ফরম পূরণ করতে হয়। এতে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আগের ভ্রমণ, চাকরি, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।

ফরম জমা দেওয়ার পর কনফার্মেশন পেজ ও বারকোড সংরক্ষণ করতে হয়। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য এবং সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ভিসা আবেদনে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

বি-১/বি-২ ভিসার ফি ১৮৫ ডলার

বর্তমান সরকারি ফি তালিকা অনুযায়ী, বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি ১৮৫ ডলার।

কিছু ক্ষেত্রে ভিসা অনুমোদনের পর আলাদা ভিসা ইস্যু বা রেসিপ্রোসিটি ফি থাকতে পারে। এটি আবেদনকারীর জাতীয়তা ও ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি নিয়ে বিভ্রান্তি

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও এটিকে সবার জন্য সাধারণ আবেদন ফি হিসেবে ১৮৫ ডলারের সঙ্গে যোগ করে আবেদন করার সময় ৪৩৫ ডলার দিতে হবে, এমন তথ্য বর্তমান সাধারণ সরকারি ফি তালিকায় নেই।

তাই তৃতীয় পক্ষের পোস্ট, ভিডিও বা অনির্ভরযোগ্য তথ্য দেখে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

৭৫০ ডলারে দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ, তবে সীমিত

২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার দ্রুত সাক্ষাৎকারের একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছে। এতে যোগ্য বি ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি দেওয়ার পর অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যোগ্য আবেদনকারীরা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। কর্মসূচিটি স্বেচ্ছামূলক এবং সব মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে প্রযোজ্য নয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৭৫০ ডলার ভিসা পাওয়ার ফি নয়। এটি দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় নেওয়ার অতিরিক্ত ফি। এই অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকে না।

ভিসা আবেদনের প্রথম ধাপ: ডিএস-১৬০ পূরণ
সঠিক তথ্য দিয়ে ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এরপর কনফার্মেশন পেজ সংরক্ষণ করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন ফি ও সাক্ষাৎকারের সময়
বি-১/বি-২ ভিসার জন্য বর্তমানে ১৮৫ ডলারের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি প্রযোজ্য। এরপর সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত
পাসপোর্ট, ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, ফি পরিশোধের প্রমাণ এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে।

পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা এবং নিজ দেশে ফেরার পরিস্থিতি সম্পর্কে আবেদনকারীর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যাংক ব্যালান্স, জমির দলিল বা আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক, এমন সাধারণ নিয়ম নেই।

চতুর্থ ধাপ: সাক্ষাৎকার
সাক্ষাৎকারে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, কতদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, পেশা বা ব্যবসা এবং নিজ দেশে ফেরার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে। উত্তর সংক্ষিপ্ত, সত্য এবং ডিএস-১৬০-এ দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চম ধাপ: ভিসা অনুমোদনের পর
ভিসা অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ভিসার নাম, ধরন, মেয়াদ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা উচিত।

তবে ভিসা পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত নয়। দেশটিতে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেয়।

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফি বা দ্রুত সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রচারিত তথ্য যাচাই করে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা। নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণি ও আবেদনস্থল অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে।