বাল্যবিবাহ ও শিশু সুরক্ষায় অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত হলেন বাংলাদেশের জয়া
- প্রকাশঃ ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮
- / 0
শিশুদের ‘নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশের শেরপুরের ১৭ বছর বয়সী শিশু সাংবাদিক ও শিশু অধিকারকর্মী জয়া বণিক। শিশু অধিকার ও সুরক্ষায় তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের আয়োজক কিডসরাইটসের প্রকাশিত প্রোফাইলে জয়ার কাজের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে শিশুবিবাহ, শিশু সুরক্ষা ও লিঙ্গসমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কিডসরাইটস প্রতিবছর শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা তরুণদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়।
কিডসরাইটসের তথ্য অনুযায়ী, জয়া স্থানীয় পর্যায়ে স্কুল ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শিশু ও অভিভাবকদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি কর্মশালা ও সহপাঠীভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও কাজ করছেন জয়া। কিডসরাইটস জানিয়েছে, ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর মাধ্যমে তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছেন। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
শিশু সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত জয়া। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে ৪২ জন মনোনীত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জয়া বণিকসহ শিশু সাংবাদিকতায় যুক্ত সাতজন রয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এবার মোট ২৯৮ জনকে পুরস্কারটির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জয়া বণিক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।’
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার তরুণদের শিশু অধিকার নিয়ে কাজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ। কিডসরাইটসের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে এ পুরস্কারের মাধ্যমে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা তরুণদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকেও এর আগে এ পুরস্কারের স্বীকৃতি পেয়েছেন তরুণরা। ২০২০ সালে সাদাত রহমান সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কাজের জন্য আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন।

















