ঢাকা ০৬:৪৬ , Fri, ২১ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

আবেদন চলাকালেই বদলানো যাবে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন রুট, মানবাধিকার দাবিতেও স্পষ্ট করল হোম অফিস

আয়ান সরকার
  • প্রকাশঃ ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১০
  • / 12
ছবি: ভিসা-গুরু

লন্ডন, ২১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে আবেদনকারী সেটি অন্য ইমিগ্রেশন রুটের আবেদনে পরিবর্তন করতে পারবেন। সংশোধিত নির্দেশনায় মানবাধিকারভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রেও এ সুযোগের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে হোম অফিস।

ইমিগ্রেশনবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্রি মুভমেন্টের ২০ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন বিধিমালার ৩৪বিবি অনুচ্ছেদে আগে থেকেই আবেদন পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। তবে হোম অফিসের আগের নির্দেশনায় মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন পরিবর্তন করা যায় না, এমন বক্তব্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।

সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বা অবস্থানের অনুমতির কোনো আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আবেদনকারী নতুন কোনো আবেদন করলে সেটি আগের আবেদনের পরিবর্তিত আবেদন হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর হোম অফিস সর্বশেষ আবেদনটি নিষ্পত্তি করবে।

তবে আগের আবেদনের সঙ্গে মানবাধিকার দাবি যুক্ত থাকলে নতুন আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে সেই দাবি বাতিল হয়ে যাবে না। নতুন আবেদন অনুমোদিত হলে আগের আবেদনের অনিষ্পন্ন মানবাধিকার দাবি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। আর নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আগের মানবাধিকার দাবি নিষ্পত্তি না হয়ে থাকলে সেটি বহাল থাকতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে হোম অফিসকে তা বিবেচনা করতে হবে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ফ্রি মুভমেন্ট অক্টাভিয়ান নামের এক আবেদনকারীর উদাহরণ দিয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ২৯ জুন যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে তার অবিবাহিত সঙ্গীর ভিত্তিতে থাকার আবেদন করেন। ওই আবেদন নিষ্পত্তির আগেই তার সম্পর্ক ভেঙে যায়।

এরপর একটি অনুমোদিত স্পনসর প্রতিষ্ঠান তাকে চাকরির জন্য স্পনসর করতে রাজি হয় এবং প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ সনদ দেয়। পরে অক্টাভিয়ান তার আগের আবেদন পরিবর্তন করে দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য আবেদন করেন।

৫ আগস্ট তিনি নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ফি পরিশোধ, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং নতুন করে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করেন। ১৪ আগস্ট তার দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন অনুমোদিত হয়।

নতুন আবেদন অনুমোদিত হওয়ায় তার আগের আবেদনটি আর আলাদাভাবে নিষ্পত্তির জন্য বিবেচনায় থাকে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম আবেদনের জন্য দেওয়া ফি থেকে সামান্য প্রশাসনিক খরচ বাদ দিয়ে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা।

তবে নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আগের মানবাধিকার দাবির বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে। ৩৪বিবির ৭ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আগের আবেদনের সঙ্গে মানবাধিকার দাবি যুক্ত থাকলে এবং সেটি পরিবর্তনের পর নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আগের দাবি বহাল থাকতে পারে।

এ অবস্থায় পরবর্তী সময়ে হোম অফিসকে ওই মানবাধিকার দাবি বিবেচনা করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগের নজির খুব বেশি নেই বলে প্রতিবেদনের লেখক অ্যালেক্স পিলেটস্কা জানিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন থেকে দক্ষ কর্মী বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন রুটে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সাধারণত তখনই নেওয়া হয়, যখন নতুন আবেদন অনুমোদনের বিষয়ে আবেদনকারীর যথেষ্ট আস্থা থাকে। ফলে নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আগের মানবাধিকার দাবি আলাদাভাবে বিবেচনার প্রয়োজন খুব কম দেখা যায়।

পিলেটস্কা জানিয়েছেন, তার প্রায় এক দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতায় এমন কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি।

সংশোধিত নির্দেশনার ফলে আবেদনকারীদের জন্য বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অন্য ইমিগ্রেশন রুটে আবেদন পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন রুটে পরিবর্তন করা যাবে এবং নতুন আবেদনের যোগ্যতা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।

❤️
👏
🙂
😞

আবেদন চলাকালেই বদলানো যাবে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন রুট, মানবাধিকার দাবিতেও স্পষ্ট করল হোম অফিস

প্রকাশঃ ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১০

লন্ডন, ২১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে আবেদনকারী সেটি অন্য ইমিগ্রেশন রুটের আবেদনে পরিবর্তন করতে পারবেন। সংশোধিত নির্দেশনায় মানবাধিকারভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রেও এ সুযোগের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে হোম অফিস।

ইমিগ্রেশনবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্রি মুভমেন্টের ২০ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন বিধিমালার ৩৪বিবি অনুচ্ছেদে আগে থেকেই আবেদন পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। তবে হোম অফিসের আগের নির্দেশনায় মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন পরিবর্তন করা যায় না, এমন বক্তব্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।

সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বা অবস্থানের অনুমতির কোনো আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আবেদনকারী নতুন কোনো আবেদন করলে সেটি আগের আবেদনের পরিবর্তিত আবেদন হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর হোম অফিস সর্বশেষ আবেদনটি নিষ্পত্তি করবে।

তবে আগের আবেদনের সঙ্গে মানবাধিকার দাবি যুক্ত থাকলে নতুন আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে সেই দাবি বাতিল হয়ে যাবে না। নতুন আবেদন অনুমোদিত হলে আগের আবেদনের অনিষ্পন্ন মানবাধিকার দাবি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। আর নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আগের মানবাধিকার দাবি নিষ্পত্তি না হয়ে থাকলে সেটি বহাল থাকতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে হোম অফিসকে তা বিবেচনা করতে হবে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ফ্রি মুভমেন্ট অক্টাভিয়ান নামের এক আবেদনকারীর উদাহরণ দিয়েছে। তিনি ২০২৬ সালের ২৯ জুন যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে তার অবিবাহিত সঙ্গীর ভিত্তিতে থাকার আবেদন করেন। ওই আবেদন নিষ্পত্তির আগেই তার সম্পর্ক ভেঙে যায়।

এরপর একটি অনুমোদিত স্পনসর প্রতিষ্ঠান তাকে চাকরির জন্য স্পনসর করতে রাজি হয় এবং প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ সনদ দেয়। পরে অক্টাভিয়ান তার আগের আবেদন পরিবর্তন করে দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য আবেদন করেন।

৫ আগস্ট তিনি নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ফি পরিশোধ, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং নতুন করে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করেন। ১৪ আগস্ট তার দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন অনুমোদিত হয়।

নতুন আবেদন অনুমোদিত হওয়ায় তার আগের আবেদনটি আর আলাদাভাবে নিষ্পত্তির জন্য বিবেচনায় থাকে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম আবেদনের জন্য দেওয়া ফি থেকে সামান্য প্রশাসনিক খরচ বাদ দিয়ে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা।

তবে নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আগের মানবাধিকার দাবির বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে। ৩৪বিবির ৭ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আগের আবেদনের সঙ্গে মানবাধিকার দাবি যুক্ত থাকলে এবং সেটি পরিবর্তনের পর নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আগের দাবি বহাল থাকতে পারে।

এ অবস্থায় পরবর্তী সময়ে হোম অফিসকে ওই মানবাধিকার দাবি বিবেচনা করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগের নজির খুব বেশি নেই বলে প্রতিবেদনের লেখক অ্যালেক্স পিলেটস্কা জানিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবাধিকারভিত্তিক আবেদন থেকে দক্ষ কর্মী বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন রুটে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সাধারণত তখনই নেওয়া হয়, যখন নতুন আবেদন অনুমোদনের বিষয়ে আবেদনকারীর যথেষ্ট আস্থা থাকে। ফলে নতুন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আগের মানবাধিকার দাবি আলাদাভাবে বিবেচনার প্রয়োজন খুব কম দেখা যায়।

পিলেটস্কা জানিয়েছেন, তার প্রায় এক দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতায় এমন কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি।

সংশোধিত নির্দেশনার ফলে আবেদনকারীদের জন্য বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অন্য ইমিগ্রেশন রুটে আবেদন পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন রুটে পরিবর্তন করা যাবে এবং নতুন আবেদনের যোগ্যতা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন বিধিমালা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।