মূল্যস্ফীতির চাপে যুক্তরাষ্ট্রে বদলেছে কেনাকাটার ধরন, সাশ্রয়ে মধ্যবিত্ত-নিম্ন আয়ের মানুষ
- প্রকাশঃ ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:৪৪
- / 5
ওয়াশিংটন, ২১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা বাড়তি খরচ কমিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বাজেটের চাপের মধ্যেও সাশ্রয়ী খাবার, পোশাক, কফি কিংবা মাঝেমধ্যে পছন্দের কিছু পণ্যে খরচ করছেন তারা। অন্যদিকে, উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা এখনো তুলনামূলক শক্তিশালী।
গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেট, গৃহনির্মাণ ও মেরামতের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে ভোক্তাদের এই পরিবর্তিত আচরণের চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের কেনাকাটা ও ব্যয়বহুল প্রকল্প পিছিয়ে দিচ্ছেন অনেক ক্রেতা। তবে তুলনামূলক কম দামের পণ্য বা নিজেদের পছন্দের কোনো একটি পণ্যে খরচ করতে তারা এখনো আগ্রহী।
বাজার কৌশলবিদ লালে আকোনার বলেন, সামগ্রিক ভোক্তা ব্যয় ধসে পড়েনি। তবে পরিবারগুলো তাদের অর্থ কোথায় খরচ করবে, সে বিষয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি হিসাবি হয়ে উঠেছে। উচ্চ আয়ের ক্রেতারা রালফ লরেনের পোশাক কিংবা উচ্চমূল্যের প্রসাধনী কিনছেন। অন্যদিকে কম আয়ের ক্রেতারা টাকো বেলের সাশ্রয়ী খাবার ও রস স্টোরসের কম দামের পোশাকের মতো বিকল্প বেছে নিচ্ছেন।
জ্বালানির দাম বেশি থাকায় বছরের শেষের ছুটির মৌসুমের কেনাকাটাতেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে খুচরা বিক্রেতারা ছাড়, নতুন পণ্য এবং তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ব্র্যান্ড একসঙ্গে বাজারে রাখার ওপর নির্ভর করতে পারেন।
ওয়ালমার্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি বৃহস্পতিবার বলেন, জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের ওপরে গেলে মানুষের মধ্যে এর মানসিক প্রভাব পড়ে এবং তারা বিভিন্ন খরচের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে শুরু করেন। কোম্পানিটি ১১ হাজার পণ্যের দাম কমানোর পরও গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতির একই দোকানে বিক্রয় প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে।
রেস্তোরাঁ খাতেও ক্রেতাদের এই সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। ম্যাকডোনাল্ডসের কম দামের খাবারের প্রচার চলতি প্রান্তিকে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। বিপরীতে, টাকো বেল, কেএফসি ও পিজা হাটের মতো প্রতিষ্ঠানে নতুন ধরনের খাবারের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি ছিল। ওয়ালমার্ট, টিজে ম্যাক্সের মালিক প্রতিষ্ঠান টিজেএক্স এবং হোম ডিপো চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, ক্রেতারা এখনো পণ্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয়ও টানা নয় মাসের মধ্যে প্রথমবার কমেছে।
মি. চেকআউট ডিস্ট্রিবিউটরসের প্রেসিডেন্ট জোয়েল গোল্ডস্টেইন বলেন, নাস্তা ও তাৎক্ষণিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের এই বাছাই স্পষ্ট। তারা যে একটি পণ্য কিনতে এসেছেন, সেটির জন্য বেশি দাম দিতেও রাজি থাকছেন, তবে দ্বিতীয় পণ্যটি কেনা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
তবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিলাসপণ্যের বাজারে চাহিদা ভালো রয়েছে। ট্যাপেস্ট্রি, এস্টি লডার ও বিরকেনস্টকের মতো প্রতিষ্ঠান পোশাক, ব্যাগ ও সুগন্ধির মতো ১০০ ডলারের বেশি দামের পণ্যে শক্তিশালী চাহিদার কথা জানিয়েছে। স্টারবাকসও তুলনামূলক বেশি দামের কফির বিক্রি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। উন্নত সেবা এবং দোকানের পরিবেশে পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারা এসব পণ্যের দিকে ফিরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা এখন একই সঙ্গে কম দাম এবং উচ্চমূল্যের পণ্য রাখার কৌশল নিচ্ছে। টার্গেট তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি বুগাবুর মতো উচ্চমূল্যের শিশুপণ্যও রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি স্কুলে ফেরার মৌসুমের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের দাম গত বছরের সমান বা তার চেয়ে কম রেখেছে।
টার্গেট ও ওয়ালমার্ট শুল্ক ফেরত বাবদ পাওয়া অর্থের একটি অংশ পণ্যের দাম কমাতে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে গত এক বছরে দাম বেড়ে যাওয়া গরুর মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও রয়েছে। আইজি গ্রুপের প্রধান কারিগরি বিশ্লেষক অ্যাক্সেল রুডলফ বলেন, যেসব পরিবারের বাজেট বেশি চাপে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দাম কমানোও সীমিত সময় পর্যন্ত কাজে আসে। কারণ, পরিবারের হাতে খরচ করার মতো অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণই ক্রমে কমে যাচ্ছে।
ওয়ালমার্ট তাদের বার্ষিক পূর্বাভাস বাড়ালেও জানিয়েছে, স্কুলে ফেরার মৌসুমের কেনাকাটা ভালোভাবে শুরু হয়েছে। এতে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ব্র্যান্ড ও দামি পণ্যের উপস্থিতি বিভিন্ন ধরনের ক্রেতাকে আকৃষ্ট করছে। ক্রেতাদের সতর্কতার আরেকটি স্পষ্ট দিক দেখা গেছে ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের কেনাকাটার ঝুড়িতে। মানুষ দোকানে আসা অব্যাহত রাখলেও প্রতিবারের কেনাকাটায় আগের তুলনায় কম অর্থ খরচ করছেন।
বাড়ির সংস্কার ও উন্নয়ন খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। হোম ডিপো ও লো’স রক্ষণাবেক্ষণ এবং মৌসুমি কাজের চাহিদা থেকে সুবিধা পেলেও ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে বড় ধরনের সংস্কারকাজ পিছিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতারা। এসব কাজের জন্য সাধারণত ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
অ্যানেক্স ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনৈতিক কৌশলবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন বলেন, বড় উদ্বেগের বিষয় হবে যদি দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতিও কমে যায়। উচ্চ সুদহার ও জ্বালানির দামের কারণে পরিবারের বাজেটে কিছুটা স্বস্তি না এলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।





























