ঢাকা ০৫:১৯ , Fri, ২১ Aug ২০২৬

১২ আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র, যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন জাবিপ্রবির অপূর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২১
  • / 6
ছবি: সংগৃহীত

২১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – গবেষণায় ১২টি আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশনা ও স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট টাইলার (ইউটি টাইলার)-এ ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স স্কলারশিপ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী আই কে গুজরাল ঘোষ অপূর্ব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বর্তমানে ইউটি টাইলারে মাস্টার অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন অপূর্ব। একই সঙ্গে তিনি গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (জিআরএ) হিসেবে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে এনার্জি হার্ভেস্টিং, সেন্সিং, পাইজোইলেকট্রিসিটি, ট্রাইবোইলেকট্রিসিটি এবং পেরোভস্কাইট ম্যাটেরিয়াল।

স্নাতক পর্যায়ে ৩.৮৫ সিজিপিএ অর্জন করে নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন অপূর্ব। এ সময় থেকেই গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। এখন পর্যন্ত তাঁর ১২টি আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশনা রয়েছে, যার মধ্যে একাধিক কিউ১ জার্নালেও তাঁর গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

পেরোভস্কাইট ম্যাটেরিয়ালস, অপটোইলেকট্রনিকস, কম্পিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এবং ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (ডিএফটি)ভিত্তিক গবেষণায় কাজ করেছেন অপূর্ব। বর্তমানে স্বনির্ভর ডিভাইস, এনার্জি হার্ভেস্টিং এবং উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী তিনি।

স্কলারশিপ অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় অপূর্ব বলেন, ‘এটি আমার জন্য আনন্দ, গর্ব এবং দায়িত্বের বিষয়। এ অর্জন শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়; বরং দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি।’

স্নাতক পর্যায়ে অপূর্বর গবেষণার অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন জাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক ও সুপারভাইজার হিসেবে এটি আমার জন্য সত্যিই গর্বের মুহূর্ত।’ তিনি জানান, জাবিপ্রবিতে তাঁর প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একজন অপূর্বর ইউটি টাইলারে ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স স্কলারশিপ অর্জন তার জন্য আনন্দের।

ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সিজার রহমান বলেন, অপূর্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, জাবিপ্রবি থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে অপূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদুল ইসলাম স্কলারশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় অপূর্বকে সহযোগিতা করেছেন এবং অপূর্ব বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পেও তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন।

জুনিয়র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অপূর্ব গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি স্নাতক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভালো সিজিপিএর পাশাপাশি গবেষণা, প্রোগ্রামিং, সিমুলেশন ও ডেটা অ্যানালাইসিসের দক্ষতা অর্জন এবং অভিজ্ঞ মেন্টরের দিকনির্দেশনা উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

অপূর্বর ভাষায়, ‘স্বপ্ন বড় রাখুন, কিন্তু সেই স্বপ্নের জন্য প্রতিদিন কাজ করুন।’

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
❤️
👏
🙂
😞

১২ আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র, যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেলেন জাবিপ্রবির অপূর্ব

প্রকাশঃ ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২১

২১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – গবেষণায় ১২টি আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশনা ও স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট টাইলার (ইউটি টাইলার)-এ ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স স্কলারশিপ পেয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী আই কে গুজরাল ঘোষ অপূর্ব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বর্তমানে ইউটি টাইলারে মাস্টার অব সায়েন্স ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন অপূর্ব। একই সঙ্গে তিনি গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (জিআরএ) হিসেবে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে এনার্জি হার্ভেস্টিং, সেন্সিং, পাইজোইলেকট্রিসিটি, ট্রাইবোইলেকট্রিসিটি এবং পেরোভস্কাইট ম্যাটেরিয়াল।

স্নাতক পর্যায়ে ৩.৮৫ সিজিপিএ অর্জন করে নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন অপূর্ব। এ সময় থেকেই গবেষণায় যুক্ত হন তিনি। এখন পর্যন্ত তাঁর ১২টি আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশনা রয়েছে, যার মধ্যে একাধিক কিউ১ জার্নালেও তাঁর গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

পেরোভস্কাইট ম্যাটেরিয়ালস, অপটোইলেকট্রনিকস, কম্পিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এবং ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (ডিএফটি)ভিত্তিক গবেষণায় কাজ করেছেন অপূর্ব। বর্তমানে স্বনির্ভর ডিভাইস, এনার্জি হার্ভেস্টিং এবং উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী তিনি।

স্কলারশিপ অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় অপূর্ব বলেন, ‘এটি আমার জন্য আনন্দ, গর্ব এবং দায়িত্বের বিষয়। এ অর্জন শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়; বরং দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি।’

স্নাতক পর্যায়ে অপূর্বর গবেষণার অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন জাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক ও সুপারভাইজার হিসেবে এটি আমার জন্য সত্যিই গর্বের মুহূর্ত।’ তিনি জানান, জাবিপ্রবিতে তাঁর প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একজন অপূর্বর ইউটি টাইলারে ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স স্কলারশিপ অর্জন তার জন্য আনন্দের।

ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সিজার রহমান বলেন, অপূর্ব বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, জাবিপ্রবি থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে অপূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদুল ইসলাম স্কলারশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় অপূর্বকে সহযোগিতা করেছেন এবং অপূর্ব বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পেও তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন।

জুনিয়র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অপূর্ব গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি স্নাতক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভালো সিজিপিএর পাশাপাশি গবেষণা, প্রোগ্রামিং, সিমুলেশন ও ডেটা অ্যানালাইসিসের দক্ষতা অর্জন এবং অভিজ্ঞ মেন্টরের দিকনির্দেশনা উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

অপূর্বর ভাষায়, ‘স্বপ্ন বড় রাখুন, কিন্তু সেই স্বপ্নের জন্য প্রতিদিন কাজ করুন।’