ঢাকা ০৬:২৮ , Sat, ২৯ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
ভারত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ লাইনে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়, অপেক্ষা হতে পারে ১৭৯ বছর পর্যন্ত

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৭:৫২
  • / 4
কর্মসংস্থান-ভিত্তিক আবেদনের জট বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য ভারতীয় পেশাজীবীদের ১৭৯ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে ছবি: রয়টার্স

ওয়াশিংটন, ২৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে আবেদন করা কোনো ভারতীয় পেশাজীবীর সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় ১৭৯ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় ৩৮ বছর পর্যন্ত।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ কর্মভিত্তিক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে মোট আনুমানিক ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৫ জন গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের প্রায় ৭৯ শতাংশই ভারতীয় নাগরিক।

এর মধ্যে কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে অপেক্ষমাণ ভারতীয়ের সংখ্যা আনুমানিক ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৬৬। এই শ্রেণিতে সাধারণত উচ্চতর ডিগ্রিধারী বা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা আবেদন করেন। তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে ভারতীয় অপেক্ষমাণ আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১৪। এই শ্রেণিতে পেশাজীবী, দক্ষ কর্মী ও অন্যান্য কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণিতে ভারতীয় আবেদনকারীর সংখ্যা আনুমানিক ৫১ হাজার ৬১৯।

কেন এত দীর্ঘ অপেক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রতি বছর ১ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী ভিসার সীমা রয়েছে। ১৯৯০ সালে কংগ্রেস এই সীমা নির্ধারণ করে। এই সংখ্যার মধ্যেই মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য দেওয়া ভিসা গণনা করা হয়।

এর সঙ্গে রয়েছে দেশভিত্তিক ৭ শতাংশ সীমা। অর্থাৎ কোনো একটি দেশের নাগরিকেরা কর্মভিত্তিক অভিবাসন ভিসার মোট সংখ্যার নির্ধারিত অংশের বেশি পেতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য বিপুলসংখ্যক ভারতীয় দক্ষ পেশাজীবী আবেদন করায় এই সীমা তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ইস্যু করলেও এতে জমে থাকা আবেদন পুরোপুরি কমেনি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার ৪৬০টি কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক পাঁচ বছরের বরাদ্দের তুলনায় এটি প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার বেশি। এরপরও দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি।

গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক ভারতীয় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ এইচ-১বি ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করছেন। গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পর তাঁদের অগ্রাধিকার তারিখ বর্তমান হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডের মূল অপেক্ষার আগেই শ্রম অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় চলে যায়। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির উদ্ধৃত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে শ্রম অনুমোদনের আবেদন পর্যালোচনায় গড়ে ৪০৩ দিন এবং নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৯০ দিন সময় লাগছিল।

১৭৯ বছর কি নিশ্চিত অপেক্ষার সময়?

১৭৯ বছর বা ৩৮ বছরের হিসাবকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিশ্চিত অপেক্ষার সময় হিসেবে দেখছে না ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি। ভিসার প্রাপ্যতা, অপেক্ষমাণ আবেদনকারীর সংখ্যা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে পরিবর্তনের ওপর ভবিষ্যতের অপেক্ষার সময় নির্ভর করবে। এসব কারণে সময়সীমা কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক স্টুয়ার্ট অ্যান্ডারসন বলেছেন, দীর্ঘ অপেক্ষা আবেদনকারী ও তাঁদের পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের ধরে রাখার ক্ষেত্রেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যার মুখে পড়ছে।

বর্তমান অভিবাসন আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে ২০৪০ সালের মধ্যে কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ লাইনে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়, অপেক্ষা হতে পারে ১৭৯ বছর পর্যন্ত

প্রকাশঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৭:৫২

ওয়াশিংটন, ২৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে আবেদন করা কোনো ভারতীয় পেশাজীবীর সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় ১৭৯ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় ৩৮ বছর পর্যন্ত।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ কর্মভিত্তিক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে মোট আনুমানিক ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৫ জন গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের প্রায় ৭৯ শতাংশই ভারতীয় নাগরিক।

এর মধ্যে কর্মভিত্তিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে অপেক্ষমাণ ভারতীয়ের সংখ্যা আনুমানিক ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৬৬। এই শ্রেণিতে সাধারণত উচ্চতর ডিগ্রিধারী বা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা আবেদন করেন। তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণিতে ভারতীয় অপেক্ষমাণ আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১৪। এই শ্রেণিতে পেশাজীবী, দক্ষ কর্মী ও অন্যান্য কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণিতে ভারতীয় আবেদনকারীর সংখ্যা আনুমানিক ৫১ হাজার ৬১৯।

কেন এত দীর্ঘ অপেক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রতি বছর ১ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী ভিসার সীমা রয়েছে। ১৯৯০ সালে কংগ্রেস এই সীমা নির্ধারণ করে। এই সংখ্যার মধ্যেই মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য দেওয়া ভিসা গণনা করা হয়।

এর সঙ্গে রয়েছে দেশভিত্তিক ৭ শতাংশ সীমা। অর্থাৎ কোনো একটি দেশের নাগরিকেরা কর্মভিত্তিক অভিবাসন ভিসার মোট সংখ্যার নির্ধারিত অংশের বেশি পেতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য বিপুলসংখ্যক ভারতীয় দক্ষ পেশাজীবী আবেদন করায় এই সীমা তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ইস্যু করলেও এতে জমে থাকা আবেদন পুরোপুরি কমেনি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার ৪৬০টি কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক পাঁচ বছরের বরাদ্দের তুলনায় এটি প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার বেশি। এরপরও দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি।

গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক ভারতীয় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ এইচ-১বি ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করছেন। গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পর তাঁদের অগ্রাধিকার তারিখ বর্তমান হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

অনেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডের মূল অপেক্ষার আগেই শ্রম অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় চলে যায়। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির উদ্ধৃত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে শ্রম অনুমোদনের আবেদন পর্যালোচনায় গড়ে ৪০৩ দিন এবং নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৯০ দিন সময় লাগছিল।

১৭৯ বছর কি নিশ্চিত অপেক্ষার সময়?

১৭৯ বছর বা ৩৮ বছরের হিসাবকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিশ্চিত অপেক্ষার সময় হিসেবে দেখছে না ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি। ভিসার প্রাপ্যতা, অপেক্ষমাণ আবেদনকারীর সংখ্যা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে পরিবর্তনের ওপর ভবিষ্যতের অপেক্ষার সময় নির্ভর করবে। এসব কারণে সময়সীমা কমতেও পারে, আবার বাড়তেও পারে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক স্টুয়ার্ট অ্যান্ডারসন বলেছেন, দীর্ঘ অপেক্ষা আবেদনকারী ও তাঁদের পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের ধরে রাখার ক্ষেত্রেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যার মুখে পড়ছে।

বর্তমান অভিবাসন আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে ২০৪০ সালের মধ্যে কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।