মার্কিন সিনেটের লড়াইয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী কারিশমা মানজুর
- প্রকাশঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৬
- / 3
নিউ হ্যাম্পশায়ার, ২৯ আগস্ট (প্রজন্ম কথা) – গবেষণাগারের দীর্ঘ ক্যারিয়ার পেরিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. কারিশমা মানজুর। মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তম ও সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল মুহম্মদ আবুল মঞ্জুরের মেয়ে কারিশমা নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন চাইছেন।
দুই দশকের বেশি সময় চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি নাগরিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন তিনি। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন ও শিশুযত্ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নির্বাচনী অর্থব্যবস্থার সংস্কারকে প্রচারের প্রধান বিষয় করেছেন কারিশমা।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার প্রথম বড় পরীক্ষা হবে। এক্সেটারে বসবাসকারী কারিশমা পররাষ্ট্রনীতিতেও যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতি ও শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তাঁর প্রচারাভিযানের দাবি, কারিশমা করপোরেট রাজনৈতিক তহবিল থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করেন না। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁর নির্বাচনী প্রচারে দুই লাখ ছয় হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত অনুদান এক লাখ ৮১ হাজার ডলারের বেশি এবং নিজের দেওয়া ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ডলার।
কারিশমা বায়োকেমিস্ট্রি ও আণবিক জীববিজ্ঞানে পিএইচডিধারী। চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় তাঁর রয়েছে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা। মৃগীরোগ, বিষণ্নতা এবং বিভিন্ন স্নায়বিক ও মানসিক রোগ নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর প্রচারাভিযানের দাবি, নির্বাচিত হলে বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে পিএইচডিধারী প্রথম নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন কারিশমা।
গবেষণার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কার, শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও শান্তির পক্ষে বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। নিউ হ্যাম্পশায়ারে পছন্দক্রমভিত্তিক ভোটব্যবস্থা এবং উন্মুক্ত গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করা দুটি সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করেছেন কারিশমা।
গাজায় যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিতেও তিনি কাজ করেছেন। এখন নিজ অঙ্গরাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে সিনেটের আসনে লড়াইয়ের মাধ্যমে গবেষণাক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় রাজনীতিতে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী।




























